০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানালো না কেউ, দিনভর ফাঁকা শহীদ মিনার

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 3

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে সারাদেশে শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল, দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবকে ঢেকে যায় সকল শহীদ মিনারের বেদি। কিন্তু জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে পড়েনি একটিও পুষ্পস্তবক। শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ। মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকে সারাদিন রিক্ত পড়ে ছিল শহীদ মিনারটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনার চত্বর ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোনো পুষ্পস্তবক, নেই কোনো ব্যানার বা শ্রদ্ধার বার্তা। সীমানা প্রাচীরের ওপরে কাপড় শুকাতে দিয়েছেন স্থানীয়রা। মিনারের পাশে বাঁশে দড়ি বেঁধেও শুকানো হচ্ছে কাপড়। কাপড় শুকানোর কাজে বাদ পড়েনি শহীদ মিনার ঘিরে রাখা দেওয়ালও। প্রবেশ দ্বারে দেখা গেছে শুকাতে দেওয়া গোবর (ঘুঁটে)। অপরিচ্ছন্ন ভেতরের প্রাঙ্গণ, বিবর্ণ দেওয়ালের রং।

জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে রেল লাইনের পূর্ব পাশে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু। একই বছরের ১ জুলাই এটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নির্মিত এই স্থাপনাটি প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও এবার ছিল সম্পূর্ণ নীরব।

রেহেনা বেগম নামের স্থানীয় এক মহিলা বলেন, সারা বছর অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে এই শহীদ মিনারটি। পাশের বস্তির লোকজনেরা নিয়মিত এখানে কাপড়, গোবর (ঘুঁটে) শুকায়। প্রাচীরের অধিকাংশ ভেঙে গেছে। সন্ধ্যার পর মাদক আর জুয়ার আড্ডা চলে শহীদ মিনারের ভেতরে।

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানালো না কেউ, দিনভর ফাঁকা শহীদ মিনার

পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মাজেদ বলেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আক্কেলপুরের শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় শহীদ মিনারটিকে অবমানা করা হয়েছে।

শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলুর উদ্যোগে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা হয়। প্রতি বছর মাতৃভাষা ও জাতীয় দিবসগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছিলো। এবার উপজেলা প্রশাসন সবার সম্মতি নিয়ে সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু কোনো একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পূর্বে সভা আহ্বাবান করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা জানায়নি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

মাহফুজ রহমান/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানালো না কেউ, দিনভর ফাঁকা শহীদ মিনার

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে সারাদেশে শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল, দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবকে ঢেকে যায় সকল শহীদ মিনারের বেদি। কিন্তু জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে পড়েনি একটিও পুষ্পস্তবক। শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ। মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকে সারাদিন রিক্ত পড়ে ছিল শহীদ মিনারটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনার চত্বর ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোনো পুষ্পস্তবক, নেই কোনো ব্যানার বা শ্রদ্ধার বার্তা। সীমানা প্রাচীরের ওপরে কাপড় শুকাতে দিয়েছেন স্থানীয়রা। মিনারের পাশে বাঁশে দড়ি বেঁধেও শুকানো হচ্ছে কাপড়। কাপড় শুকানোর কাজে বাদ পড়েনি শহীদ মিনার ঘিরে রাখা দেওয়ালও। প্রবেশ দ্বারে দেখা গেছে শুকাতে দেওয়া গোবর (ঘুঁটে)। অপরিচ্ছন্ন ভেতরের প্রাঙ্গণ, বিবর্ণ দেওয়ালের রং।

জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে রেল লাইনের পূর্ব পাশে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু। একই বছরের ১ জুলাই এটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নির্মিত এই স্থাপনাটি প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও এবার ছিল সম্পূর্ণ নীরব।

রেহেনা বেগম নামের স্থানীয় এক মহিলা বলেন, সারা বছর অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে এই শহীদ মিনারটি। পাশের বস্তির লোকজনেরা নিয়মিত এখানে কাপড়, গোবর (ঘুঁটে) শুকায়। প্রাচীরের অধিকাংশ ভেঙে গেছে। সন্ধ্যার পর মাদক আর জুয়ার আড্ডা চলে শহীদ মিনারের ভেতরে।

একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানালো না কেউ, দিনভর ফাঁকা শহীদ মিনার

পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মাজেদ বলেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আক্কেলপুরের শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় শহীদ মিনারটিকে অবমানা করা হয়েছে।

শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলুর উদ্যোগে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা হয়। প্রতি বছর মাতৃভাষা ও জাতীয় দিবসগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছিলো। এবার উপজেলা প্রশাসন সবার সম্মতি নিয়ে সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু কোনো একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পূর্বে সভা আহ্বাবান করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা জানায়নি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

মাহফুজ রহমান/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।