০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিল দলে নেইমার ইস্যুতে চাপে আনচেলত্তি, উত্তেজনা তুঙ্গে

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • 1

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে নেইমারকে রাখা হবে কি হবে না- এ বিষয়টি। দলটির ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন পড়েছেন এক কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে- তুমুল চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন, নাকি নিজের পরিকল্পনায় অটল থাকবেন!

ব্রাজিলে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের জাতীয় আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রে রয়েছেন নেইমার। প্রায় ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারা ব্রাজিলের জন্য অনেকেই মনে করছেন, নেইমারের উপস্থিতিই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই আসল, কোনো একক খেলোয়াড় নয়।

বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, নেইমার ইস্যুতে আনচেলত্তির ওপর ততই বাড়ছে চাপ। নেইমার নিজেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন ফিট হয়ে দলে জায়গা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে আনচেলত্তিকে প্রতিনিয়ত এই বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা তার ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। সমর্থকরাও স্পষ্টভাবে নেইমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং মাঠে-গ্যালারিতে স্লোগানের মাধ্যমে সেটি প্রকাশ করছেন।

সম্প্রতি ফ্রান্সের কাছে প্রীতি ম্যাচে পরাজয়ের পর সেই চাপ আরও বেড়েছে। ওই ম্যাচে পুরো দ্বিতীয়ার্ধে সংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হারের ফলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আনচেলত্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপের মধ্যেই কাজ করতে হবে। যদিও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় আবার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ফ্রান্স ম্যাচের পর নেইমারকে না রাখা এবং দলে যাদের রাখা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘যারা খেলেছে, যারা মাঠে নিজেদের সবকিছু দিয়েছে, আমাদের তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত।’

তবে বাস্তবতা হলো, ব্রাজিল দলের ভেতরের অনেক খেলোয়াড়ও সমর্থকদের মতোই নেইমারকে দলে দেখতে চান। ফুটবলারদের মধ্যে কিংবদন্তিদের প্রতি এক ধরনের অদৃশ্য সম্মান থাকে, যা নেইমারের পক্ষে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের অনেকেই সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন, প্রয়োজনে কেউ কেউ নিজেদের জায়গা ছাড়তেও রাজি, তবু তারা চান নেইমার বিশ্বকাপ দলে থাকুক। কারণ তাদের কাছে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আবেগ, অনুপ্রেরণা এবং কখনো কখনো এক ধরনের ‘বিশ্বাসের প্রতীক’।

এ বিষয়ে ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ দুঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে হলে অন্তত ৮০ শতাংশ ফিট থাকতে হবে। নেইমার টেকনিক্যালি অসাধারণ। সে বেঞ্চে বসে থাকতে রাজি হবে না। সে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার খেলোয়াড়, জিততে চায় এবং খেলতে চায়। যদি সে দলে থাকে, তবে তাকে খেলাতেই হবে।’

ব্রাজিলের জন্য লক্ষ্য একটাই- শিরোপা জয়। সে লক্ষ্যেই ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে যে শর্তে কাজ করতে হবে, অর্থাৎ নেইমারকে দলে রাখা- তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। এখন দেখার বিষয়, তিনি কি নিজের কৌশলে অটল থাকেন, নাকি পরিস্থিতির চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

সব মিলিয়ে, ব্রাজিল দলে নেইমারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক জটিল সমীকরণ। যেখানে কৌশল, আবেগ, দলীয় ঐক্য এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা- সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বড় চ্যালেঞ্জ, যার সমাধানই নির্ধারণ করতে পারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভাগ্য।

সূত্র: মার্কা

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ব্রাজিল দলে নেইমার ইস্যুতে চাপে আনচেলত্তি, উত্তেজনা তুঙ্গে

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে নেইমারকে রাখা হবে কি হবে না- এ বিষয়টি। দলটির ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখন পড়েছেন এক কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে- তুমুল চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন, নাকি নিজের পরিকল্পনায় অটল থাকবেন!

ব্রাজিলে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের জাতীয় আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রে রয়েছেন নেইমার। প্রায় ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারা ব্রাজিলের জন্য অনেকেই মনে করছেন, নেইমারের উপস্থিতিই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই আসল, কোনো একক খেলোয়াড় নয়।

বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, নেইমার ইস্যুতে আনচেলত্তির ওপর ততই বাড়ছে চাপ। নেইমার নিজেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন ফিট হয়ে দলে জায়গা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে আনচেলত্তিকে প্রতিনিয়ত এই বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, যা তার ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। সমর্থকরাও স্পষ্টভাবে নেইমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন এবং মাঠে-গ্যালারিতে স্লোগানের মাধ্যমে সেটি প্রকাশ করছেন।

সম্প্রতি ফ্রান্সের কাছে প্রীতি ম্যাচে পরাজয়ের পর সেই চাপ আরও বেড়েছে। ওই ম্যাচে পুরো দ্বিতীয়ার্ধে সংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হারের ফলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আনচেলত্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপের মধ্যেই কাজ করতে হবে। যদিও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় আবার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ফ্রান্স ম্যাচের পর নেইমারকে না রাখা এবং দলে যাদের রাখা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘যারা খেলেছে, যারা মাঠে নিজেদের সবকিছু দিয়েছে, আমাদের তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত।’

তবে বাস্তবতা হলো, ব্রাজিল দলের ভেতরের অনেক খেলোয়াড়ও সমর্থকদের মতোই নেইমারকে দলে দেখতে চান। ফুটবলারদের মধ্যে কিংবদন্তিদের প্রতি এক ধরনের অদৃশ্য সম্মান থাকে, যা নেইমারের পক্ষে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের অনেকেই সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন, প্রয়োজনে কেউ কেউ নিজেদের জায়গা ছাড়তেও রাজি, তবু তারা চান নেইমার বিশ্বকাপ দলে থাকুক। কারণ তাদের কাছে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আবেগ, অনুপ্রেরণা এবং কখনো কখনো এক ধরনের ‘বিশ্বাসের প্রতীক’।

এ বিষয়ে ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ দুঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে হলে অন্তত ৮০ শতাংশ ফিট থাকতে হবে। নেইমার টেকনিক্যালি অসাধারণ। সে বেঞ্চে বসে থাকতে রাজি হবে না। সে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার খেলোয়াড়, জিততে চায় এবং খেলতে চায়। যদি সে দলে থাকে, তবে তাকে খেলাতেই হবে।’

ব্রাজিলের জন্য লক্ষ্য একটাই- শিরোপা জয়। সে লক্ষ্যেই ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে যে শর্তে কাজ করতে হবে, অর্থাৎ নেইমারকে দলে রাখা- তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। এখন দেখার বিষয়, তিনি কি নিজের কৌশলে অটল থাকেন, নাকি পরিস্থিতির চাপে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

সব মিলিয়ে, ব্রাজিল দলে নেইমারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক জটিল সমীকরণ। যেখানে কৌশল, আবেগ, দলীয় ঐক্য এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা- সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক বড় চ্যালেঞ্জ, যার সমাধানই নির্ধারণ করতে পারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভাগ্য।

সূত্র: মার্কা

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।