০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

ধূমপান করা যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, একথা সবাই জানেন। এমনকি যারা রোজ ধূমপান করেন, তারাও জানেন। তবে রমজান মাসে সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই যারা ছুটে যান ধূমপান করতে, তাদের জন্য বিপদের মাত্রাটা সাধারণ দিনের মতো না।

রোজার থেকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করা কমে যায়, শরীর পানিশূন্যতার দিকে যায়, কোষগুলো অপেক্ষা করে পুষ্টি ও অক্সিজেনের জন্য। ঠিক এই সময়েই যদি কেউ সিগারেট ধরান, তাহলে শরীর একসঙ্গে দুই বিপরীত সংকেত পায় – একদিকে পুষ্টির চাহিদা, অন্যদিকে বিষাক্ত ধোঁয়ার আক্রমণ। আর এই পরিস্থিতিই তৈরি করে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইফতারের পর ধূমপান স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ধাক্কা তৈরি করতে পারে –

১. হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হুট করে নিকোটিন গ্রহণে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা জানিয়েছে, ধূমপান হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। আর আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, নিকোটিন তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় – যা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।

২. অক্সিজেনের ঘাটতি

ইফতারের পর শরীরের কোষগুলোতে প্রচুর অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ধূমপানের ফলে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে আরও দুর্বল করে ফেলে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, কার্বন মনোক্সাইড শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. পাকস্থলীর সমস্যা

খালি পেটে নিকোটিন ও টার পাকস্থলীর আস্তরণকে উত্তেজিত করে। এতে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে অম্বল, গ্যাস্ট্রাইটিস বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর প্রথমেই ধূমপান করা পরিপাকতন্ত্রের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

৪. মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব

সারাদিন নিকোটিনবিহীন থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে শরীরে দ্রুত নিকোটিন প্রবেশ করে। এতে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। নিয়মিত ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটিকে নিকোটিন রাশ বা আকস্মিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ইস্তানবুল ব্রেন হসপিটাল জানিয়েছে, টানা অনেক ঘণ্টা নিকোটিন ছাড়া থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে মস্তিষ্কে এক ধরনের বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা বা চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

ইফতার শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ধূমপান শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই রমজানকে ধূমপান ছাড়ার সূচনা হিসেবে নিলে লাভ শুধু আধ্যাত্মিক নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যগত উপকারও পাবেন।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ইস্তানবুল ব্রেন হসপিটাল

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ধূমপান করা যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, একথা সবাই জানেন। এমনকি যারা রোজ ধূমপান করেন, তারাও জানেন। তবে রমজান মাসে সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই যারা ছুটে যান ধূমপান করতে, তাদের জন্য বিপদের মাত্রাটা সাধারণ দিনের মতো না।

রোজার থেকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করা কমে যায়, শরীর পানিশূন্যতার দিকে যায়, কোষগুলো অপেক্ষা করে পুষ্টি ও অক্সিজেনের জন্য। ঠিক এই সময়েই যদি কেউ সিগারেট ধরান, তাহলে শরীর একসঙ্গে দুই বিপরীত সংকেত পায় – একদিকে পুষ্টির চাহিদা, অন্যদিকে বিষাক্ত ধোঁয়ার আক্রমণ। আর এই পরিস্থিতিই তৈরি করে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইফতারের পর ধূমপান স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ধাক্কা তৈরি করতে পারে –

১. হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হুট করে নিকোটিন গ্রহণে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা জানিয়েছে, ধূমপান হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। আর আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, নিকোটিন তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় – যা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে।

২. অক্সিজেনের ঘাটতি

ইফতারের পর শরীরের কোষগুলোতে প্রচুর অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ধূমপানের ফলে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা শরীরকে আরও দুর্বল করে ফেলে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, কার্বন মনোক্সাইড শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. পাকস্থলীর সমস্যা

খালি পেটে নিকোটিন ও টার পাকস্থলীর আস্তরণকে উত্তেজিত করে। এতে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে অম্বল, গ্যাস্ট্রাইটিস বা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর প্রথমেই ধূমপান করা পরিপাকতন্ত্রের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ইফতারের পরপরই ধূমপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়

৪. মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব

সারাদিন নিকোটিনবিহীন থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে শরীরে দ্রুত নিকোটিন প্রবেশ করে। এতে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। নিয়মিত ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটিকে নিকোটিন রাশ বা আকস্মিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ইস্তানবুল ব্রেন হসপিটাল জানিয়েছে, টানা অনেক ঘণ্টা নিকোটিন ছাড়া থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে মস্তিষ্কে এক ধরনের বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা বা চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

ইফতার শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ধূমপান শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই রমজানকে ধূমপান ছাড়ার সূচনা হিসেবে নিলে লাভ শুধু আধ্যাত্মিক নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যগত উপকারও পাবেন।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ইস্তানবুল ব্রেন হসপিটাল

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।