আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের পর বিজয়ী রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেবে অন্তর্বর্তী সরকার।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে আলোচিত ও চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগগুলোর একটি। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এই অর্থ ফেরত আনতে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা চান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জাগা নিউজের প্রতিবেদক পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কোনো রাতারাতি সম্পন্ন হওয়ার বিষয় নয়। এটি একটি দীর্ঘ, জটিল ও বহুস্তরবিশিষ্ট আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। কোথাও কোথাও এই প্রক্রিয়ায় পাঁচ বছর সময় লাগে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি। তবে সীমিত সময়ের মধ্যেই বর্তমান সরকার অর্থ পুনরুদ্ধারের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, সরকার প্রথম দিন থেকেই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, এটি একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। প্রথম লক্ষ্য ছিল টাকা কোথায় গেছে, সেটি শনাক্ত করা। এই ক্ষেত্রেই সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি জানান, কোন টাকা কোন দেশে গেছে, কোন কোন অফশোর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং কোন কোন সম্পত্তি চুরি করা অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে, এই তথ্যগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
যেসব প্রপার্টি চুরি করা টাকায় কেনা হয়েছে, প্রতিটি প্রপার্টির ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো মার্ক করা হয়েছে, জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আর্থিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা ও অর্থপাচারবিরোধী ইউনিটগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারাও সরাসরি বিদেশে গিয়ে কাজ করেছেন।
আইনি লড়াই ও সম্পত্তি ফ্রিজ সম্পর্কে প্রেস সচিব জানান, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে শুধু কূটনৈতিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় ল ফার্ম নিয়োগ করা জরুরি। এসব ল ফার্ম সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে মামলা পরিচালনা করে। এ উদ্দেশ্যে কিছু ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে কি না এবং এ সংক্রান্ত তহবিল বরাদ্দ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে সরকার যে আইনি প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে সবচেয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির একটি উদাহরণ হলো যুক্তরাজ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে লন্ডনে থাকা কয়েকশ সম্পত্তি ফ্রিজ করা।
সরকার এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে, কারণ সম্পত্তি ফ্রিজ হওয়া মানেই ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে অর্থ ফেরত আনার পথ তৈরি হওয়া।
শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ সীমিত, মাত্র ১৮ মাস। এই স্বল্প সময়ে যতটা সম্ভব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, পরবর্তী সরকার এই কাজগুলো অব্যাহত রাখবে।
এ বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কোনো একক সরকারের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তার ভাষায়, আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে, যা সরাসরি দেশের জনগণের, করদাতাদের টাকা।
আমার-আপনার পকেট ফুঁকিয়ে তারা এই টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। এই টাকা ফিরিয়ে আনা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব, জোর দিয়ে বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এই অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া থামার কোনো সুযোগ নেই। সরকার চাইলে এই অর্থ যেভাবেই ব্যবহার করুক, আগে টাকাটা দেশে আনতেই হবে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এমইউ/এসএনআর/জেআইএম
এডমিন 

















