০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামের টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • 4

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে বা এর জটিলতায় মারা গেছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। এখনও তিল ধারণের ঠাঁই নেই রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। পরিস্থিতির ভয়াবহ। হামের টিকার ঘাটতি, টিকা কর্মসূচি বিঘ্ন এবং ক্ষেত্র বিশেষে অপুষ্টির দায় দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামে আক্রান্ত হয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এখানে চলতি মাসে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রোববারই (২৯ মার্চ) মারা গেছে তিনজন। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয়জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য যুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, হামে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের সেবায় নিয়োজিত অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ

দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হামের রোগী বাড়তে শুরু করলেও মার্চ মাসে তা হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

মহাখালীর আইডিএইচ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী এখানে এসেছে, যেখানে গত বছর ছিল মাত্র ৬৯ জন। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৪৪৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

আরও পড়ুন
হামের সংক্রমণ ঠেকাতে যে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যশোরে মার্চে হামের ১০ রোগী শনাক্ত, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ
হামের ঝুঁকিতে স্কুলপড়ুয়া শিশু, অভিভাবকদের করণীয়

টিকা না নেওয়াই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই হামের টিকাবঞ্চিত। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে বিশেষ ক্যাম্পেইনের দীর্ঘ বিরতি, গত বছর কর্মসূচি বিঘ্ন এবং অর্থসংকট—এসব কারণে ঝুঁকি বেড়েছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, দেশে হামের টিকা কাভারেজ ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ হলেও প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে কয়েক বছর পরপর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

২০২০ সালের পর আর কোনো বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। ২০২৪ সালে পরিকল্পনা থাকলেও দেশের পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে অন্তত তিন দফায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের পাশে অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ 

জটিলতায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম নিজেই মারাত্মক হলেও এর জটিলতাই মৃত্যুর প্রধান কারণ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হচ্ছে। অপুষ্ট শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকায় গত বছর ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক কর্মসূচি না হওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

অস্বাভাবিক বয়সের রোগী

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এবার ছয় মাসের কম বয়সী অনেক শিশুও হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়। সাধারণত নয় মাসের পর টিকা দেওয়ার আগে এ বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ কম দেখা যায়।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৪ মাস বয়সী শিশুকেও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত পাওয়া গেছে।

রোববার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চার মাসের সন্তান আয়ানকে নিয়ে রাজধানীর কড়াইলের এরশাদ নগর থেকে এসেছেন মনির হোসেন ফাহিম। জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে হয়েছে ঠান্ডা জ্বর। ১৫-২০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও ভালো হয়নি। রেশ হয়ে গেছে। পরে আইইডিসিআরে (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) গেলাম। সেখান থেকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এসেছি। তারা বলছে, হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এরপর এখানে ভর্তি করালাম।’

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকেরা, ছবি: মাহবুব আলম

হাসপাতালগুলোতে চাপ

রোগীর চাপ সামলাতে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহাখালীর আইডিএইচে কিছুদিন আগেও করিডোর ও সিঁড়িতে রোগী রাখতে দেখা গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন ৮৫ জন ভর্তি আছে। যার মধ্যে ১৭ জন আছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ মাসেই ১০৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যদিও মৃত্যুগুলো হয়েছে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। নোয়াখালীতেও গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন
হামে মারা গেলো পাঁচশিশু, উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা
সিলেটে বাড়ছে হাম আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি ২০
হু হু করে বাড়ছে হামের রোগী, ভোগাচ্ছে অবকাঠামো-জনবল সংকট

টিকা সংকট ও উদ্যোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং মাঠপর্যায়ে এক মাসের মতো সরবরাহ রয়েছে। তবে ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য টিকা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল আজহার আগেই তা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, হাম বর্তমানে শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় টিকা নেয়নি তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে কিছু ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যেও এ রোগ শনাক্ত হচ্ছে। রোগের শুরুতে সাধারণত জ্বর থাকে তিন-চার দিন। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (র‍্যাশ) দেখা দেয়। এর সঙ্গে তীব্র শরীর ব্যথা, বমি ভাব, খেতে না পারা—এসব উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে সর্দি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, হুট করে হাম সংক্রমণ বাড়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। ৯ মাস পরে ও ১৬ মাসে হামের টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের মা-বাবাদের টিকা দেওয়ার প্রতি অনীহা আছে। এছাড়া টিকাদান কেন্দ্রে সমস্যা আছে। সব জায়গায় টিকা থাকে না। আবার শিশুদের সর্দি-কাশি থাকলেও টিকা দেয় না। পরে অনেকে আর বাচ্চাদের নিয়ে যান না, গেলে পান না এমন জটিলতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় বছর পরপর এরকম প্রকোপ বাড়ে। যার কারণে সরকার থেকে পাঁচ বছর পরপর বুস্টার দেওয়া হয়। ২০২০ সালে দেওয়া হয়েছে। গত বছর দেওয়ার কথা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়ত বুঝেনি। তারা সে আয়োজন করেনি।

আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তিন মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু
রাজশাহী বিভাগে হামের প্রকোপ, মার্চেই আক্রান্ত ৭৭ মৃত্যু ৩
শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম, জানুন ঝুঁকি ও সুরক্ষার উপায়

ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের লক্ষ্মণ মূলত জ্বর ও রেশ। কিন্তু অনেক বাচ্চা রেশ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু তাদের হাম না। ছোট বাচ্চাদেরও হচ্ছে। সাধারণত ছয় মাসের ওপরে বাচ্চাদের হাম হয়। কিন্তু এবার আরও ছোটদেরও হচ্ছে। এই হাম চরম সংক্রামক। হাঁচি-কাশিতে ছড়ায়। এবারের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক। ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া হতে পারে। পেটে বা লিভারে ইনফেকশন হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যায়। যক্ষ্মা পর্যন্ত দেখা দেয়।

তিনি বলেন, বাবা-মা প্রতিবেশীদের প্রতি পরামর্শ হলো- জ্বর বা রেশ হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠাবেন। আক্রান্ত শিশুকে অন্য বাচ্চা থেকে আলাদা রাখতে হবে। খারাপ হলে উচ্চতর কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ছবি: পিআইডি

সরকারের তরফ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

রোববার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক স্থানেই গত ১৫ দিনে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তবে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ সব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালেও হাম কর্নার করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হামের এই সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।

এসইউজে/এমএমএআর

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

হামের টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে বা এর জটিলতায় মারা গেছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। এখনও তিল ধারণের ঠাঁই নেই রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। পরিস্থিতির ভয়াবহ। হামের টিকার ঘাটতি, টিকা কর্মসূচি বিঘ্ন এবং ক্ষেত্র বিশেষে অপুষ্টির দায় দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামে আক্রান্ত হয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এখানে চলতি মাসে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রোববারই (২৯ মার্চ) মারা গেছে তিনজন। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয়জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য যুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা ৫০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, হামে মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের সেবায় নিয়োজিত অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ

দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হামের রোগী বাড়তে শুরু করলেও মার্চ মাসে তা হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

মহাখালীর আইডিএইচ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী এখানে এসেছে, যেখানে গত বছর ছিল মাত্র ৬৯ জন। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৪৪৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

আরও পড়ুন
হামের সংক্রমণ ঠেকাতে যে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যশোরে মার্চে হামের ১০ রোগী শনাক্ত, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ
হামের ঝুঁকিতে স্কুলপড়ুয়া শিশু, অভিভাবকদের করণীয়

টিকা না নেওয়াই বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই হামের টিকাবঞ্চিত। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে বিশেষ ক্যাম্পেইনের দীর্ঘ বিরতি, গত বছর কর্মসূচি বিঘ্ন এবং অর্থসংকট—এসব কারণে ঝুঁকি বেড়েছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, দেশে হামের টিকা কাভারেজ ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ হলেও প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে কয়েক বছর পরপর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

২০২০ সালের পর আর কোনো বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। ২০২৪ সালে পরিকল্পনা থাকলেও দেশের পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে অন্তত তিন দফায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের পাশে অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ 

জটিলতায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম নিজেই মারাত্মক হলেও এর জটিলতাই মৃত্যুর প্রধান কারণ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হচ্ছে। অপুষ্ট শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকায় গত বছর ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক কর্মসূচি না হওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

অস্বাভাবিক বয়সের রোগী

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এবার ছয় মাসের কম বয়সী অনেক শিশুও হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক নয়। সাধারণত নয় মাসের পর টিকা দেওয়ার আগে এ বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ কম দেখা যায়।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৪ মাস বয়সী শিশুকেও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত পাওয়া গেছে।

রোববার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চার মাসের সন্তান আয়ানকে নিয়ে রাজধানীর কড়াইলের এরশাদ নগর থেকে এসেছেন মনির হোসেন ফাহিম। জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে হয়েছে ঠান্ডা জ্বর। ১৫-২০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও ভালো হয়নি। রেশ হয়ে গেছে। পরে আইইডিসিআরে (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) গেলাম। সেখান থেকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এসেছি। তারা বলছে, হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এরপর এখানে ভর্তি করালাম।’

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকেরা, ছবি: মাহবুব আলম

হাসপাতালগুলোতে চাপ

রোগীর চাপ সামলাতে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহাখালীর আইডিএইচে কিছুদিন আগেও করিডোর ও সিঁড়িতে রোগী রাখতে দেখা গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন ৮৫ জন ভর্তি আছে। যার মধ্যে ১৭ জন আছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ মাসেই ১০৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন মারা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যদিও মৃত্যুগুলো হয়েছে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। নোয়াখালীতেও গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন
হামে মারা গেলো পাঁচশিশু, উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা
সিলেটে বাড়ছে হাম আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি ২০
হু হু করে বাড়ছে হামের রোগী, ভোগাচ্ছে অবকাঠামো-জনবল সংকট

টিকা সংকট ও উদ্যোগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং মাঠপর্যায়ে এক মাসের মতো সরবরাহ রয়েছে। তবে ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য টিকা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল আজহার আগেই তা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

সংক্রামণ ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা, ছবি: জাগো নিউজ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, হাম বর্তমানে শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যারা ছোটবেলায় টিকা নেয়নি তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে কিছু ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যেও এ রোগ শনাক্ত হচ্ছে। রোগের শুরুতে সাধারণত জ্বর থাকে তিন-চার দিন। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (র‍্যাশ) দেখা দেয়। এর সঙ্গে তীব্র শরীর ব্যথা, বমি ভাব, খেতে না পারা—এসব উপসর্গ থাকতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে সর্দি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, হুট করে হাম সংক্রমণ বাড়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। ৯ মাস পরে ও ১৬ মাসে হামের টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের মা-বাবাদের টিকা দেওয়ার প্রতি অনীহা আছে। এছাড়া টিকাদান কেন্দ্রে সমস্যা আছে। সব জায়গায় টিকা থাকে না। আবার শিশুদের সর্দি-কাশি থাকলেও টিকা দেয় না। পরে অনেকে আর বাচ্চাদের নিয়ে যান না, গেলে পান না এমন জটিলতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় বছর পরপর এরকম প্রকোপ বাড়ে। যার কারণে সরকার থেকে পাঁচ বছর পরপর বুস্টার দেওয়া হয়। ২০২০ সালে দেওয়া হয়েছে। গত বছর দেওয়ার কথা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়ত বুঝেনি। তারা সে আয়োজন করেনি।

আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, তিন মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু
রাজশাহী বিভাগে হামের প্রকোপ, মার্চেই আক্রান্ত ৭৭ মৃত্যু ৩
শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হাম, জানুন ঝুঁকি ও সুরক্ষার উপায়

ডা. এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের লক্ষ্মণ মূলত জ্বর ও রেশ। কিন্তু অনেক বাচ্চা রেশ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু তাদের হাম না। ছোট বাচ্চাদেরও হচ্ছে। সাধারণত ছয় মাসের ওপরে বাচ্চাদের হাম হয়। কিন্তু এবার আরও ছোটদেরও হচ্ছে। এই হাম চরম সংক্রামক। হাঁচি-কাশিতে ছড়ায়। এবারের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক। ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া হতে পারে। পেটে বা লিভারে ইনফেকশন হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যায়। যক্ষ্মা পর্যন্ত দেখা দেয়।

তিনি বলেন, বাবা-মা প্রতিবেশীদের প্রতি পরামর্শ হলো- জ্বর বা রেশ হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠাবেন। আক্রান্ত শিশুকে অন্য বাচ্চা থেকে আলাদা রাখতে হবে। খারাপ হলে উচ্চতর কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক, টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ছবি: পিআইডি

সরকারের তরফ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

রোববার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক স্থানেই গত ১৫ দিনে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। তবে আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ সব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালেও হাম কর্নার করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হামের এই সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।

এসইউজে/এমএমএআর