০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থান এখন পাবলিক টয়লেট

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙে একই স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট। টয়লেটটি ভেঙে পুনরায় মঞ্চ নির্মাণ বা পাশে একই নামে একটি মঞ্চ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও গত তিন বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা যায়, ৭০ দশকে পাবনার ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণ করা হয় মুক্ত মঞ্চ। নামকরণ করা হয় ‘ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এ মঞ্চ।

পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এই মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতো। এজন্য ঈশ্বরদীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি, পুরানো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ মঞ্চকে ঘিরে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ শাহ সূফির নেতৃত্বে এ মঞ্চসহ আশপাশের কয়েকটি দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মঞ্চ না ভাঙার অনুরোধ জানালেও তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি সেই আধুনিক পাবলিক টয়লেটের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসিম কুমার তালুকদার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদীর কোনো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত হননি।

ভাষা সৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থান এখন পাবলিক টয়লেট

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খানের নামে নির্মিত মুক্তমঞ্চ ভেঙে ফেলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ঝড় ওঠে। পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি মঞ্চ ভাঙার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর সচেতন যুবসমাজের ব্যানারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত মঞ্চ নির্মাণ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এতে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এতে আরও বেশি ক্ষুব্ধ হন সব স্তরের মানুষ। তারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।

ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভাষা শহীদের নামে তৈরি মঞ্চ ভেঙে এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধি এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঈশ্বরদীবাসী একই স্থানে আবারও মঞ্চ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই নতুন সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতিমঞ্চে একসময় ঈশ্বরদীর সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতো। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের কাছে এ মঞ্চ ছিল সবচেয়ে প্রিয়। হঠাৎ এখানে মঞ্চ ভেঙে পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে।

আমাকে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মানুষ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমি অবশ্যই ঈশ্বরদীতে একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

শেখ মহসীন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থান এখন পাবলিক টয়লেট

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙে একই স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে পাবলিক টয়লেট। টয়লেটটি ভেঙে পুনরায় মঞ্চ নির্মাণ বা পাশে একই নামে একটি মঞ্চ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও গত তিন বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা যায়, ৭০ দশকে পাবনার ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনালে রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণ করা হয় মুক্ত মঞ্চ। নামকরণ করা হয় ‘ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম, সভা-সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এ মঞ্চ।

পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এই মঞ্চেই অনুষ্ঠিত হতো। এজন্য ঈশ্বরদীর মানুষের আবেগ, অনুভূতি, পুরানো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ মঞ্চকে ঘিরে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ শাহ সূফির নেতৃত্বে এ মঞ্চসহ আশপাশের কয়েকটি দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মঞ্চ না ভাঙার অনুরোধ জানালেও তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি সেই আধুনিক পাবলিক টয়লেটের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসিম কুমার তালুকদার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদসহ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে অনুষ্ঠানে ঈশ্বরদীর কোনো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত হননি।

ভাষা সৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থান এখন পাবলিক টয়লেট

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খানের নামে নির্মিত মুক্তমঞ্চ ভেঙে ফেলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ঝড় ওঠে। পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি মঞ্চ ভাঙার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর সচেতন যুবসমাজের ব্যানারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশে বক্তারা দ্রুত মঞ্চ নির্মাণ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মঞ্চ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এতে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। বরং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিকের নামে তৈরি মঞ্চের স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এতে আরও বেশি ক্ষুব্ধ হন সব স্তরের মানুষ। তারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।

ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভাষা শহীদের নামে তৈরি মঞ্চ ভেঙে এখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধি এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবাদ করেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা ঈশ্বরদীবাসী একই স্থানে আবারও মঞ্চ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা চাই নতুন সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতিমঞ্চে একসময় ঈশ্বরদীর সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতো। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের কাছে এ মঞ্চ ছিল সবচেয়ে প্রিয়। হঠাৎ এখানে মঞ্চ ভেঙে পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে।

আমাকে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মানুষ তাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমি অবশ্যই ঈশ্বরদীতে একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

শেখ মহসীন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।