কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুরে নির্বাচন–পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জে ১০ জন আহত
আজ বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে (নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা) বিজয়ী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান এবং পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর ইউনিয়নের হুমায়ুনপুর গ্রামে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, হুমায়ুনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. রাশিদ শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ুম খান সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থক। সকালে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন শেখ মজিবুর রহমান। তিনি আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর হাঁস প্রতীকের কাছে ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুরে জামায়াতের তিন কর্মী আহত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ সকালে উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- জোড়পুকুরিয়া গ্রামের দুই ভাই উজ্জ্বল হোসেন (৩০) ও মাসুদ রানা (৪৫) এবং জুয়েল রানা (২৮)। গুরুতর আহত উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই তিনজন চা পান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মহিবুল, তাঁর ছেলে রিপন, বেলু, সাহেবসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
আহতদের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেহেরপুর-2 আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হুদার পক্ষে কাজ করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
গাংনী উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের প্রধান মাহাবুব অভিযোগ করেন, সরকার গঠন নিয়ে নিশ্চিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা। এই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 



















