১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন নিয়ে আস্থা ফেরাতে ইসির কার্যকর ভূমিকা চায় এনসিপি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • 4

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় ও আস্থাহীনতা দূর করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তফসিলের পরের দিন আমরা দেখেছি যে একজন চিহ্নিত আসামী যিনি জামিনে বের হয়েছিলেন, কিছুদিন আগে তার হাতে আমাদের একজন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন এবং এর ফলেই কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে সংখ্যাটা মানুষের মনে আরো বেশি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সেভাবে দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও নির্বাচন কেন্দ্রিক আমরা লক্ষ্য করতে পারছি না। আগে যেরকম ছিল সেরকমই দেখা যাচ্ছে। আমরা এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেও এই কনসার্নটা জানিয়েছি যে মাঠ পর্যায়ে আরো বেশি উপস্থিতি এবং আরো একটিভ কার্যক্রমে তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে হবে। একই সাথে এই যে সন্ত্রাসীরা এখনো খোলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে কঠোর দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি মানুষের এই কনফিডেন্সটা আবার তারা ফিরিয়ে আনতে চান, যে নির্বাচনটা সুষ্ঠভাবে হচ্ছে এবং নির্বাচনটা আসলে সঠিক সময় হচ্ছে, তাহলে এই কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো দেখতে চাচ্ছি আমরা এখনো নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সদিচ্ছা। তারা যে পক্ষপাতিত্ব মুক্তভাবে কাজ করছেন এই বিষয়ে তারা আমাদেরকে আস্থা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অবশ্যই আমরা তাদের কাজের মাধ্যমে তাদের কথার মাধ্যমে না, তাদের কাজের মাধ্যমেই আমাদের আস্থা ফিরবে কি ফিরবে না সেটা আমরা দেখব। তবে আমরা যদি দেখি যে তারা কোনো ভাবে এই নির্বাচনকে একতরফা কোন একটা নির্বাচন আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন যেটা আমরা আমরা ইতুপূর্বেই সংখ্যা প্রকাশ করেছি, যে একটা পার্টির পলিটিক্যাল অফিসের দিকে আমরা দেখছি, যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তারা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া শুরু করেছেন। এই বিষয়গুলো যদি এভাবেই চলতে থাকে এবং আমরা যদি দেখি বাংলাদেশে আরো একটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হচ্ছে তাহলে অবশ্যই তখন আমাদেরকে রাজপথ বেছে নিতে হবে। ভোটাধিকার যেটা বিগত তিনটা নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, আমরা নিশ্চিত করব। সেটা আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চিত করার। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামবো।

আপনি কি একটু বলবেন যে কোন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটা দলের প্রধানের সাথে দেখা করেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে এন এস আই প্রধান, তিনি একটা দলের প্রধানের সাথে পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাত করেছেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করার বিষয় থাকে সেটা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা হয়তো সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিন্তু সেটা পার্টি অফিসে যাওয়াটা আমাদের জন্য অসনি সংকেত বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক এটাও আমরা নিয়ম বহির্ভূত এবং এটাও এই নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে একটা সরকার তৈরি করছে।

পঞ্চগড়-১ আসনে (সারজিস আলম) আপনাদের দলের প্রার্থীর হলফনামা এবং রিটার্ন যে সম্পদের তথ্য বিবরণ আছে তাতে গড়মিল আছে-এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে আসিফ মাহমুদ বলেন, আয়কর রিটার্নটা জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই ছয় মাসে প্রার্থীর যে আয়টা আছে সে আয়ের পার্থক্য কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা। ছয় মাস আগে আপনার আয় আর আজকে আপনার আয়তো এক হওয়ার কথা না। এর আগেও যে এনসিপির যারা প্রার্থী আছেন এনসিপির যারা নেতা আছেন তাদের বিষয়ে নিউজগুলো খুব ফুলিয়ে এবং এটাকে ভিন্নভাবে উত্থাপনের একটা চেষ্টা আমরা দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসীবাদের সহযোগী ছিল। আমাদের চাইনা তারা নির্বাচনে থাকুক, কমিশনকে এই কথা বলেছি। আমরা আগেও বলেছি তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে পুনর্বাসন চাইনা। কমিশন বলেছে তারা আইনের মধ্য থেকে বিধিবদ্ধভাবে ব্যবস্থা নেবে।

মাসুম/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

নির্বাচন নিয়ে আস্থা ফেরাতে ইসির কার্যকর ভূমিকা চায় এনসিপি

আপডেট সময়ঃ ১২:০০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় ও আস্থাহীনতা দূর করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।

নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তফসিলের পরের দিন আমরা দেখেছি যে একজন চিহ্নিত আসামী যিনি জামিনে বের হয়েছিলেন, কিছুদিন আগে তার হাতে আমাদের একজন সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন এবং এর ফলেই কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে সংখ্যাটা মানুষের মনে আরো বেশি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সেভাবে দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও নির্বাচন কেন্দ্রিক আমরা লক্ষ্য করতে পারছি না। আগে যেরকম ছিল সেরকমই দেখা যাচ্ছে। আমরা এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেও এই কনসার্নটা জানিয়েছি যে মাঠ পর্যায়ে আরো বেশি উপস্থিতি এবং আরো একটিভ কার্যক্রমে তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে হবে। একই সাথে এই যে সন্ত্রাসীরা এখনো খোলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে কঠোর দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি মানুষের এই কনফিডেন্সটা আবার তারা ফিরিয়ে আনতে চান, যে নির্বাচনটা সুষ্ঠভাবে হচ্ছে এবং নির্বাচনটা আসলে সঠিক সময় হচ্ছে, তাহলে এই কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো দেখতে চাচ্ছি আমরা এখনো নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সদিচ্ছা। তারা যে পক্ষপাতিত্ব মুক্তভাবে কাজ করছেন এই বিষয়ে তারা আমাদেরকে আস্থা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অবশ্যই আমরা তাদের কাজের মাধ্যমে তাদের কথার মাধ্যমে না, তাদের কাজের মাধ্যমেই আমাদের আস্থা ফিরবে কি ফিরবে না সেটা আমরা দেখব। তবে আমরা যদি দেখি যে তারা কোনো ভাবে এই নির্বাচনকে একতরফা কোন একটা নির্বাচন আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন যেটা আমরা আমরা ইতুপূর্বেই সংখ্যা প্রকাশ করেছি, যে একটা পার্টির পলিটিক্যাল অফিসের দিকে আমরা দেখছি, যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তারা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া শুরু করেছেন। এই বিষয়গুলো যদি এভাবেই চলতে থাকে এবং আমরা যদি দেখি বাংলাদেশে আরো একটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হচ্ছে তাহলে অবশ্যই তখন আমাদেরকে রাজপথ বেছে নিতে হবে। ভোটাধিকার যেটা বিগত তিনটা নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, আমরা নিশ্চিত করব। সেটা আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চিত করার। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামবো।

আপনি কি একটু বলবেন যে কোন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটা দলের প্রধানের সাথে দেখা করেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে এন এস আই প্রধান, তিনি একটা দলের প্রধানের সাথে পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাত করেছেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করার বিষয় থাকে সেটা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা হয়তো সাক্ষাৎ করতে পারেন। কিন্তু সেটা পার্টি অফিসে যাওয়াটা আমাদের জন্য অসনি সংকেত বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক এটাও আমরা নিয়ম বহির্ভূত এবং এটাও এই নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে একটা সরকার তৈরি করছে।

পঞ্চগড়-১ আসনে (সারজিস আলম) আপনাদের দলের প্রার্থীর হলফনামা এবং রিটার্ন যে সম্পদের তথ্য বিবরণ আছে তাতে গড়মিল আছে-এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে আসিফ মাহমুদ বলেন, আয়কর রিটার্নটা জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই ছয় মাসে প্রার্থীর যে আয়টা আছে সে আয়ের পার্থক্য কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা। ছয় মাস আগে আপনার আয় আর আজকে আপনার আয়তো এক হওয়ার কথা না। এর আগেও যে এনসিপির যারা প্রার্থী আছেন এনসিপির যারা নেতা আছেন তাদের বিষয়ে নিউজগুলো খুব ফুলিয়ে এবং এটাকে ভিন্নভাবে উত্থাপনের একটা চেষ্টা আমরা দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসীবাদের সহযোগী ছিল। আমাদের চাইনা তারা নির্বাচনে থাকুক, কমিশনকে এই কথা বলেছি। আমরা আগেও বলেছি তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে পুনর্বাসন চাইনা। কমিশন বলেছে তারা আইনের মধ্য থেকে বিধিবদ্ধভাবে ব্যবস্থা নেবে।

মাসুম/সাএ