ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র ইতিমধ্যে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় ডা. রেজাউল উল্লেখ করেছেন, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তার স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীর মোট সম্পদ ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকার।
ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় রেজাউল করিম ও তার স্ত্রীর সম্পদ, আয়ের উৎস এবং বিনিয়োগের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিকিৎসা পেশাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই দম্পতির আর্থিক ভিত্তি, যার সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে শেয়ার-বন্ড ও স্থাবর সম্পদে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ।
আয়কর ও মোট সম্পদের চিত্র
আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে ডা. এটিএম রেজাউল করিম উল্লেখ করেছেন, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৬ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীর বার্ষিক ৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আয়। মোট ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা সম্পদের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৭ হাজার ৫৫৩ টাকা।
সম্পদের মূল ভিত্তি চিকিৎসা পেশাভিত্তিক আয়
অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. এটিএম রেজাউল করিম বর্তমানে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীও একজন চিকিৎসক।
হলফনামা অনুযায়ী, ডা. রেজাউল করিমের বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে সরাসরি চিকিৎসা পেশা থেকে।
এই পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এর বাইরে ‘সম্মানী’ খাত থেকে বছরে আয় ১২ লাখ টাকা।
এছাড়া শেয়ার, বন্ড ও বিভিন্ন আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৫৫ হাজার ৫০৭ টাকা। অর্থাৎ, মোট ঘোষিত আয়ের সিংহভাগই চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত কর্মকাণ্ডনির্ভর।
নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমায় বড় অঙ্ক
অস্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, ডা. রেজাউল করিম নিজের নামে নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নগদ অর্থের পরিমাণ আরও বেশি, ১৯ লাখ ২১ হাজার ৯৭৪ টাকা।
ব্যাংক হিসাবে ডা. রেজাউল করিমের জমা রয়েছে ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৬ টাকা।
স্থাবর সম্পদে ফ্ল্যাট ও প্লট
স্থাবর সম্পদের হিসাবে ডা. রেজাউল করিমের নামে রয়েছে ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ দশমিক ৬ কাঠা আয়তনের একটি প্লট। এই দুটি সম্পত্তিই তাদের ঘোষিত সম্পদের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে।
শেয়ার-বন্ডে বড় বিনিয়োগ
হলফনামায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ। ডা. এটিএম রেজাউল করিম নিজের নামে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগের তথ্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তার স্ত্রীর নামে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ৩৯ লাখ টাকা।
পেশাগত আয় থেকে বিনিয়োগমুখী সম্পদ
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আয়ের প্রধান উৎস চিকিৎসা পেশা হলেও সম্পদের বড় অংশ গড়ে উঠেছে, শেয়ার-বন্ড ও স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নগদ ও ব্যাংকে টাকা জমার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য।
এমআরএএইচ/এমএমকে
এডমিন 














