০১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দম বন্ধ হয়ে বাসের বক্সে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • 1

লালমনিরহাট থেকে লক্ষ্মীপুরে নেওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে ৫৫টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাস সুপারভাইজার আবুল হাশেম ও ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাশেম ও ফারুককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

হাশেম লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃত খায়ের উল্যার ছেলে এবং ফারুক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে।

ছাগল মালিক ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আনিন্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুর নিয়ে আসে। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগলও আনা হয়। ৫৫টি ছাগল বাসের বক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। এতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ফারুক বাসচালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফারুক বিষয়টি সদর মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠায়। এ ঘটনায় ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইপক্ষের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছে। প্রায় ২ বছর ধরেই এভাবে বাসের বক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো ছাগল মারা যায়নি। কিন্তু এবার বাসচালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, ৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এরমধ্যে ফারুকের ৪৭টি ও নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে ৮টি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো মরে পড়ে আছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাব, গরমে দমবন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মারা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাস সুপারভাইজারের ৫ হাজার ও ছাগল ব্যবসায়ীর ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। ভবিষ্যতের জন্য উভয়পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

কাজল কায়েস/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

দম বন্ধ হয়ে বাসের বক্সে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাট থেকে লক্ষ্মীপুরে নেওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতরে দম বন্ধ হয়ে ৫৫টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাস সুপারভাইজার আবুল হাশেম ও ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাশেম ও ফারুককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

হাশেম লালমনিরহাট জেলার সাপটানা এলাকার মৃত খায়ের উল্যার ছেলে এবং ফারুক লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের মো. খোকনের ছেলে।

ছাগল মালিক ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা গেছে, লালমনিরহাট থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আনিন্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের বক্সের ভেতর গাদাগাদি করে ফারুক ৪৭টি ছাগল লক্ষ্মীপুর নিয়ে আসে। একইসঙ্গে নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগলও আনা হয়। ৫৫টি ছাগল বাসের বক্সে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। এতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে তীব্র গরম ও পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে ছাগলগুলো দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ফারুক বাসচালক ও সুপারভাইজারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফারুক বিষয়টি সদর মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠায়। এ ঘটনায় ছাগলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইপক্ষের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ছাগল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থেকে আমার বাবা ছাগলগুলো কিনে বাসে করে লক্ষ্মীপুরে পাঠিয়েছে। প্রায় ২ বছর ধরেই এভাবে বাসের বক্সে করে আমরা ছাগল নিয়ে আসছি। প্রতি ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ভাড়া নেয় বাস কর্তৃপক্ষ। কখনো ছাগল মারা যায়নি। কিন্তু এবার বাসচালক ও সুপারভাইজারের অবহেলার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বাসের সুপারভাইজার আবুল হাসেম বলেন, ৫৫টি ছাগল লালমনিরহাট থেকে এনেছি। এরমধ্যে ফারুকের ৪৭টি ও নোয়াখালীর এক ব্যবসায়ীর ৮টি ছাগল ছিল। পথে ছাগলগুলো ভালোই ছিল। কিন্তু নোয়াখালীর চৌরাস্তায় এসে ৮টি ছাগল নামানোর সময় দেখি সবগুলো মরে পড়ে আছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন সোহেল রানা বলেন, পর্যাপ্ত বাতাসের অভাব, গরমে দমবন্ধ হয়ে সবগুলো ছাগল মারা গেছে। ছাগলগুলোর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাস সুপারভাইজারের ৫ হাজার ও ছাগল ব্যবসায়ীর ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। ভবিষ্যতের জন্য উভয়পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। মৃত ছাগলগুলোকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

কাজল কায়েস/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।