ঈদের আমেজে যখন পুরো দেশ উৎসবমুখর, তখন মাঠের লড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তবে জাতীয় দল ও ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য পাঁচ তারকা হোটেলের রাজকীয় ব্যবস্থা থাকলেও, নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের ঠাঁই হয়েছে বাফুফে ভবনে। বাফুফের এই দ্বিমুখী আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারী দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার।
থাইল্যান্ডে এশিয়ান কাপের মিশন শুরু করার আগে বাফুফের এক ভিডিও বার্তায় সরাসরি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাটলার। ছেলেদের গুলশানের বিলাসবহুল ‘হোটেল রেনেসাঁ’য় রাখার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমরা এখন রেনেসাঁয় বসে স্টেক বা ভালো মানের সবজি খাচ্ছি না। কিন্তু আমরা মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। মাঠের ফলে যাই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছি।’
বাটলারের এমন মন্তব্যে স্পষ্ট যে, সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ দলের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য তাকে ব্যথিত করেছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করে যেখানে ইতিহাস গড়েছে আফঈদা-মিলিরা, সেখানে তাদের এমন সাদামাটা পরিবেশে রাখার বিষয়টি ফুটবলপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টুর্নামেন্টে কঠিন গ্রুপে (উজবেকিস্তান, চীন ও উত্তর কোরিয়া) পড়ে বাংলাদেশ বিদায় নিলেও গোলরক্ষক মিলি আক্তারের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ১১ গোল হজম করলেও একের পর এক দুর্দান্ত সেভে নজর কেড়েছেন তিনি।
কোচ বাটলারের ভাষায়, ‘আমার চোখে এই মেয়েরাই দেশের চ্যাম্পিয়ন। প্রথমবারের মতো তারা এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করে প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেছে। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। খুব অল্প সময়ে তারা দারুণ প্রশিক্ষণ নিয়েছে।’
আজ সকালে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে অনূর্ধ্ব’২০ নারী ফুটবল দল। একই সময়ে জাতীয় দল পৌঁছে গেছে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটিও ফুটবলারদের কাটছে বিদেশের মাটিতে, খেলার প্রস্তুতিতে। হ্যানয় থেকে জামাল ভূঁইয়া ও শমিত শোমরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারী ফুটবলার আফঈদা খন্দকারও।।
এসকেডি/এমএস
এডমিন 


















