০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

রমজান মাস শুরু, স্কুলও বন্ধ। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য যেন একসঙ্গে ছুটি আর উৎসব। কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেই অনেক পরিবারের এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয় – স্ক্রিন টাইম নিয়ে টানাপোড়েন।

সকাল থেকে রাত – মোবাইল, ট্যাব, টিভি কিংবা গেমিং কনসোল। শহুরে জীবনে বাইরে খেলার জায়গা কম, রোজার ক্লান্তি আছে, তার ওপর ডিজিটাল বিনোদন হাতের মুঠোয়। ফলে অনেক অভিভাবক দ্বিধায় পড়েন – পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেবেন, নাকি কিছুটা ছাড় দেবেন?

স্ক্রিন কি পুরোপুরি খারাপ?

প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়। অনলাইন শিক্ষামূলক ভিডিও, ভার্চুয়াল ক্লাস, শিশুর উপযোগী বিনোদন কনটেন্ট – এসবের ইতিবাচক দিকও আছে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বলছে, বয়সভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে স্ক্রিন ব্যবহার করলে তা শেখার সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি ও আচরণগত পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

রোজায় কেন বাড়ে স্ক্রিন নির্ভরতা?

রোজার সময় দিনে শক্তি কম থাকে, বাইরে যাওয়া কম হয়। ইফতারের আগে সময় কাটানো কঠিন লাগে। তখন স্ক্রিনই সহজ সমাধান। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের জন্য দৈনিক সীমিত স্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণায় দেখা গেছে, ছুটির সময় শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাহলে এই রোজার ছুটিতে উপায় কী?

কড়া নিষেধাজ্ঞা কি সমাধান?

হঠাৎ করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া বা ওয়াই-ফাই বন্ধ করে দেওয়া সাময়িক সমাধান হতে পারে। কিন্তু এতে শিশুর মধ্যে প্রতিরোধ, রাগ বা গোপনে ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে ডিজিটাল ব্যালান্স শেখানো জরুরি। কারণ এই যুগে সন্তানকে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

তাহলে স্মার্ট নিয়ম কেমন হবে?

প্রথমত, সময় নির্ধারণ করুন। যেমন – ইফতারের পর এক ঘণ্টা নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখার অনুমতি।

দ্বিতীয়ত, কনটেন্ট বাছাই করুন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বা সৃজনশীল ভিডিও অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তৃতীয়ত, বিকল্প তৈরি করুন। পরিবারের সঙ্গে ইফতার প্রস্তুতি, গল্প বলা, বোর্ড গেম, ধর্মীয় আচার বা হালকা ব্যায়াম – এসব যুক্ত করলে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে।

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

এসবের পাশাপাশি আপনি চাইলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে কনটেন্টের ধরন ও সময় ডিভাইসেই সেট করে দিতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখুন, শিশুর যেন ডিভাইস ছাড়াও নিজেকে ব্যস্ত রাখার বিকল্প থাকে। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়ির ভেতরেই তার জন্য সময় কাটানোর শিক্ষামূলক ও মজাদার একাধিক ব্যবস্থা থাকা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো – অভিভাবকরাও যদি সারাক্ষণ মোবাইলে থাকেন, তাহলে শিশুদের কাছে নিয়ম কার্যকর হয় না। পরিবারে সবার জন্য একই নীতি থাকলে তা মানা সহজ হয়।

রমজান আত্মসংযমের মাস। এই সময়টিকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুদ্ধ না বানিয়ে, বরং সচেতন ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা যায়। কড়া নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার বোঝাপড়া ও পরিকল্পিত নিয়ম।

সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কমন সেন্স মিডিয়া, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে বিশাল জয়ে সুপার এইট শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাস শুরু, স্কুলও বন্ধ। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য যেন একসঙ্গে ছুটি আর উৎসব। কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেই অনেক পরিবারের এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয় – স্ক্রিন টাইম নিয়ে টানাপোড়েন।

সকাল থেকে রাত – মোবাইল, ট্যাব, টিভি কিংবা গেমিং কনসোল। শহুরে জীবনে বাইরে খেলার জায়গা কম, রোজার ক্লান্তি আছে, তার ওপর ডিজিটাল বিনোদন হাতের মুঠোয়। ফলে অনেক অভিভাবক দ্বিধায় পড়েন – পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেবেন, নাকি কিছুটা ছাড় দেবেন?

স্ক্রিন কি পুরোপুরি খারাপ?

প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়। অনলাইন শিক্ষামূলক ভিডিও, ভার্চুয়াল ক্লাস, শিশুর উপযোগী বিনোদন কনটেন্ট – এসবের ইতিবাচক দিকও আছে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বলছে, বয়সভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে স্ক্রিন ব্যবহার করলে তা শেখার সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি ও আচরণগত পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে।

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

রোজায় কেন বাড়ে স্ক্রিন নির্ভরতা?

রোজার সময় দিনে শক্তি কম থাকে, বাইরে যাওয়া কম হয়। ইফতারের আগে সময় কাটানো কঠিন লাগে। তখন স্ক্রিনই সহজ সমাধান। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের জন্য দৈনিক সীমিত স্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষণায় দেখা গেছে, ছুটির সময় শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাহলে এই রোজার ছুটিতে উপায় কী?

কড়া নিষেধাজ্ঞা কি সমাধান?

হঠাৎ করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া বা ওয়াই-ফাই বন্ধ করে দেওয়া সাময়িক সমাধান হতে পারে। কিন্তু এতে শিশুর মধ্যে প্রতিরোধ, রাগ বা গোপনে ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে ডিজিটাল ব্যালান্স শেখানো জরুরি। কারণ এই যুগে সন্তানকে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

তাহলে স্মার্ট নিয়ম কেমন হবে?

প্রথমত, সময় নির্ধারণ করুন। যেমন – ইফতারের পর এক ঘণ্টা নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখার অনুমতি।

দ্বিতীয়ত, কনটেন্ট বাছাই করুন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম বা সৃজনশীল ভিডিও অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তৃতীয়ত, বিকল্প তৈরি করুন। পরিবারের সঙ্গে ইফতার প্রস্তুতি, গল্প বলা, বোর্ড গেম, ধর্মীয় আচার বা হালকা ব্যায়াম – এসব যুক্ত করলে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে।

ছুটিতে সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ে চিন্তিত? আছে স্মার্ট সমাধান

এসবের পাশাপাশি আপনি চাইলে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে কনটেন্টের ধরন ও সময় ডিভাইসেই সেট করে দিতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখুন, শিশুর যেন ডিভাইস ছাড়াও নিজেকে ব্যস্ত রাখার বিকল্প থাকে। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে বাড়ির ভেতরেই তার জন্য সময় কাটানোর শিক্ষামূলক ও মজাদার একাধিক ব্যবস্থা থাকা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো – অভিভাবকরাও যদি সারাক্ষণ মোবাইলে থাকেন, তাহলে শিশুদের কাছে নিয়ম কার্যকর হয় না। পরিবারে সবার জন্য একই নীতি থাকলে তা মানা সহজ হয়।

রমজান আত্মসংযমের মাস। এই সময়টিকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুদ্ধ না বানিয়ে, বরং সচেতন ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা যায়। কড়া নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার বোঝাপড়া ও পরিকল্পিত নিয়ম।

সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কমন সেন্স মিডিয়া, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।