পুরনো গল্পাটা আবারও লিখা হলো। পাকিস্তান মুখে যতই বলুক, গল্পটা নতুন করে আর লিখা হলো না তাদের। বিশ্বকাপ মানেই ভারতের কাছে পরাজয়। সেই ধারাবাহিকতা মেনেই যেন ভারতের কাছে এবার আরও লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করলো পাকিস্তান।
ভারতের করা ১৭৫ রানের জবাব দিতে নেমে ১৮ ওভারেই ১১৪ রানে অলআউট হয়ে গেলো পাকিস্তান। যার ফলে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হলো সালমান আলি আগার দলকে। পাকিস্তানকে হারিয়ে `এ‘ গ্রুপ থেকে সবার আগে সুপার এইট নিশ্চিত করলো ভারত। কারণ নেদারল্যান্ডস বা নামিবিয়ার আর ভারতকে ছোঁয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে ৯ বার মুখোমুখি হয়ে ভারত এগিয়ে থাকলো ৮-১ ব্যবধানে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের কোনো ছিঁটেফোটাও দেখা গেলো না আজকের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে। এই ম্যাচ নিয়ে কম হাইপ তোলা হয়নি। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে যখন পাকিস্তান ম্যাচটি বয়কট করেছিল, তখন ভারত এবং আইসিসি হন্যে হয়ে পড়েছিল, এ ম্যাচ আয়োজন করার জন্য। না হয় হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের লোকসান হবে।
বলা হচ্ছিল, এই একটি ম্যাচ ঘিরেই ৬ হাজার কোটি টাকা সম্প্রচার বাণিজ্য হবে আইসিসি। অথচ, টাকার দিক থেকে এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচই কি না কি নিদারুণ ম্যাড়ম্যাড় ম্যাচে পরিণত হলো। পাকিস্তান অলআউট হলো ২ ওভার আগে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এই দুই ওভারের সমপরিমাণ সময় কম সম্প্রচার করতে পেরেছে। তাতে কত লস হলো তাদের!
অবশেষে পাকিস্তানকে অনেক অনুরোধ-উপরোধ করে ম্যাচটি খেলতে রাজি করানো হলো। ম্যাচ দেখতে ভারত এবং পাকিস্তাানের দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলো কলম্বোয়। মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
কিন্তু পাকিস্তানের মাঠের খেলা ছিল খুবই সাদামাটা। বরাবরের মতোই, ভারতের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারলো না।
ভারতের করা ১৭৫ রানের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিতে শুরু করে পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রিত বুমরাহ কিংবা অক্ষর প্যাটেলদের তোপের মুখে কোনোভাবেই দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানি ব্যাটাররা।
সাহিবজাদা ফারহান শূন্য রানে, সাইম আইয়ুব ৬ রানে, সালমান আলি আগা ৪ রানে, বাবর আজম ৫ রানে আউট হয়ে যান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় ৩৪ রানেই বিদায় নেয় চারজন ব্যাটার।
এরপর মিডল অর্ডারে ৩৪ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন উসমান খান। বাকি ব্যাটারদের আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। ১৪ রানে শাদাব খান, ৪ রানে মোহাম্মদ নওয়াজ, ১০ রানে ফাহিম আশরাফ আউট হন। ১৯ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রিত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল, বরুন চক্রবর্তি নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন কুলদীপ যাদব ও তিলক বার্মা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারত সংগ্রহ করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান। ইশান কিশান ৪০ বলে করেন ৭৭ রান। ১০টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি। ৩২ রান করেন সূর্যকুমার যাদব। ২৫ রান করেন তিলক বার্মা। ৩ উইকেট সাইম আইয়ুব।
এসএএইচ
এডমিন 


















