গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষি জমির মাটি ও বালু অবৈধভাবে কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার দায়ে রকিবুন নবী নামের এক ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম কামরুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত রকিবুন নবী বেরুয়া এলাকার এ এম মাহমুদুন্নবীর ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেরুয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র আইন বহির্ভূতভাবে মাটি ও বালু মহাল ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এর ফলে ওই এলাকার আবাদি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ে। স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে সেখানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার হাতেনাতে প্রমাণ এবং বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক অভিযুক্ত রকিবুন নবীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আইন অনুযায়ী কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রায় কার্যকর করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমির উর্বর মাটি ও বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আইন অমান্য করে যারা নদী বা কৃষি জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় এবং সরকারি আইন বাস্তবায়নে জনস্বার্থে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংবাদপত্রের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও প্রশাসনের তদারকি আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কুশল/সাএ
এডমিন 



















