মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যদিও হামলার দায় নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে একটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণাক্ততা দূরীকরণ (ডেসালিনেশন) প্লান্টে হামলা চালানো হয়, এতে স্থাপনার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই দিনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আগুন ধরে যায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলাগুলোর জন্য ইরানকে দায়ী করা হলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েল-কে দায়ী করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানি সরবরাহের বড় অংশই ডেসালিনেশন প্লান্টের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় হামলা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, বরং মানবিক সংকট তৈরির ঝুঁকিও বাড়ায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে কুয়েত ছাড়াও অন্যান্য দেশেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য কুয়েতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে পানি ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা—এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে। এতে শুধু সামরিক নয়, বরং মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র:The Guardian,The Wall Street Journal.
সাজু/নিএ
এডমিন 


















