রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেফতার চার আসামির সাতদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার আরেক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ডিএমপির তেজগাঁও থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. জিন্নাত (২৪), মো. বিল্লাল (২৯), মো. আব্দুল কাদির (২৮) এবং মো. রিয়াজ (৩১)।
আদালত সূত্র জানায়, ডিএমপির তেজগাঁও থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. জিন্নাত (২৪), মো. বিল্লাল (২৯), মো. আব্দুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩১)।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। গত ৭ জানুয়ারি রাতে তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে গুলি করে আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুরুতর আহত হন এবং তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্তে জানা যায়, আসামিরা প্রথমে আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে মোসাব্বিরকে গুলি করেন। পরে পান্থপথ এলাকায় ফের পথরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোসাব্বিরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ১১ জানুয়ারি রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের পূর্ব নাখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, পলাতক সহযোগী ও মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এসব বিবেচনায় আদালত সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মামলার আরেক আবেদনে পুলিশ গ্রেফতার আসামি মো. জিন্নাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার আবেদন জানায়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় জিন্নাতের দায়িত্ব ছিল মূল শুটারকে নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া। তিনি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন, যার একটি ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তির শরীরে লাগে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জিন্নাত স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং অনুতপ্ত হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে আদালত তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনও মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/এমএএইচ/এমএস
এডমিন 














