০৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসাফিররা জামাত করলে কি পূর্ণ নামাজ পড়বেন?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • 5

প্রশ্ন: বাড়ি থেকে ফেরার পথে মসজিদে ঢুকে দেখলাম নামাজ শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি ও আমার সফরসঙ্গীরা একসাথে জামাতে নামাজ পড়লাম। আমরা সবাই মুসাফির ছিলাম। জামাতে নামাজ পড়লে পূর্ণ নামাজ পড়তে হয় ভেবে নামাজ কসর না করে পূর্ণ নামাজ পড়লাম। কিন্তু সালাম ফেরানোর পর সফরসঙ্গীদের কেউ কেউ বললো মুসাফিররা জামাত করলেও কসর করতে হবে। তাদের কথা কি ঠিক? ঠিক হয়ে থাকলে আমাদের ওই নামাজ কি হয়েছে?

উত্তর: মুসাফিরদের জন্য জোহর, আসর ও ইশার ফরজ নামাজ কসর করা অর্থাৎ চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়া ওয়াজিব। একা নামাজ পড়লে যেমন কসর ওয়াজিব, মুসাফির ইমামের ইমামতিতে মুসাফিররা জামাত করলেও নামাজ কসর করা ওয়াজিব। সফর অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কসর না করা গুনাহের কাজ।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাদের নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত নামাজ ফরজ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭)

মুসাফির ইমাম বা একা নামাজ আদায়কারী যদি ভুল করে চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ কসর না করে চার রাকাতই পড়ে নেন, তাহলে দেখতে হবে তিনি দুই রাকাতের পর বৈঠক করেছেন কি না, যদি বৈঠক করে থাকেন তাহলে তার ওই ফরজ নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাত ফরজ এবং শেষ দুই রাকাত নফল হবে। নামাজের ভেতরেই যদি এ ভুলের কথা মনে পড়ে, তাহলে নামাজ শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, কোনো মুসাফির ভুলে জোহরের নামাজ চার রাকাত পড়ে ফেললে সাহু সিজদা করবেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ২/৫৪১)

নামাজের ভেতরে মনে না পড়লে এবং সাহু সিজদা না দিলেও নামাজ হয়ে যাবে। আবার পড়তে হবে না।

আর যদি চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ মুসাফির চার রাকাত পড়েন এবং মাঝের বৈঠকও করতে ভুলে যান, তাহলে তার ফরজ বাতিল হয়ে ওই নামাজ নফল হয়ে যাবে। পুনরায় ওই ফরজ নামাজ পড়ে নিতে হবে। (আদ-দুররুল মুখতার: ২/১২৮)

তবে মুসাফির যদি মসজিদে নামাজ পড়েন এবং সেখানে মসজিদের ইমাম নামাজ পড়ান যিনি মুসাফির নন, অথবা অন্য যে কোনো প্রেক্ষাপটে মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকিম ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন, তাহলে মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজগুলো চার রাকাতই আদায় করবেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুসাফির যদি মুকিমদের সাথে নামাজে শরিক হন তবে তিনি তাদের মত চার রাকাত নামাজ পড়বেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩৮৪৯)

মসজিদের জামাতে বা মুকিমদের জামাতে অংশগ্রহণ করে মুসাফির ব্যক্তি মাসবুক হলে অর্থাৎ এক, দুই বা তিন রাকাত পেলে তাকে চার রাকাতই পড়তে হবে।

আবু মিজলায (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম, মুসাফির অবস্থায় যদি আমি মুকিমের পেছনে এক রাকাত পাই তাহলে করণীয় কী? জবাবে তিনি বললেন, মুকিমের মতো পূর্ণ নামাজ পড়বে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৪৩৮১)

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

মুসাফিররা জামাত করলে কি পূর্ণ নামাজ পড়বেন?

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

প্রশ্ন: বাড়ি থেকে ফেরার পথে মসজিদে ঢুকে দেখলাম নামাজ শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি ও আমার সফরসঙ্গীরা একসাথে জামাতে নামাজ পড়লাম। আমরা সবাই মুসাফির ছিলাম। জামাতে নামাজ পড়লে পূর্ণ নামাজ পড়তে হয় ভেবে নামাজ কসর না করে পূর্ণ নামাজ পড়লাম। কিন্তু সালাম ফেরানোর পর সফরসঙ্গীদের কেউ কেউ বললো মুসাফিররা জামাত করলেও কসর করতে হবে। তাদের কথা কি ঠিক? ঠিক হয়ে থাকলে আমাদের ওই নামাজ কি হয়েছে?

উত্তর: মুসাফিরদের জন্য জোহর, আসর ও ইশার ফরজ নামাজ কসর করা অর্থাৎ চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়া ওয়াজিব। একা নামাজ পড়লে যেমন কসর ওয়াজিব, মুসাফির ইমামের ইমামতিতে মুসাফিররা জামাত করলেও নামাজ কসর করা ওয়াজিব। সফর অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কসর না করা গুনাহের কাজ।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাদের নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত নামাজ ফরজ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭)

মুসাফির ইমাম বা একা নামাজ আদায়কারী যদি ভুল করে চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ কসর না করে চার রাকাতই পড়ে নেন, তাহলে দেখতে হবে তিনি দুই রাকাতের পর বৈঠক করেছেন কি না, যদি বৈঠক করে থাকেন তাহলে তার ওই ফরজ নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাত ফরজ এবং শেষ দুই রাকাত নফল হবে। নামাজের ভেতরেই যদি এ ভুলের কথা মনে পড়ে, তাহলে নামাজ শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, কোনো মুসাফির ভুলে জোহরের নামাজ চার রাকাত পড়ে ফেললে সাহু সিজদা করবেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ২/৫৪১)

নামাজের ভেতরে মনে না পড়লে এবং সাহু সিজদা না দিলেও নামাজ হয়ে যাবে। আবার পড়তে হবে না।

আর যদি চার রাকাত বিশিষ্ট কোনো ফরজ নামাজ মুসাফির চার রাকাত পড়েন এবং মাঝের বৈঠকও করতে ভুলে যান, তাহলে তার ফরজ বাতিল হয়ে ওই নামাজ নফল হয়ে যাবে। পুনরায় ওই ফরজ নামাজ পড়ে নিতে হবে। (আদ-দুররুল মুখতার: ২/১২৮)

তবে মুসাফির যদি মসজিদে নামাজ পড়েন এবং সেখানে মসজিদের ইমাম নামাজ পড়ান যিনি মুসাফির নন, অথবা অন্য যে কোনো প্রেক্ষাপটে মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকিম ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন, তাহলে মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজগুলো চার রাকাতই আদায় করবেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুসাফির যদি মুকিমদের সাথে নামাজে শরিক হন তবে তিনি তাদের মত চার রাকাত নামাজ পড়বেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৩৮৪৯)

মসজিদের জামাতে বা মুকিমদের জামাতে অংশগ্রহণ করে মুসাফির ব্যক্তি মাসবুক হলে অর্থাৎ এক, দুই বা তিন রাকাত পেলে তাকে চার রাকাতই পড়তে হবে।

আবু মিজলায (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম, মুসাফির অবস্থায় যদি আমি মুকিমের পেছনে এক রাকাত পাই তাহলে করণীয় কী? জবাবে তিনি বললেন, মুকিমের মতো পূর্ণ নামাজ পড়বে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৪৩৮১)

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।