০২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বিলুপ্ত না করার আহ্বান মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ দ্রুত সংসদে পাশ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে, যদি অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত হয়, তাহলে পুনর্জীবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার, যা ভবিষ্যতের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

তবে সরকার অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত করার এবং ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে আনার প্রস্তাব রাখায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি অধ্যাদেশ- ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং এর সংশোধনী, ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং এর সংশোধনী- মিলিতভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের ক্ষমতা পেয়েছে এবং কারাগার পর্যবেক্ষণের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়াও, কমিশনারদের অপসারণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং গুমকে দেশের আইনে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রতিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন নথিভুক্ত করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নিখোঁজ এবং নির্যাতনের ১৫৬৯টি অভিযোগ এসেছে এবং ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ। এই অধ্যাদেশগুলো এই ঘটনাগুলো তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে এবং কোনো সরকারি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনী তদন্তের জন্য অনুমতি চাওয়া বা কমিশনার নির্বাচনে সরকারী প্রতিনিধির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করবে।

সংস্থাগুলি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত না করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করা উচিত এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড অপসারণ করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো হলো আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট ও এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং ইউনাইটেড এগেইনস্ট টরচার কনসোর্টিয়াম (ইউএটিসি)। ইউএটিসি এর সদস্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টরচার, ইন্টারন্যাশনাল রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ফর টরচার ভিকটিমস, ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টরচার।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নতুন সরকার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে এবং এটি অধ্যাদেশগুলোকে দুর্বল না করে পাশ করার মাধ্যমে অতীত থেকে ভিন্নতা এবং মানবাধিকারসম্মত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে পারে।

জেপিআই/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বিলুপ্ত না করার আহ্বান মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বিলুপ্ত না করার আহ্বান মানবাধিকার সংগঠনগুলোর

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ দ্রুত সংসদে পাশ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে, যদি অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত হয়, তাহলে পুনর্জীবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার, যা ভবিষ্যতের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

তবে সরকার অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত করার এবং ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে আনার প্রস্তাব রাখায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি অধ্যাদেশ- ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং এর সংশোধনী, ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং এর সংশোধনী- মিলিতভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের ক্ষমতা পেয়েছে এবং কারাগার পর্যবেক্ষণের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়াও, কমিশনারদের অপসারণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং গুমকে দেশের আইনে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রতিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন নথিভুক্ত করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নিখোঁজ এবং নির্যাতনের ১৫৬৯টি অভিযোগ এসেছে এবং ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ। এই অধ্যাদেশগুলো এই ঘটনাগুলো তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে এবং কোনো সরকারি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনী তদন্তের জন্য অনুমতি চাওয়া বা কমিশনার নির্বাচনে সরকারী প্রতিনিধির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করবে।

সংস্থাগুলি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, অধ্যাদেশগুলোকে বিলুপ্ত না করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করা উচিত এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড অপসারণ করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলো হলো আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট ও এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং ইউনাইটেড এগেইনস্ট টরচার কনসোর্টিয়াম (ইউএটিসি)। ইউএটিসি এর সদস্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টরচার, ইন্টারন্যাশনাল রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ফর টরচার ভিকটিমস, ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টরচার।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নতুন সরকার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে এবং এটি অধ্যাদেশগুলোকে দুর্বল না করে পাশ করার মাধ্যমে অতীত থেকে ভিন্নতা এবং মানবাধিকারসম্মত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে পারে।

জেপিআই/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।