গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মাদক সেবনের সময় দেখে ফেলায় মাহবুল ইসলাম রনি (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে তার মরদেহে আগুন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। সে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে। বর্তমানে সে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
শুক্রবার দুপুরে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ছাব্বির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান অতিরিক্ত আইজিপি ও গাজীপুর জেলা পিবিআই মোস্তফা কামাল।
তিনি আরও জানান, নিহত মাহবুল ইসলাম রনি পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুর এলাকার মোশারফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তার বাবা স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত। মাহবুল ইসলাম রনি খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদরাসার নাজেরানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগের ছেলে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে সে ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবার জানতে পারে, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকার একটি ফলজ ও বনজ গাছপালায় ঘেরা জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহবুব ইসলাম রনির বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় রনির দাদা তারা মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে গাজীপুর জেলার পিবিআই। পরে পিবিআইয়ের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মার্চ রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ছাব্বির জানায়, ঘটনার রাতে সে জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। ওই সময় রনি তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ভয় পেয়ে ছাব্বির রনিকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু রনি রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহে আগুন দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এদিকে নিহত রাহিমের বাবা সোহাগে বলেন, আমাদের সন্তানকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়।
সালাউদ্দিন/সাএ
এডমিন 

















