০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সহায়তায় পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে ইউক্রেন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সহায়তায় পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এমনই বিস্ফোরক দাবি তোলে রায়িশা। তবে মস্কোর এই দাবি ‘অবান্তর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ।

রাশিয়ার বিদেশি গোয়েন্দা সার্ভিসের (এসভিআর) দাবি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে। আর এমন চেষ্টা চললে চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা পুরোটাই ভেস্তে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ক্রেমলিন।

এসভিআর একই দিন সকালে অভিযোগ তোলে, লন্ডন ও প্যারিস কর্তৃপক্ষ গোপনে এমন ‘উপাদান, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি’ কিয়েভে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার সাহায্যে তাপ-পরমাণু ওয়ারহেড বহনকারী সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়।

তবে রাশিয়ার এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন এই অভিযোগকে রাশিয়ার পুরোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ বলে উল্লেখ করে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিয়োরহিই টাইখি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মিথ্যার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা রুশ কর্মকর্তারা আবারও পুরোনো সেই ভিত্তিহীন গল্প নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। ইউক্রেন অতীতে বহুবার এমন অবাস্তব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আবারও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাই, রাশিয়ার এই নোংরা ‘তথ্য বোমা’ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাতে।

এদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসভিআরের এসব অভিযোগকে আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতি ও মানদণ্ডের একটি ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি পুরো পরমাণু বিস্তাররোধ ব্যবস্থার জন্য হুমকি।

পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই তথ্য আমরা অবশ্যই বিবেচনায় নেবো ও চলমান আলোচনার সময় গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে রাশিয়া আলোচনার টেবিলে এই পরমাণু-অস্ত্র অভিযোগকেও নিজেদের পক্ষে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে।

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাগুলো এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে, কারণ দুই পক্ষই বিশেষ করে ভূখণ্ড-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চলতি বছরে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তিনবার বৈঠকে বসেছেন; চতুর্থ দফার আলোচনা সম্ভবত এ সপ্তাহেই হতে পারে।

রাশিয়ার উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিল ব্রিটিশ ও ফরাসি আইনপ্রণেতাদের প্রতি এসভিআরের এই পরমাণু অস্ত্র-সম্পর্কিত দাবির বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত চালু করার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন কাউন্সিল বলেছে, লন্ডন ও প্যারিস এ কথা অস্বীকার করতে পারে না যে, রাশিয়ার পারমাণবিক নীতিতে স্পষ্ট বলা আছে- পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সমর্থনে কোনো অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র আগ্রাসন চালালে, সেটিকে উভয় দেশের যৌথ হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সূত্র: দ্য মস্কো টাইমস, রয়টার্স

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ব্রুকের সেঞ্চুরিতে সেমিতে ইংল্যান্ড, বিদায়ের শঙ্কায় পাকিস্তান

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সহায়তায় পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে ইউক্রেন

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের সহায়তায় পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এমনই বিস্ফোরক দাবি তোলে রায়িশা। তবে মস্কোর এই দাবি ‘অবান্তর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ।

রাশিয়ার বিদেশি গোয়েন্দা সার্ভিসের (এসভিআর) দাবি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে। আর এমন চেষ্টা চললে চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা পুরোটাই ভেস্তে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ক্রেমলিন।

এসভিআর একই দিন সকালে অভিযোগ তোলে, লন্ডন ও প্যারিস কর্তৃপক্ষ গোপনে এমন ‘উপাদান, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি’ কিয়েভে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার সাহায্যে তাপ-পরমাণু ওয়ারহেড বহনকারী সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়।

তবে রাশিয়ার এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন এই অভিযোগকে রাশিয়ার পুরোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ বলে উল্লেখ করে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিয়োরহিই টাইখি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মিথ্যার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা রুশ কর্মকর্তারা আবারও পুরোনো সেই ভিত্তিহীন গল্প নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। ইউক্রেন অতীতে বহুবার এমন অবাস্তব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আবারও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাই, রাশিয়ার এই নোংরা ‘তথ্য বোমা’ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাতে।

এদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসভিআরের এসব অভিযোগকে আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতি ও মানদণ্ডের একটি ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি পুরো পরমাণু বিস্তাররোধ ব্যবস্থার জন্য হুমকি।

পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই তথ্য আমরা অবশ্যই বিবেচনায় নেবো ও চলমান আলোচনার সময় গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে রাশিয়া আলোচনার টেবিলে এই পরমাণু-অস্ত্র অভিযোগকেও নিজেদের পক্ষে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে।

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাগুলো এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে, কারণ দুই পক্ষই বিশেষ করে ভূখণ্ড-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চলতি বছরে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তিনবার বৈঠকে বসেছেন; চতুর্থ দফার আলোচনা সম্ভবত এ সপ্তাহেই হতে পারে।

রাশিয়ার উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিল ব্রিটিশ ও ফরাসি আইনপ্রণেতাদের প্রতি এসভিআরের এই পরমাণু অস্ত্র-সম্পর্কিত দাবির বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত চালু করার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন কাউন্সিল বলেছে, লন্ডন ও প্যারিস এ কথা অস্বীকার করতে পারে না যে, রাশিয়ার পারমাণবিক নীতিতে স্পষ্ট বলা আছে- পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সমর্থনে কোনো অ-পারমাণবিক রাষ্ট্র আগ্রাসন চালালে, সেটিকে উভয় দেশের যৌথ হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সূত্র: দ্য মস্কো টাইমস, রয়টার্স

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।