০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • 4

শহুরে জীবন মানেই যেন সারাদিন অদৃশ্য এক রেসে ছুটে চলা। সকাল থেকে রাত হয়ে যায় অফিস, স্কুল, বাজার আর রান্নায়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ঘরদোর ঝাড়ু দেওয়া বা মুছতে পারা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

ফলে বাসার অনেক জায়গা দেখতে খুব একটা নোংরা না লাগলেও ভেতরে ভেতরে জীবাণুর ফ্যাক্টরিতে পরিণত হতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নয় — কিন্তু সপ্তাহে অন্তত একবার কিছু নির্দিষ্ট জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করা খুব জরুরি। জেনে নিন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আপনার বাসার কোন ৫টি জিনিস প্রতি সপ্তাহে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

১. বিছানা
শুরু করা যাক বেডরুম থেকে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিই, সেই বেডশিট, বালিশের কভার আর কম্বলেই জমে সবচেয়ে বেশি ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ আর ধুলো। এগুলোতে জীবাণু দ্রুত বাড়ে, বিশেষ করে আবহাওয়া আর্দ্র হলে। তাই সপ্তাহে একবার বেডশিট ও বালিশের কভার ধোয়া শুধু পরিষ্কার থাকার বিষয় নয়, ভালো ঘুম আর ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

২. যাবতীয় হাতল
এরপর আসে দরজার হাতল, লাইট সুইচ আর রিমোট কন্ট্রোল। এগুলো এমন জায়গা, যেগুলো আমরা দিনে অসংখ্যবার স্পর্শ করি, কিন্তু পরিষ্কার করার কথা প্রায় ভুলেই যাই। বাইরে থেকে এসে হাত না ধুয়েই লাইট অন করা, দরজা খোলা — এসবের মাধ্যমে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে একদিন জীবাণুনাশক দিয়ে এগুলো মুছে নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৩. রান্নাঘর
রান্নাঘর বাসায় সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা। রান্নার তেলচিটে ভাব, গ্যাসের চুলা, মাইক্রোওয়েভ বা ফ্রিজের হাতল — এসব জায়গায় চোখের আড়ালেই ময়লা জমতে থাকে। বিশেষ করে ফ্রিজের ভেতরে পুরোনো খাবার পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ আর ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সপ্তাহে একদিন এই জায়গাগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করলে রান্নাঘর থাকে নিরাপদ।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৪. বাথরুম
বাথরুম পরিষ্কার করার সময় অনেকেই শুধু কমোডেই মনোযোগ দেন। কিন্তু শাওয়ারের দেয়াল, কল, আয়না আর দরজার হাতলেও জমে থাকে সাবানের আস্তরণ আর ব্যাকটেরিয়া। ঢাকার পানির লাইনের কারণে এসব জায়গায় দাগও দ্রুত পড়ে। সপ্তাহে একবার ভালোভাবে মুছলে বাথরুম থাকে ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৫. ময়লার ঝুড়ি
অনেকেই শুধু বাসার চোখে পড়া অংশ পরিষ্কার করেন, কিন্তু ময়লার ঝুড়িটা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। অথচ এখান থেকেই দুর্গন্ধ আর জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শুধু পলিথিন বদলালেই যথেষ্ট নয়, সপ্তাহে অন্তত একবার ময়লার ঝুড়ি সাবান পানি বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া জরুরি, বিশেষ করে ফ্ল্যাট বা ছোট বাসায়।

ব্যস্ত নগরজীবনে ঘর পরিষ্কার মানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া নয়। বরং সপ্তাহে একদিন পরিকল্পনা করে এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে বাসা থাকে স্বাস্থ্যকর, আর মনও থাকে হালকা। শহরের কোলাহলের বাইরে, অন্তত নিজের ঘরটা যেন স্বস্তির জায়গা হয় — সেটাই তো সবচেয়ে বড় কথা।

সূত্র: সাউদার্ন লিভিং

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

শহুরে জীবন মানেই যেন সারাদিন অদৃশ্য এক রেসে ছুটে চলা। সকাল থেকে রাত হয়ে যায় অফিস, স্কুল, বাজার আর রান্নায়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ঘরদোর ঝাড়ু দেওয়া বা মুছতে পারা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

ফলে বাসার অনেক জায়গা দেখতে খুব একটা নোংরা না লাগলেও ভেতরে ভেতরে জীবাণুর ফ্যাক্টরিতে পরিণত হতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নয় — কিন্তু সপ্তাহে অন্তত একবার কিছু নির্দিষ্ট জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করা খুব জরুরি। জেনে নিন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আপনার বাসার কোন ৫টি জিনিস প্রতি সপ্তাহে ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

১. বিছানা
শুরু করা যাক বেডরুম থেকে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিই, সেই বেডশিট, বালিশের কভার আর কম্বলেই জমে সবচেয়ে বেশি ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ আর ধুলো। এগুলোতে জীবাণু দ্রুত বাড়ে, বিশেষ করে আবহাওয়া আর্দ্র হলে। তাই সপ্তাহে একবার বেডশিট ও বালিশের কভার ধোয়া শুধু পরিষ্কার থাকার বিষয় নয়, ভালো ঘুম আর ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

২. যাবতীয় হাতল
এরপর আসে দরজার হাতল, লাইট সুইচ আর রিমোট কন্ট্রোল। এগুলো এমন জায়গা, যেগুলো আমরা দিনে অসংখ্যবার স্পর্শ করি, কিন্তু পরিষ্কার করার কথা প্রায় ভুলেই যাই। বাইরে থেকে এসে হাত না ধুয়েই লাইট অন করা, দরজা খোলা — এসবের মাধ্যমে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে একদিন জীবাণুনাশক দিয়ে এগুলো মুছে নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৩. রান্নাঘর
রান্নাঘর বাসায় সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গা। রান্নার তেলচিটে ভাব, গ্যাসের চুলা, মাইক্রোওয়েভ বা ফ্রিজের হাতল — এসব জায়গায় চোখের আড়ালেই ময়লা জমতে থাকে। বিশেষ করে ফ্রিজের ভেতরে পুরোনো খাবার পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ আর ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সপ্তাহে একদিন এই জায়গাগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করলে রান্নাঘর থাকে নিরাপদ।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৪. বাথরুম
বাথরুম পরিষ্কার করার সময় অনেকেই শুধু কমোডেই মনোযোগ দেন। কিন্তু শাওয়ারের দেয়াল, কল, আয়না আর দরজার হাতলেও জমে থাকে সাবানের আস্তরণ আর ব্যাকটেরিয়া। ঢাকার পানির লাইনের কারণে এসব জায়গায় দাগও দ্রুত পড়ে। সপ্তাহে একবার ভালোভাবে মুছলে বাথরুম থাকে ঝকঝকে ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাসার যে ৫ জায়গা সপ্তাহে একবার অবশ্যই পরিষ্কার করবেন

৫. ময়লার ঝুড়ি
অনেকেই শুধু বাসার চোখে পড়া অংশ পরিষ্কার করেন, কিন্তু ময়লার ঝুড়িটা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। অথচ এখান থেকেই দুর্গন্ধ আর জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। শুধু পলিথিন বদলালেই যথেষ্ট নয়, সপ্তাহে অন্তত একবার ময়লার ঝুড়ি সাবান পানি বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া জরুরি, বিশেষ করে ফ্ল্যাট বা ছোট বাসায়।

ব্যস্ত নগরজীবনে ঘর পরিষ্কার মানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া নয়। বরং সপ্তাহে একদিন পরিকল্পনা করে এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে বাসা থাকে স্বাস্থ্যকর, আর মনও থাকে হালকা। শহরের কোলাহলের বাইরে, অন্তত নিজের ঘরটা যেন স্বস্তির জায়গা হয় — সেটাই তো সবচেয়ে বড় কথা।

সূত্র: সাউদার্ন লিভিং

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।