০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিশরে ফেরাউন খুফুর প্রাচীন সৌর নৌকার সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 2

মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো। ফারাও খুফুর প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর পুরোনো দুটি সৌর নৌকার মধ্যে দ্বিতীয় নৌকাটির সংরক্ষণ ও পুনঃএকত্রীকরণ কার্যক্রম সম্প্রতি গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে। প্রায় চার বছরব্যাপী এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে জনসমক্ষে পরিচালিত হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা সরাসরি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি কাঠের খণ্ড থেকে নৌকাটি ধাপে ধাপে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ফেরাউন খুফুর মৃত্যুর পর সূর্যদেবতা ‘রা’ এর সঙ্গে পরলোকে যাত্রার উদ্দেশ্যেই এই সৌর নৌকাগুলো নির্মিত হয়েছিল। ফলে এটি শুধু প্রাচীন নৌযান নির্মাণ কৌশলের নিদর্শনই নয়, বরং মিশরীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতিরও এক অনন্য প্রতীক।

খুফুর এই সৌর নৌকাটি ১৯৫৪ সালে গিজার গ্রেট পিরামিডের নিকটে একটি সিল করা গর্তে আবিষ্কৃত হয়। তবে কাঠের অত্যন্ত নাজুক অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন এটি খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে ছিল। অবশেষে ২০১১ সালে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক খননকাজ।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, হাজার হাজার বছর মাটির নিচে থাকার ফলে কাঠগুলো তাপীয় ক্ষয় ও পরিবেশগত প্রভাবে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই কয়েক দশক ধরে গবেষকরা এই প্রকল্পে কাজ করতে সতর্কতা অবলম্বন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রায় চার বছর সময় নেবে এবং তা মিউজিয়ামের ভেতর দর্শনার্থীদের সামনে সম্পন্ন করা হবে।

মিশরের পর্যটনমন্ত্রী শরীফ ফাত্তাহি বলেন, আপনারা আজ একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ প্রকল্প প্রত্যক্ষ করছেন। এটি শুধু গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার ঐতিহ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মিশরে ফেরাউন খুফুর প্রাচীন সৌর নৌকার সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু

গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সংরক্ষণ প্রকল্প বিভাগের প্রধান ইসা জিদান জানান, কাঠের তক্তাগুলো ছিল চরমভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত ও অত্যন্ত দুর্বল, যার কারণে দীর্ঘদিন প্রত্নতাত্ত্বিক মিশনগুলো এই প্রকল্পে হাত দিতে সাহস পায়নি।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করছেন মিশরীয় ও জাপানি প্রত্নতত্ত্ববিদরা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এ প্রকল্পে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ন্যানো-সেলুলোজ ও ক্লুসেল-ইসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান সংরক্ষণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, একই সময়কালের আরেকটি সৌর নৌকা এরই মধ্যে গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। নৌকাটি এর আগে গিজার পিরামিড চত্বরে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হয়েছিল।

চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতে জাদুঘরটি উদ্বোধনের পর থেকেই বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরটি পরিদর্শন করছেন, যা ব্যস্ত দিনে প্রায় ২৭ হাজারে পৌঁছাচ্ছে।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা – [email protected]

ট্যাগঃ

নতুন বছরে অর্থনৈতিক গতি ও স্থিতিশীলতা চায় ঢাকা চেম্বার

মিশরে ফেরাউন খুফুর প্রাচীন সৌর নৌকার সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো। ফারাও খুফুর প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর পুরোনো দুটি সৌর নৌকার মধ্যে দ্বিতীয় নৌকাটির সংরক্ষণ ও পুনঃএকত্রীকরণ কার্যক্রম সম্প্রতি গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে। প্রায় চার বছরব্যাপী এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে জনসমক্ষে পরিচালিত হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা সরাসরি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি কাঠের খণ্ড থেকে নৌকাটি ধাপে ধাপে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ফেরাউন খুফুর মৃত্যুর পর সূর্যদেবতা ‘রা’ এর সঙ্গে পরলোকে যাত্রার উদ্দেশ্যেই এই সৌর নৌকাগুলো নির্মিত হয়েছিল। ফলে এটি শুধু প্রাচীন নৌযান নির্মাণ কৌশলের নিদর্শনই নয়, বরং মিশরীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতিরও এক অনন্য প্রতীক।

খুফুর এই সৌর নৌকাটি ১৯৫৪ সালে গিজার গ্রেট পিরামিডের নিকটে একটি সিল করা গর্তে আবিষ্কৃত হয়। তবে কাঠের অত্যন্ত নাজুক অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন এটি খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে ছিল। অবশেষে ২০১১ সালে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক খননকাজ।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, হাজার হাজার বছর মাটির নিচে থাকার ফলে কাঠগুলো তাপীয় ক্ষয় ও পরিবেশগত প্রভাবে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণেই কয়েক দশক ধরে গবেষকরা এই প্রকল্পে কাজ করতে সতর্কতা অবলম্বন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া প্রায় চার বছর সময় নেবে এবং তা মিউজিয়ামের ভেতর দর্শনার্থীদের সামনে সম্পন্ন করা হবে।

মিশরের পর্যটনমন্ত্রী শরীফ ফাত্তাহি বলেন, আপনারা আজ একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ প্রকল্প প্রত্যক্ষ করছেন। এটি শুধু গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার ঐতিহ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

মিশরে ফেরাউন খুফুর প্রাচীন সৌর নৌকার সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু

গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সংরক্ষণ প্রকল্প বিভাগের প্রধান ইসা জিদান জানান, কাঠের তক্তাগুলো ছিল চরমভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত ও অত্যন্ত দুর্বল, যার কারণে দীর্ঘদিন প্রত্নতাত্ত্বিক মিশনগুলো এই প্রকল্পে হাত দিতে সাহস পায়নি।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করছেন মিশরীয় ও জাপানি প্রত্নতত্ত্ববিদরা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এ প্রকল্পে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ন্যানো-সেলুলোজ ও ক্লুসেল-ইসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান সংরক্ষণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, একই সময়কালের আরেকটি সৌর নৌকা এরই মধ্যে গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। নৌকাটি এর আগে গিজার পিরামিড চত্বরে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হয়েছিল।

চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতে জাদুঘরটি উদ্বোধনের পর থেকেই বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী জাদুঘরটি পরিদর্শন করছেন, যা ব্যস্ত দিনে প্রায় ২৭ হাজারে পৌঁছাচ্ছে।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা – [email protected]