০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • 3

ময়মনসিংহের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় বিক্রেতারা মনমতো দামে বিক্রি করতে পারছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরতলীর ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মটরশুঁটি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০, করলা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০, শসা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০, গোল বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি শিম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, টমেটো ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি গাজর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ ও চিকন বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ১২০, কাঁচা পেঁপে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি, লেবু ২০ টাকা হালি ও লাউ ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজারে রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০, টাকি ৪১০-৫৪০, সিলভার কার্প ২১০-২৮০, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, মৃগেল ২৮০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪০০-৫৩০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, শোল ৫৯০-৬৪০ ও কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

স্থিতিশীল অবস্থায় ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি কক মুরগি ২৯০, সাদা কক মুরগি ২৭০, খাসির মাংস এক হাজার ১৫০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি কেনার সময় কথা হয় জহিরুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। অথচ ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করছেন। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই কিনছেন।

দিনমজুরি করে চার সদস্যের ভরণপোষণ করেন আফাজ মিয়া। তিনি বলেন, বিভিন্ন সবুজিসহ এক কেজি মটরশুঁটি কেনার ইচ্ছে ছিল। এসে দেখি কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে মটরশুঁটি বিক্রি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আধাঁকেজি মটরশুঁটি কিনেছি। অন্যান্য সবজিও চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদির বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে অনেক কৃষকের ফলন নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভোরে প্রচণ্ড শীতের কারণে কিছুদিন ধরে বাজারে সবজি কম আসছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ে সবজির দাম বেড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো পণ্যই ইচ্ছামত দামে বিক্রি করা যাবে না। বাজারে খোঁজখবর নেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়তি দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে অসাধু বিক্রেতাদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ময়মনসিংহে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় বিক্রেতারা মনমতো দামে বিক্রি করতে পারছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরতলীর ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মটরশুঁটি ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০, করলা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০, শসা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০, গোল বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি শিম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, টমেটো ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০, দেশি গাজর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ ও চিকন বেগুন ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ১২০, কাঁচা পেঁপে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি, লেবু ২০ টাকা হালি ও লাউ ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

একই বাজারে রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০, টাকি ৪১০-৫৪০, সিলভার কার্প ২১০-২৮০, তেলাপিয়া ২০০-২৮০, মৃগেল ২৮০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪০০-৫৩০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, শোল ৫৯০-৬৪০ ও কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

স্থিতিশীল অবস্থায় ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি কক মুরগি ২৯০, সাদা কক মুরগি ২৭০, খাসির মাংস এক হাজার ১৫০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি কেনার সময় কথা হয় জহিরুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। অথচ ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করছেন। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই কিনছেন।

দিনমজুরি করে চার সদস্যের ভরণপোষণ করেন আফাজ মিয়া। তিনি বলেন, বিভিন্ন সবুজিসহ এক কেজি মটরশুঁটি কেনার ইচ্ছে ছিল। এসে দেখি কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়ে মটরশুঁটি বিক্রি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আধাঁকেজি মটরশুঁটি কিনেছি। অন্যান্য সবজিও চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদির বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে অনেক কৃষকের ফলন নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভোরে প্রচণ্ড শীতের কারণে কিছুদিন ধরে বাজারে সবজি কম আসছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ে সবজির দাম বেড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো পণ্যই ইচ্ছামত দামে বিক্রি করা যাবে না। বাজারে খোঁজখবর নেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়তি দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে অসাধু বিক্রেতাদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।