০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনেতাকে নিয়ে অপপ্রচারের দায়ে ইউটিউবার গ্রেফতার

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • 8

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য তৈরি করে অভিনেতার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের দাবি, জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল হোভার ল্যাবের পরিচালনাকারী কিম সে-উই এমন কিছু ভুয়া প্রমাণ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় অভিনেতা কিম সু-হিউন এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন অভিনেতা।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মঙ্গলবার ইউটিউবারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানায়, প্রমাণ নষ্ট করা বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার কিম সু-হিউনের এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তারা দাবি করে, হোভার ল্যাব যেসব অভিযোগ ও তথাকথিত প্রমাণ সামনে এনেছিল, তদন্তে সেগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিনেতার পাশে থাকা সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউটিউবার কিম সে-উই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানায় মৌলিক তথ্যও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানান।

এই বিতর্ক শুরু হয় অভিনেত্রী কিম সেই রনের মৃত্যুর পর। ২৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর হোভার ল্যাব একটি অডিও প্রকাশ করে, যেখানে অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায় যে তিনি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই কিম সু-হিউনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে, ওই ভয়েস রেকর্ডিং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া অভিনেত্রীর ফোনের মেসেজের স্ক্রিনশটও বিকৃত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিতর্কিত চ্যানেল হিসেবে পরিচিত হোভার ল্যাব প্রায়ই রাজনীতি ও বিনোদন জগতের নানা গসিপ ও মন্তব্য প্রকাশ করে থাকে।

এই অভিযোগ সামনে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনপ্রিয় টিভি নাটকের তারকা কিম সু-হিউন দেশজুড়ে বহু বিজ্ঞাপনেও কাজ করতেন। পুলিশ বলছে, এই অভিযোগ তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তিনি এখনও মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে কিম সু-হিউন স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিম সে-রনের সঙ্গে এক বছর সম্পর্কে ছিলেন, তবে তখন অভিনেত্রী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি এমন কিছু স্বীকার করতে পারি না, যা আমি করিনি।

পরে তিনি ইউটিউবার ও অভিনেত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার দায়ে মামলা ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা

অভিনেতাকে নিয়ে অপপ্রচারের দায়ে ইউটিউবার গ্রেফতার

আপডেট সময়ঃ ১২:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য তৈরি করে অভিনেতার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের দাবি, জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল হোভার ল্যাবের পরিচালনাকারী কিম সে-উই এমন কিছু ভুয়া প্রমাণ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় অভিনেতা কিম সু-হিউন এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন অভিনেতা।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট মঙ্গলবার ইউটিউবারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানায়, প্রমাণ নষ্ট করা বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার কিম সু-হিউনের এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তারা দাবি করে, হোভার ল্যাব যেসব অভিযোগ ও তথাকথিত প্রমাণ সামনে এনেছিল, তদন্তে সেগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিনেতার পাশে থাকা সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউটিউবার কিম সে-উই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানায় মৌলিক তথ্যও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানান।

এই বিতর্ক শুরু হয় অভিনেত্রী কিম সেই রনের মৃত্যুর পর। ২৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর কয়েক মাস পর হোভার ল্যাব একটি অডিও প্রকাশ করে, যেখানে অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায় যে তিনি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই কিম সু-হিউনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে, ওই ভয়েস রেকর্ডিং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া অভিনেত্রীর ফোনের মেসেজের স্ক্রিনশটও বিকৃত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিতর্কিত চ্যানেল হিসেবে পরিচিত হোভার ল্যাব প্রায়ই রাজনীতি ও বিনোদন জগতের নানা গসিপ ও মন্তব্য প্রকাশ করে থাকে।

এই অভিযোগ সামনে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনপ্রিয় টিভি নাটকের তারকা কিম সু-হিউন দেশজুড়ে বহু বিজ্ঞাপনেও কাজ করতেন। পুলিশ বলছে, এই অভিযোগ তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তিনি এখনও মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে কিম সু-হিউন স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিম সে-রনের সঙ্গে এক বছর সম্পর্কে ছিলেন, তবে তখন অভিনেত্রী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমি এমন কিছু স্বীকার করতে পারি না, যা আমি করিনি।

পরে তিনি ইউটিউবার ও অভিনেত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার দায়ে মামলা ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।