০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্যাকস-রেহানের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ডের জয়, টিকে থাকলো পাকিস্তান

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

দুই রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড একাধিকবার ম্যাচে ফিরে শেষ পর্যন্ত জ্যাকস ও রেহানের দৃঢ়তায় ৪ উইকেটের জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তাদের জয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো পাকিস্তানও।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য বিপর্যয় সামলে ইংলিশরা জিতেছে ৪ উইকেট হাতে রেখে। শেষ ১৮ বলে ৪৩ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বাদ এনে দেন উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ।

কিউইদের বিপক্ষে পাকিস্তান ও তাদের সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে ইংল্যান্ড। কেননা, হ্যারি ব্রুকদের জয়ের ওপরই নির্ভর করছিল সালমান আলি আগাদের সেমিফাইনালের রেইসে টিকে থাকার সম্ভাবনা।

তবে শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না ইংল্যান্ডের। বোর্ডে ২ রান যোগ হতেই হেনরির বলে ফিল সল্ট ও ফার্গুসনের বলে জস বাটলার বিদায় নেন। সেই ২ রান করে সল্ট আর রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন বাটলার।

৪৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল। সেই জুটি ভাঙেন ফিলিপস। ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন ব্রুক। ২১ রান করা বেথেলকেও ফেরান ফিলিপস। তবে এবার দুর্দান্ত ক্যাচে। রাচিন রবীন্দ্রর বলে আউট হন বেথেল। ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ রানের জুটিতে দলের শতরান পূর্ণ করে৷ স্যাম কারান ও টম ব্যান্টন। ২৪ রান করা স্যাম ফিরলে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন রাচিন।

২৪ রান করা ব্যান্টনকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন রাচিন। ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কঠিন করে ফেলে ইংলিশরা।

শেষ ১৮ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪৩ রানের। রেহান ও উইল জ্যাকস ১৮তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসকে বেধড়ক পিটিয়ে টি করে ছক্কা ও চারে তোলেন ২২ রান। এএপরও ১২ বলে ২২ রান সহজ ছিল না।

তবে সহজ করে তোলেন পরের ওভারে রেহান। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে এক চার ও এক ছয় ও দুইবার প্রান্ত বদ করে শেষ ওভারে ৫ রানের লক্ষ্যে নামিয়ে আনেন সমীকরণ ।

শেষ ওভারে দুটি সিঙ্গেলের পর চার মেরে জয় নিশ্চির করে উইল জ্যাকস। তিনি চারটি ৪ ও একটি ছয়ে ১৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলে। ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন রেহান আহমেদ। দুজনে মিলে গড়েন ৫৪ রানের জুটি।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র। একটি করে হেনরি, ফার্গুসন ও ফিলিপস।

এর আগে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু করে নিউজিল্যান্ড। পরপর দুই ওপেনারের বিদায়ের পর সেই রানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় কিউইরা। কোনো ব্যাটারই ফিফটির দেখা পাননি। সর্বোচ্চ ৩৯ রান এসেছে গ্লেন ফিলিপসের ব্যাট থেকে। সবমিলিয়ে ৭ উইকেটে ১৫৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের কেউ সেভাবে মারকুটে ইনিংস খেলতে না পারলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংগ্রহ দাঁড় করায় কিউইরা।

উদ্বোধনী জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। ৫ বলের ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। সেইফার্ট ৩৫ ও ফিন অ্যালেন করেন ২৯ রান। রাচিন রবীন্দ্র ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। তার বিদায়ে ৯৭ রানে ৩ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা।

৮ বলে ১৫ রান করা মার্ক চাপম্যান বড় কিছু স্বপ্ন দেখালেও সেখানেই থামেন তিনি। ১২৩ রানে ৪ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৩ রান করে ব্যর্থ হন ড্যারিল মিচেল। তার বিদায়ে ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

মিচেলের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করা গ্লেন ফিলিপসও বিদায় নেন। ৪ চার এক ছক্কা হাঁকান তিনি। ১৩৫ রানে পতন হয় ৬ উইকেটের। সবশেষ উইকেট হিসেবে ১৪ রান করা কল ম্যাককনকি আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৫৯ রান জমা হয় নিউজিল্যান্ডের বোর্ডে। ৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট পেয়েছেন আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। একটি উইকেট পেয়েছেন লিয়াম ডসন।

আইএন/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

জ্যাকস-রেহানের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ডের জয়, টিকে থাকলো পাকিস্তান

আপডেট সময়ঃ ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড একাধিকবার ম্যাচে ফিরে শেষ পর্যন্ত জ্যাকস ও রেহানের দৃঢ়তায় ৪ উইকেটের জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তাদের জয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকলো পাকিস্তানও।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য বিপর্যয় সামলে ইংলিশরা জিতেছে ৪ উইকেট হাতে রেখে। শেষ ১৮ বলে ৪৩ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বাদ এনে দেন উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ।

কিউইদের বিপক্ষে পাকিস্তান ও তাদের সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে ইংল্যান্ড। কেননা, হ্যারি ব্রুকদের জয়ের ওপরই নির্ভর করছিল সালমান আলি আগাদের সেমিফাইনালের রেইসে টিকে থাকার সম্ভাবনা।

তবে শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না ইংল্যান্ডের। বোর্ডে ২ রান যোগ হতেই হেনরির বলে ফিল সল্ট ও ফার্গুসনের বলে জস বাটলার বিদায় নেন। সেই ২ রান করে সল্ট আর রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন বাটলার।

৪৮ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল। সেই জুটি ভাঙেন ফিলিপস। ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন ব্রুক। ২১ রান করা বেথেলকেও ফেরান ফিলিপস। তবে এবার দুর্দান্ত ক্যাচে। রাচিন রবীন্দ্রর বলে আউট হন বেথেল। ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ রানের জুটিতে দলের শতরান পূর্ণ করে৷ স্যাম কারান ও টম ব্যান্টন। ২৪ রান করা স্যাম ফিরলে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন রাচিন।

২৪ রান করা ব্যান্টনকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন রাচিন। ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ কঠিন করে ফেলে ইংলিশরা।

শেষ ১৮ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪৩ রানের। রেহান ও উইল জ্যাকস ১৮তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসকে বেধড়ক পিটিয়ে টি করে ছক্কা ও চারে তোলেন ২২ রান। এএপরও ১২ বলে ২২ রান সহজ ছিল না।

তবে সহজ করে তোলেন পরের ওভারে রেহান। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে এক চার ও এক ছয় ও দুইবার প্রান্ত বদ করে শেষ ওভারে ৫ রানের লক্ষ্যে নামিয়ে আনেন সমীকরণ ।

শেষ ওভারে দুটি সিঙ্গেলের পর চার মেরে জয় নিশ্চির করে উইল জ্যাকস। তিনি চারটি ৪ ও একটি ছয়ে ১৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত ছিলে। ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন রেহান আহমেদ। দুজনে মিলে গড়েন ৫৪ রানের জুটি।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র। একটি করে হেনরি, ফার্গুসন ও ফিলিপস।

এর আগে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু করে নিউজিল্যান্ড। পরপর দুই ওপেনারের বিদায়ের পর সেই রানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় কিউইরা। কোনো ব্যাটারই ফিফটির দেখা পাননি। সর্বোচ্চ ৩৯ রান এসেছে গ্লেন ফিলিপসের ব্যাট থেকে। সবমিলিয়ে ৭ উইকেটে ১৫৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের কেউ সেভাবে মারকুটে ইনিংস খেলতে না পারলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংগ্রহ দাঁড় করায় কিউইরা।

উদ্বোধনী জুটিতে ৬৪ রান যোগ করেন টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। ৫ বলের ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। সেইফার্ট ৩৫ ও ফিন অ্যালেন করেন ২৯ রান। রাচিন রবীন্দ্র ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। তার বিদায়ে ৯৭ রানে ৩ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা।

৮ বলে ১৫ রান করা মার্ক চাপম্যান বড় কিছু স্বপ্ন দেখালেও সেখানেই থামেন তিনি। ১২৩ রানে ৪ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৩ রান করে ব্যর্থ হন ড্যারিল মিচেল। তার বিদায়ে ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

মিচেলের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করা গ্লেন ফিলিপসও বিদায় নেন। ৪ চার এক ছক্কা হাঁকান তিনি। ১৩৫ রানে পতন হয় ৬ উইকেটের। সবশেষ উইকেট হিসেবে ১৪ রান করা কল ম্যাককনকি আউট হন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৫৯ রান জমা হয় নিউজিল্যান্ডের বোর্ডে। ৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট পেয়েছেন আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। একটি উইকেট পেয়েছেন লিয়াম ডসন।

আইএন/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।