০১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ ও যুবদলের বহিষ্কৃত দুই নেতা পেলেন জামায়াতের মনোনয়ন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • 0

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে দলীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। এদের মধ্যে বাঙ্গালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেনও মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ সব দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করছেন।

আবু হানিফ বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে, সাদ্দাম হোসেন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই সময় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ২৩ মে জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে উল্লাপাড়া উপজেলা, ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মেয়র পদে জামায়াত মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সভায় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের এমপি, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় বাঙ্গালা ও বড়পাঙ্গাসী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সখ্য ও আঁতাতের অভিযোগ ওঠা প্রিন্সিপাল মঞ্জিল ইসলামকে উধুনিয়া এবং সলঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে। এদের প্রার্থী করায় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে থাকা ছবি দিয়ে অতীতের কার্যকলাপ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা কটূক্তি করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে আবু হানিফ বলেন, এক সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ওই দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এরপর দল থেকে আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী, বর্তমান সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন তিনি। এ জন্য উপজেলা যুবদল তাকে বহিষ্কার করেছে।

এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করায় তাদের ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

আওয়ামী লীগ ও যুবদলের বহিষ্কৃত দুই নেতা পেলেন জামায়াতের মনোনয়ন

আপডেট সময়ঃ ১২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে দলীয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। এদের মধ্যে বাঙ্গালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেনও মনোনয়ন পেয়েছেন।

এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতসহ সব দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করছেন।

আবু হানিফ বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে, সাদ্দাম হোসেন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই সময় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

গত ২৩ মে জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে উল্লাপাড়া উপজেলা, ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মেয়র পদে জামায়াত মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সভায় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের এমপি, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় বাঙ্গালা ও বড়পাঙ্গাসী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সখ্য ও আঁতাতের অভিযোগ ওঠা প্রিন্সিপাল মঞ্জিল ইসলামকে উধুনিয়া এবং সলঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে। এদের প্রার্থী করায় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে থাকা ছবি দিয়ে অতীতের কার্যকলাপ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা কটূক্তি করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে আবু হানিফ বলেন, এক সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ওই দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এরপর দল থেকে আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী, বর্তমান সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন তিনি। এ জন্য উপজেলা যুবদল তাকে বহিষ্কার করেছে।

এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করায় তাদের ইউপি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কুশল/সাএ