০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • 8

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। বুধবার (২৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মারা যাওয়া ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গত ২০ মে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। শিশুটি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। অপরদিকে পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশু গত ৬ মে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৫৩৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ শিশু।

ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন ও ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ১০ মাস বয়সী ভাগনেকে নিয়ে গত এক মাস ধরে ছোটাছুটি করছি। প্রতিদিন ওয়ার্ডে শিশু মারা যাওয়ায় আতঙ্ক কাটছে না। তবে ও আগের চেয়ে একটু ভালো আছে। হাসপাতালে আইসিইউ থাকলে এত দুশ্চিন্তা হতো না।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কিছুটা কমছে। ফলে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছে। তবে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই হামের পাশাপাশি অন্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল।

এদিকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন রায়েবা আক্তার বলেন, দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেক পরিবারের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে এখন স্বজনদের উৎকণ্ঠা, কান্না আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা।

হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। বুধবার (২৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মারা যাওয়া ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গত ২০ মে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। শিশুটি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। অপরদিকে পাঁচ মাস বয়সী আরেক শিশু গত ৬ মে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৫৩৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪৭ শিশু।

ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন ও ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ১০ মাস বয়সী ভাগনেকে নিয়ে গত এক মাস ধরে ছোটাছুটি করছি। প্রতিদিন ওয়ার্ডে শিশু মারা যাওয়ায় আতঙ্ক কাটছে না। তবে ও আগের চেয়ে একটু ভালো আছে। হাসপাতালে আইসিইউ থাকলে এত দুশ্চিন্তা হতো না।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, হামের টিকা নেওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ কিছুটা কমছে। ফলে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছে। তবে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই হামের পাশাপাশি অন্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল।

এদিকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন রায়েবা আক্তার বলেন, দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের অনেক পরিবারের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে এখন স্বজনদের উৎকণ্ঠা, কান্না আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা।

হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।