০৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে অবস্থান মজবুত করলো আর্সেনাল

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 25

সাবেক ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে গোল করে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করলেন এবেরেচি এজে। এমিরেটস স্টেডিয়ামে তার দুর্দান্ত ভলিতে পাওয়া গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে অবস্থান আরও দৃঢ় করল গানাররা।

৩৯তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ইন-সুইং ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে দারুণ এক হাফ-ভলিতে জালের দেখা পান এবেরেচি এজে। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল পেলেও কোনো উদযাপন করেননি তিনি।

এজের এই গোলটি ছিল তার শেষ সাত ম্যাচে প্রথম লিগ গোল, যা আসলেই দলের জন্য ছিল স্বস্তিদায়ক মুহূর্ত। এজের এই পারফরম্যান্স দেখলেন ভবিষ্যৎ আর্সেনাল কোচ হিসেবে আলোচনায় থাকা থমাস টুখেল, যিনি এমিরেটসের ভিআইপি বক্সে বসে ম্যাচ উপভোগ করছিলেন।

এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগে টানা সপ্তম জয় পেল। তারা এখন দ্বিতীয়স্থানে থাকা বোর্নমাউথের চেয়ে চার পয়েন্টে এগিয়ে, আর তৃতীয়স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।

দলের এই ক্লিন শিট ছিল টানা পঞ্চম ম্যাচে। পুরো মৌসুমে (সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে) তারা ১৩ ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে তারা, যা ইউরোপের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের প্রমাণ।

মিকেল আর্তেতার তত্ত্বাবধানে আর্সেনাল এখন ইউরোপের “সেট পিস কিংস”। এই ম্যাচের আগেই তারা ছিল ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সর্বাধিক (১০টি) ফ্রি-কিক গোল করা দল। এজের গোলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। এটি ছিল ২০২৩-২৪ মৌসুমে আর্সেনালের ৩৮তম সেট পিস গোল — যা দলের অনুশীলনের ফলাফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে স্পষ্টভাবেই।

ম্যাচের শুরুটা ধীরগতির ছিল আর্সেনালের জন্য। প্রথম শটটি আসে ৩৩তম মিনিটে। ভিক্টর গিয়োকেরেস বল ধরে শক্তভাবে এগিয়ে গিয়ে রাইসের পাসে সুযোগ তৈরি করেন, কিন্তু লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের দুর্বল শটে গোলরক্ষক সহজেই বল ধরেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর রাইসের শটও থামান হেন্ডারসন। বুকায়ো সাকা দূরপাল্লার একটি শটে গোল মিস করেন সামান্য ব্যবধানে। ক্রিস্টাল প্যালেস পুরো ম্যাচে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি। তাদের আক্রমণ প্রায় পুরোপুরি নিস্তেজ করে রাখে সালিবা, গ্যাব্রিয়েল ও হোয়াইটের রক্ষণ ত্রয়ী।

জয়ের দিনেও আর্সেনালের কিছু উদ্বেগ রয়ে গেল। উইলিয়াম সালিবা বিরতির আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, আর ম্যাচের শেষদিকে ডেকলান রাইস পায়ের চোটে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন।

এ জয়ের ফলে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। মিকেল আর্তেতার দলের শক্ত রক্ষণ, সেট পিসের দক্ষতা আর নির্ভুল পরিকল্পনা আবারও প্রমাণ করল— এবার তারা সত্যিই শিরোপার লড়াইয়ের জন্য তৈরি।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে অবস্থান মজবুত করলো আর্সেনাল

আপডেট সময়ঃ ০৬:০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

সাবেক ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে গোল করে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করলেন এবেরেচি এজে। এমিরেটস স্টেডিয়ামে তার দুর্দান্ত ভলিতে পাওয়া গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে অবস্থান আরও দৃঢ় করল গানাররা।

৩৯তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ইন-সুইং ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে দারুণ এক হাফ-ভলিতে জালের দেখা পান এবেরেচি এজে। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল পেলেও কোনো উদযাপন করেননি তিনি।

এজের এই গোলটি ছিল তার শেষ সাত ম্যাচে প্রথম লিগ গোল, যা আসলেই দলের জন্য ছিল স্বস্তিদায়ক মুহূর্ত। এজের এই পারফরম্যান্স দেখলেন ভবিষ্যৎ আর্সেনাল কোচ হিসেবে আলোচনায় থাকা থমাস টুখেল, যিনি এমিরেটসের ভিআইপি বক্সে বসে ম্যাচ উপভোগ করছিলেন।

এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগে টানা সপ্তম জয় পেল। তারা এখন দ্বিতীয়স্থানে থাকা বোর্নমাউথের চেয়ে চার পয়েন্টে এগিয়ে, আর তৃতীয়স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।

দলের এই ক্লিন শিট ছিল টানা পঞ্চম ম্যাচে। পুরো মৌসুমে (সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে) তারা ১৩ ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে তারা, যা ইউরোপের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের প্রমাণ।

মিকেল আর্তেতার তত্ত্বাবধানে আর্সেনাল এখন ইউরোপের “সেট পিস কিংস”। এই ম্যাচের আগেই তারা ছিল ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সর্বাধিক (১০টি) ফ্রি-কিক গোল করা দল। এজের গোলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। এটি ছিল ২০২৩-২৪ মৌসুমে আর্সেনালের ৩৮তম সেট পিস গোল — যা দলের অনুশীলনের ফলাফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে স্পষ্টভাবেই।

ম্যাচের শুরুটা ধীরগতির ছিল আর্সেনালের জন্য। প্রথম শটটি আসে ৩৩তম মিনিটে। ভিক্টর গিয়োকেরেস বল ধরে শক্তভাবে এগিয়ে গিয়ে রাইসের পাসে সুযোগ তৈরি করেন, কিন্তু লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের দুর্বল শটে গোলরক্ষক সহজেই বল ধরেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর রাইসের শটও থামান হেন্ডারসন। বুকায়ো সাকা দূরপাল্লার একটি শটে গোল মিস করেন সামান্য ব্যবধানে। ক্রিস্টাল প্যালেস পুরো ম্যাচে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি। তাদের আক্রমণ প্রায় পুরোপুরি নিস্তেজ করে রাখে সালিবা, গ্যাব্রিয়েল ও হোয়াইটের রক্ষণ ত্রয়ী।

জয়ের দিনেও আর্সেনালের কিছু উদ্বেগ রয়ে গেল। উইলিয়াম সালিবা বিরতির আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, আর ম্যাচের শেষদিকে ডেকলান রাইস পায়ের চোটে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন।

এ জয়ের ফলে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। মিকেল আর্তেতার দলের শক্ত রক্ষণ, সেট পিসের দক্ষতা আর নির্ভুল পরিকল্পনা আবারও প্রমাণ করল— এবার তারা সত্যিই শিরোপার লড়াইয়ের জন্য তৈরি।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।