১০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দোমড়ানো–মোচড়ানো ছবি আর যত সব হারানো ঠিকানা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • 12

(সিলভিয়া
প্লাথের
জন্য)

সিলভিয়া,
সিলভিয়া,
পাথর
আর
চামচবোঝাই
একটা
মৃত
বাক্স
সাথে
নিয়ে
দুটো
ছেলেমেয়ে
নিয়ে—দুটো
উল্কা
একটা
ছোট
খেলার
ঘরে
বাঁধনছাড়া
ঘুরে
বেড়াচ্ছে,
বিছানার
চাদরে
তোমার
মুখ,
কড়িকাঠে
তোমার
মুখ,
তোমার
মুখ
মূঢ়
প্রার্থনায়,
(সিলভিয়া,
সিলভিয়া
ডেভনশায়ার
থেকে
সেই
আলু
আর
মৌমাছির
চাষ
করবে
বলে
লিখবার
পর
কোথায়
গেলে
তুমি?)
কিসের
জন্য
দাঁড়িয়েছিলে?
ঠিক
কীভাবে
শুয়ে
পড়েছিলে?
চোর—
কীভাবে
তুমি
হামাগুড়ি
দিয়ে
ঢুকে
গেলে,
একা
একা
হামাগুড়ি
দিয়ে
মৃত্যুর
ভিতর,
যে
মৃত্যু
আমি
এত
বেশি
করে
চেয়েছিলাম,
চেয়েছিলাম
এত
দিন
ধরে,
সেই
মৃত্যু
যা
কিনা
ভেবেছিলাম
বয়স
বাড়বার
সাথে
সাথে
আমরা
দুজনই
পেছনে
ফেলে
এসেছি,
এই
সেই
মৃত্যু
যাকে
আমরা
আমাদের
রোগা
প্যাকাটি
শরীরের
স্তনের
ওপর
ঝুলিয়ে
ঘুরতাম,
এই
সেই
মৃত্যু
যার
কথা
আমরা
এতবার
বলেছি,
যতবারই
বোস্টনে
তিনটা
এক্সট্রা
ড্রাই
মার্টিনি
গলায়
ঢেলেছি,
সেই
মৃত্যু
যা
মানসিক
রোগ
বিশ্লেষক
আর
চিকিৎসার
কথা
বলত,
সেই
মৃত্যু
যা
কথা
বলত
ষড়যন্ত্রকারী
নতুন
বউয়ের
মতো
করে,
যে
মৃত্যুর
কথা
ভেবে
আমরা
পান
করেছিলাম,
মৃত্যুর
উদ্দেশ্য
আর
তারপর
তার
নীরব
দলিল?
(বোস্টনে
মরতে
বসা
লোকগুলো
ক্যাব
চড়ে
যায়,
হ্যাঁ,
আবার
মৃত্যু,
যে
কিনা
আমাদের
প্রেমিকের
সাথে
বাড়ি
ফেরে।)
ওহ্‌,
সিলভিয়া,
আমার
সেই
ঘুম
ঘুম
চোখের
ড্রামারকে
মনে
আছে
এক
পুরোনো
গল্প
বলে
যে
চোখের
পাতায়
ঘুম
এনেছিল,
আমরা
কী
ভীষণই
না
চাইতাম
যে

আসুক,
স্যাডিস্টের
মতো
কিংবা
নিউইয়র্কের
পরির
মতো
ওর
কাজটুকু
করবার
জন্য,
যেন
বড়
বেশি
প্রয়োজন
তাকে
আমাদের,
সংকীর্ণ
জায়গায়
কিংবা
দেয়ালের
গায়ে
জানালার
মতো,
সেই
সময়
থেকে

অপেক্ষা
করছে
আমাদের
হৃৎপিণ্ডের
নিচে,
আমাদের
আলমারির
নিচে,
আর
এখন
দেখতে
পাচ্ছি
যে
আমরা
তাকে
বছরের
পর
বছর
ভান্ডারে
জমিয়ে
রেখেছি,
পুরোনো
সব
আত্মহত্যা
আর
আমি
জানি
তোমার
মৃত্যুর
খবরে
এক
চরম
তিক্ত
স্বাদ
তার,
চোখের
জলে
লবণের
মতো,
(আর
আমি,
আমিও।
আর
এখন,
সিলভিয়া,
আবারও
তুমি,
মৃত্যুর
সাথে
আবারও,
সেই
বাড়ি
ফিরে
আসা
আমাদের
প্রেমিকের
সাথে।)
আর
আমি
ওই
পাথুরে
কবরের
দিকে
আমার
হাতগুলো
বাড়িয়ে
দিয়ে
কেবল
বলি,
তোমার
মৃত্যুটা
আসলে
কী?
তা
শুধু
এক
ফেলে
আসা
পুরোনো
সম্পর্ক।
তোমার
মৃত্যু
তোমারই
কোনো
একটা
কবিতা
থেকে
ঝরে
পড়া
তিল?
(ওহ্‌
বন্ধু,
যতক্ষণ
চাঁদটা
বিচ্ছিরিভাবে
ঝুলে
আছে,
আর
রাজা
চলে
গেছে,
হতভম্ব
রানি
পানঘরের
মাছিটারও
গান
তো
গেয়ে
যেতেই
হবে!)
ওগো
ছোট্ট
এক
মা,
তুমিও!
ওগো
অদ্ভুত
হল্যান্ডবাসিনী!
ওগো
সোনালি
চুলের
মেয়ে!

[‘সিলভিয়াস
ডেথ’
কবিতাটি
‘লাইভ
অর
ডাই’
(১৯৬৬)
বই
থেকে
নেওয়া।
সিলভিয়া
প্লাথ
আত্মহত্যা
করার
ছয়
দিন
পর
১৯৬৩
সালের
১৭
ফেব্রুয়ারি
কবিতাটি
লেখা
হয়।]

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

দোমড়ানো–মোচড়ানো ছবি আর যত সব হারানো ঠিকানা

আপডেট সময়ঃ ১২:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

(সিলভিয়া
প্লাথের
জন্য)

সিলভিয়া,
সিলভিয়া,
পাথর
আর
চামচবোঝাই
একটা
মৃত
বাক্স
সাথে
নিয়ে
দুটো
ছেলেমেয়ে
নিয়ে—দুটো
উল্কা
একটা
ছোট
খেলার
ঘরে
বাঁধনছাড়া
ঘুরে
বেড়াচ্ছে,
বিছানার
চাদরে
তোমার
মুখ,
কড়িকাঠে
তোমার
মুখ,
তোমার
মুখ
মূঢ়
প্রার্থনায়,
(সিলভিয়া,
সিলভিয়া
ডেভনশায়ার
থেকে
সেই
আলু
আর
মৌমাছির
চাষ
করবে
বলে
লিখবার
পর
কোথায়
গেলে
তুমি?)
কিসের
জন্য
দাঁড়িয়েছিলে?
ঠিক
কীভাবে
শুয়ে
পড়েছিলে?
চোর—
কীভাবে
তুমি
হামাগুড়ি
দিয়ে
ঢুকে
গেলে,
একা
একা
হামাগুড়ি
দিয়ে
মৃত্যুর
ভিতর,
যে
মৃত্যু
আমি
এত
বেশি
করে
চেয়েছিলাম,
চেয়েছিলাম
এত
দিন
ধরে,
সেই
মৃত্যু
যা
কিনা
ভেবেছিলাম
বয়স
বাড়বার
সাথে
সাথে
আমরা
দুজনই
পেছনে
ফেলে
এসেছি,
এই
সেই
মৃত্যু
যাকে
আমরা
আমাদের
রোগা
প্যাকাটি
শরীরের
স্তনের
ওপর
ঝুলিয়ে
ঘুরতাম,
এই
সেই
মৃত্যু
যার
কথা
আমরা
এতবার
বলেছি,
যতবারই
বোস্টনে
তিনটা
এক্সট্রা
ড্রাই
মার্টিনি
গলায়
ঢেলেছি,
সেই
মৃত্যু
যা
মানসিক
রোগ
বিশ্লেষক
আর
চিকিৎসার
কথা
বলত,
সেই
মৃত্যু
যা
কথা
বলত
ষড়যন্ত্রকারী
নতুন
বউয়ের
মতো
করে,
যে
মৃত্যুর
কথা
ভেবে
আমরা
পান
করেছিলাম,
মৃত্যুর
উদ্দেশ্য
আর
তারপর
তার
নীরব
দলিল?
(বোস্টনে
মরতে
বসা
লোকগুলো
ক্যাব
চড়ে
যায়,
হ্যাঁ,
আবার
মৃত্যু,
যে
কিনা
আমাদের
প্রেমিকের
সাথে
বাড়ি
ফেরে।)
ওহ্‌,
সিলভিয়া,
আমার
সেই
ঘুম
ঘুম
চোখের
ড্রামারকে
মনে
আছে
এক
পুরোনো
গল্প
বলে
যে
চোখের
পাতায়
ঘুম
এনেছিল,
আমরা
কী
ভীষণই
না
চাইতাম
যে

আসুক,
স্যাডিস্টের
মতো
কিংবা
নিউইয়র্কের
পরির
মতো
ওর
কাজটুকু
করবার
জন্য,
যেন
বড়
বেশি
প্রয়োজন
তাকে
আমাদের,
সংকীর্ণ
জায়গায়
কিংবা
দেয়ালের
গায়ে
জানালার
মতো,
সেই
সময়
থেকে

অপেক্ষা
করছে
আমাদের
হৃৎপিণ্ডের
নিচে,
আমাদের
আলমারির
নিচে,
আর
এখন
দেখতে
পাচ্ছি
যে
আমরা
তাকে
বছরের
পর
বছর
ভান্ডারে
জমিয়ে
রেখেছি,
পুরোনো
সব
আত্মহত্যা
আর
আমি
জানি
তোমার
মৃত্যুর
খবরে
এক
চরম
তিক্ত
স্বাদ
তার,
চোখের
জলে
লবণের
মতো,
(আর
আমি,
আমিও।
আর
এখন,
সিলভিয়া,
আবারও
তুমি,
মৃত্যুর
সাথে
আবারও,
সেই
বাড়ি
ফিরে
আসা
আমাদের
প্রেমিকের
সাথে।)
আর
আমি
ওই
পাথুরে
কবরের
দিকে
আমার
হাতগুলো
বাড়িয়ে
দিয়ে
কেবল
বলি,
তোমার
মৃত্যুটা
আসলে
কী?
তা
শুধু
এক
ফেলে
আসা
পুরোনো
সম্পর্ক।
তোমার
মৃত্যু
তোমারই
কোনো
একটা
কবিতা
থেকে
ঝরে
পড়া
তিল?
(ওহ্‌
বন্ধু,
যতক্ষণ
চাঁদটা
বিচ্ছিরিভাবে
ঝুলে
আছে,
আর
রাজা
চলে
গেছে,
হতভম্ব
রানি
পানঘরের
মাছিটারও
গান
তো
গেয়ে
যেতেই
হবে!)
ওগো
ছোট্ট
এক
মা,
তুমিও!
ওগো
অদ্ভুত
হল্যান্ডবাসিনী!
ওগো
সোনালি
চুলের
মেয়ে!

[‘সিলভিয়াস
ডেথ’
কবিতাটি
‘লাইভ
অর
ডাই’
(১৯৬৬)
বই
থেকে
নেওয়া।
সিলভিয়া
প্লাথ
আত্মহত্যা
করার
ছয়
দিন
পর
১৯৬৩
সালের
১৭
ফেব্রুয়ারি
কবিতাটি
লেখা
হয়।]