• নারী অভিবাসন ২০২৫ সালে ২০২২-এর তুলনায় কমেছে ৪০.৯ শতাংশ
২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৭ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী শ্রমিক। এটি আগের বছর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিলে ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এ প্রবৃদ্ধি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী।
এসময় ফটোগ্রাফার ও লেখক ড. শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ রাশেদ আলম, রামরুর মেরিনা সুলাতানা, রোকেয়া নাসরিন, মাহমুদুল হাসানসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, তার পরিসংখ্যান থাকলেও প্রতিবছর কর্মচুক্তি শেষ করে কতজন অভিবাসী দেশে ফিরে আসছেন—সে তথ্য আজও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রত্যাবর্তিত কর্মীদের তথ্য সংগ্রহে সমঝোতার কথা জানানো হলেও বাস্তবে এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিদেশে কতজন বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছেন, তার সঠিক হিসাবও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে গেছেন, তার পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর কর্মচুক্তি শেষ হয়ে কতজন দেশে ফিরে আসছেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলিতভাবে প্রত্যাবর্তিত শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহে সমঝোতার কথা জানিয়েছিল, তবে বাস্তবে এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে বিদেশে কতজন বাংলাদেশি শ্রমিক অবস্থান করছেন, তার সঠিক হিসাবও অনিশ্চিত রয়েছে।
নারী অভিবাসনে উদ্বেগজনক নিম্নমুখী প্রবণতা
নারী অভিবাসনের চিত্র তুলে ধরে তাসনিম সিদ্দিকী জানান, ২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী, যা মোট অভিবাসীর মাত্র প্রায় ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১৫৮ জন, অর্থাৎ এক বছরে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে মাত্র ১.৯ শতাংশ।
তিনি বলেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট শ্রম অভিবাসনের ১৬ শতাংশই নারী ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এক লাখের বেশি নারী বিদেশে গেছেন। যদিও করোনাকালে দুই বছরের জন্য এ সংখ্যা কমে যায়। ২০২২ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৬ জনে। তবে ২০২৩ সাল থেকে নারী অভিবাসীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নারী অভিবাসনের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ।
রামরুর গবেষণার বরাতে তিনি বলেন, গত তিন বছরে নারী অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশে শোভন কর্মপরিবেশের অনিশ্চয়তা, কর্মস্থলে এবং গৃহের অভ্যন্তরে নারীর প্রতি সহিংসতা নারী অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি নারী অভিবাসন নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদনের আধিক্য এবং ইতিবাচক সাফল্যের গল্প উপেক্ষিত হওয়াও বড় ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় গার্মেন্টস শিল্পে ৯০ শতাংশ কর্মী ছিলেন নারী। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নারীর অংশগ্রহণ কমে এখন প্রায় ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে এর জন্য দায়ী করা হলেও, রক্ষণশীল পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নারীর ঘরের বাইরে কাজের সুযোগকে আবারও সীমিত করছে কি না—তা গবেষণার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইএআর/এমএএইচ/জেআইএম
এডমিন 














