১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃত্যু

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • 5

যশোরে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগ ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সকলের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ (৯ জানুয়ারি) শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯০ রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

চিকিৎসক আরো জানান, ঠান্ডারi কারণে বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই বাড়িতে এবং বাইরে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান জানান, ঠান্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মা ঠান্ডার কারণে গত ১০ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।

গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।

শেখ মামুনের প্রতিবেশি উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগে মারা গেছেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁচ্ছাছিল না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সেই সঙ্গে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

তীব্র শীতে যশোরে ১০ জনের মৃত্যু

আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে তীব্র শীতে ঠান্ডাজনিত রোগ ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সকলের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ (৯ জানুয়ারি) শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯০ রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

চিকিৎসক আরো জানান, ঠান্ডারi কারণে বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই বাড়িতে এবং বাইরে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান জানান, ঠান্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মা ঠান্ডার কারণে গত ১০ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।

গত কয়েকদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।

শেখ মামুনের প্রতিবেশি উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগে মারা গেছেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁচ্ছাছিল না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সেই সঙ্গে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

কুশল/সাএ