০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায়, সুরে সুরে শেষ শ্রদ্ধা আশা ভোঁসলেকে

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

ভারতীয় সংগীত জগতের প্রয়াত কিংবদন্তিতুল্য গায়িকা আশা ভোঁসলেকে হারানোর শোকে অনুরাগীরা মুহ্যমান। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে এই গুণী শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফদনাবিস।

গতকাল (১২ এপ্রিল) রোববার সন্ধ্যায় তার মরদেহ লোয়ার পারেলের বাসভবনে নেওয়া হয়। আজ (১৩ এপ্রিল) সোমবার সকাল ১১টা থেকে সেখানে সাধারণ মানুষসহ ভক্ত-অনুরাগীরা প্রিয় শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। কাচের কফিনে রাখা হয়েছে তার মরদেহ, যা ঢেকে দেওয়া হয়েছে ভারতের জাতীয় পতাকায়। প্রিয় গায়িকাকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে ‘গান স্যালুট’রও।

দুপুর ৩টা পর্যন্ত মরদেহ বাসভবনেই রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ বিদায়ের এই আবহে তার বাসভবনে বেজে চলেছে কালজয়ী গান-‘আও হুজুর তুমকো’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’, ‘ও সাথী রে’ ও মারাঠি গান ‘হি ওয়াত দূর যেতে’। প্রিয় শিল্পীকে একঝলক দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অগণিত ভক্ত-অনুরাগী। পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন বলিউডের বহু তারকাও।

এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিল। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি শিল্পী। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রতীত সামদানি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গজল থেকে ক্যাবারে-সংগীতের প্রতিটি ধারাতেই সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন আশা ভোঁসলে। সংগীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের সঙ্গে তার জুটি উপহার দিয়েছে ‘আও হুজুর তুমকো’র মতো জনপ্রিয় গান। আর আর. ডি. বর্মণের সুরে গাওয়া ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ আজও রোমান্টিক গানের অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুন:
আশা ভোঁসলের কথা শুনেই জীবনের সেরা সাফল্য পেয়েছেন রেখা 
যে শেষ ইচ্ছা ছিলো আশা ভোঁসলের 

‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইয়ে মেরা দিল’-এসব গান যেমন সংগীতের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে, তেমনি ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ ও ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’র মতো গানে তার ধ্রুপদী সুরের গভীরতা প্রমাণ করে, কেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন তিনি।

তার কণ্ঠ, তার সুর-সবকিছু মিলিয়ে সংগীতের আকাশে চিরঅম্লান হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।

এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

অনুমতি ছাড়া মক্কায় ঢুকতে পারবেন না প্রবাসীরা

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায়, সুরে সুরে শেষ শ্রদ্ধা আশা ভোঁসলেকে

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় সংগীত জগতের প্রয়াত কিংবদন্তিতুল্য গায়িকা আশা ভোঁসলেকে হারানোর শোকে অনুরাগীরা মুহ্যমান। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে এই গুণী শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফদনাবিস।

গতকাল (১২ এপ্রিল) রোববার সন্ধ্যায় তার মরদেহ লোয়ার পারেলের বাসভবনে নেওয়া হয়। আজ (১৩ এপ্রিল) সোমবার সকাল ১১টা থেকে সেখানে সাধারণ মানুষসহ ভক্ত-অনুরাগীরা প্রিয় শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। কাচের কফিনে রাখা হয়েছে তার মরদেহ, যা ঢেকে দেওয়া হয়েছে ভারতের জাতীয় পতাকায়। প্রিয় গায়িকাকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছে ‘গান স্যালুট’রও।

দুপুর ৩টা পর্যন্ত মরদেহ বাসভবনেই রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ বিদায়ের এই আবহে তার বাসভবনে বেজে চলেছে কালজয়ী গান-‘আও হুজুর তুমকো’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’, ‘ও সাথী রে’ ও মারাঠি গান ‘হি ওয়াত দূর যেতে’। প্রিয় শিল্পীকে একঝলক দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অগণিত ভক্ত-অনুরাগী। পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন বলিউডের বহু তারকাও।

এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিল। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি শিল্পী। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রতীত সামদানি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গজল থেকে ক্যাবারে-সংগীতের প্রতিটি ধারাতেই সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন আশা ভোঁসলে। সংগীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের সঙ্গে তার জুটি উপহার দিয়েছে ‘আও হুজুর তুমকো’র মতো জনপ্রিয় গান। আর আর. ডি. বর্মণের সুরে গাওয়া ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ আজও রোমান্টিক গানের অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুন:
আশা ভোঁসলের কথা শুনেই জীবনের সেরা সাফল্য পেয়েছেন রেখা 
যে শেষ ইচ্ছা ছিলো আশা ভোঁসলের 

‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইয়ে মেরা দিল’-এসব গান যেমন সংগীতের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে, তেমনি ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ ও ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’র মতো গানে তার ধ্রুপদী সুরের গভীরতা প্রমাণ করে, কেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন তিনি।

তার কণ্ঠ, তার সুর-সবকিছু মিলিয়ে সংগীতের আকাশে চিরঅম্লান হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।

এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।