০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চা-কফির চুমুকে নির্বাচনি আলাপ, জমজমাট ব্যবসা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 11

শীতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা যেমন উষ্ণতা দেয়, তেমনি নির্বাচনি আলাপও জমে না চা-কফি ছাড়া। ঠিক এই দুই উপলক্ষই এখন হাজির। শীতের আমেজের শেষভাগে ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে ভোটের জমজমাট প্রচারণা। সেই সঙ্গে চা-কফির আড্ডায় চলছে ভোটকে ঘিরে তর্ক-বিতর্ক আর যুক্তিখণ্ডন। জমে উঠেছে চা-কফির ব্যবসা।

চা-কফি উৎপাদন ও সরবরাহকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর বাদে এবার ব্যবসা ভালো যাচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সময় চা-কফির বিক্রি প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। নির্বাচনের সময় (ফেব্রুয়ারি মাস) বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।

চায়ের হালচাল

এমনিতেই দেশের মানুষের মধ্যে চা পানের আগ্রহ বাড়ছে দিনদিন। গ্রামাঞ্চলের মানুষও এখন প্রতিদিন চা পান করে। ধারণা করা হয় প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি বাসায় চা পানের অভ্যাস রয়েছে। এই চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে এখন প্রায় চার হাজার কোটি টাকার চায়ের বাজার গড়ে উঠেছে।

পাশাপাশি বাড়তি শীত ও নির্বাচনি আমেজে বিক্রি বাড়ার প্রবণতাকে এই বাজারে সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও কাপনা টি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সামনে নির্বাচন। চায়ের বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এমনিতেও চায়ের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার শীত ও নির্বাচন ঘিরে চায়ের বাজার পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দেশি উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়বে আমদানিও।

চায়ের উৎপাদন এখন কেমন

তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে এবার। কারণ বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গেলো মৌসুমে দেশে চায়ের উৎপাদন কমেছে। শেষ গত ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। পরের বছর ২০২৪ সালে উৎপাদন কিছুটা কমে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজিতে নেমে আসে। চলতি বছর ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে অক্টোবর পর্যন্ত হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন অনেক কমেছে। দশ মাসে উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা।

কামরান বলেন, উৎপাদন কমায় বাড়তি চাহিদার সুফল খুববেশি নাও আসতে পারে। গত বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার প্রভাব বিক্রিতেও পড়ছে।

কফির ব্যবসা ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে

দেশের কফির বাজারে সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের কফি হাউজ ও এরপর আবুল খায়ের গ্রুপের আমা ব্র্যান্ডের কফি রয়েছে। এর বাইরে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান কফি আমদানি করে বাজারজাত করছে।

ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

শীতের তীব্রতা ও শুরু হওয়া নির্বাচনি আমেজে কফির বিক্রিও ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন নেসলে বাংলাদেশের পরিচালক দেবব্রত রায়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রত্যেক বছর শীতের সময় কফি বিক্রি বাড়ে। এ বছর সেটা অন্য বছরের চেয়ে বেশি বেড়েছে যা আমাদের কোম্পানির ক্ষেত্রে ১৫-২০ শতাংশ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক কফির বিক্রি শেষ পর্যন্ত আরও বাড়বে বলে ধারণা করছি।

দেশের পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে এখন একচেটিয়া চলছে ইনস্ট্যান্ট কফি। এই বাজারের প্রায় ৮৩ শতাংশই এ ধরনের কফির দখলে। যা কফি বিন থেকে বানানো কফির চেয়ে অনেক বেশি।

কফি বাজারজাতকরণে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বাংলাদেশে এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ বাসায় কফি পান করা হয়। আর কফির দোকানের পাশাপাশি প্রায় ২০-৩০ শতাংশ চায়ের দোকানে কফি মেশিন রয়েছে। আবার ইনস্ট্যান্ট কফিও চলছে।  

চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে মূলত তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত হতে থাকে কফি। আর এ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ও নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপক অংশগ্রহণে কফির কদর বাড়ছে।

কফি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, তরুণদের মধ্যে কফি পানের ঝোঁক বেশি। নির্বাচনি কর্মকাণ্ড শেষ পর্যায়ে কফি পানের হার আরও বাড়বে।

এনএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

চা-কফির চুমুকে নির্বাচনি আলাপ, জমজমাট ব্যবসা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

শীতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা যেমন উষ্ণতা দেয়, তেমনি নির্বাচনি আলাপও জমে না চা-কফি ছাড়া। ঠিক এই দুই উপলক্ষই এখন হাজির। শীতের আমেজের শেষভাগে ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে ভোটের জমজমাট প্রচারণা। সেই সঙ্গে চা-কফির আড্ডায় চলছে ভোটকে ঘিরে তর্ক-বিতর্ক আর যুক্তিখণ্ডন। জমে উঠেছে চা-কফির ব্যবসা।

চা-কফি উৎপাদন ও সরবরাহকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর বাদে এবার ব্যবসা ভালো যাচ্ছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সময় চা-কফির বিক্রি প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। নির্বাচনের সময় (ফেব্রুয়ারি মাস) বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।

চায়ের হালচাল

এমনিতেই দেশের মানুষের মধ্যে চা পানের আগ্রহ বাড়ছে দিনদিন। গ্রামাঞ্চলের মানুষও এখন প্রতিদিন চা পান করে। ধারণা করা হয় প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি বাসায় চা পানের অভ্যাস রয়েছে। এই চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে এখন প্রায় চার হাজার কোটি টাকার চায়ের বাজার গড়ে উঠেছে।

পাশাপাশি বাড়তি শীত ও নির্বাচনি আমেজে বিক্রি বাড়ার প্রবণতাকে এই বাজারে সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও কাপনা টি কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সামনে নির্বাচন। চায়ের বিক্রির সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এমনিতেও চায়ের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার শীত ও নির্বাচন ঘিরে চায়ের বাজার পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। দেশি উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়বে আমদানিও।

চায়ের উৎপাদন এখন কেমন

তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে এবার। কারণ বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গেলো মৌসুমে দেশে চায়ের উৎপাদন কমেছে। শেষ গত ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। পরের বছর ২০২৪ সালে উৎপাদন কিছুটা কমে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজিতে নেমে আসে। চলতি বছর ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে অক্টোবর পর্যন্ত হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন অনেক কমেছে। দশ মাসে উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা।

কামরান বলেন, উৎপাদন কমায় বাড়তি চাহিদার সুফল খুববেশি নাও আসতে পারে। গত বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার প্রভাব বিক্রিতেও পড়ছে।

কফির ব্যবসা ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে

দেশের কফির বাজারে সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নেসলে সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের কফি হাউজ ও এরপর আবুল খায়ের গ্রুপের আমা ব্র্যান্ডের কফি রয়েছে। এর বাইরে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান কফি আমদানি করে বাজারজাত করছে।

ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

শীতের তীব্রতা ও শুরু হওয়া নির্বাচনি আমেজে কফির বিক্রিও ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন নেসলে বাংলাদেশের পরিচালক দেবব্রত রায়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রত্যেক বছর শীতের সময় কফি বিক্রি বাড়ে। এ বছর সেটা অন্য বছরের চেয়ে বেশি বেড়েছে যা আমাদের কোম্পানির ক্ষেত্রে ১৫-২০ শতাংশ।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক কফির বিক্রি শেষ পর্যন্ত আরও বাড়বে বলে ধারণা করছি।

দেশের পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানে এখন একচেটিয়া চলছে ইনস্ট্যান্ট কফি। এই বাজারের প্রায় ৮৩ শতাংশই এ ধরনের কফির দখলে। যা কফি বিন থেকে বানানো কফির চেয়ে অনেক বেশি।

কফি বাজারজাতকরণে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বাংলাদেশে এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ বাসায় কফি পান করা হয়। আর কফির দোকানের পাশাপাশি প্রায় ২০-৩০ শতাংশ চায়ের দোকানে কফি মেশিন রয়েছে। আবার ইনস্ট্যান্ট কফিও চলছে।  

চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে মূলত তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত হতে থাকে কফি। আর এ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ও নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপক অংশগ্রহণে কফির কদর বাড়ছে।

কফি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, তরুণদের মধ্যে কফি পানের ঝোঁক বেশি। নির্বাচনি কর্মকাণ্ড শেষ পর্যায়ে কফি পানের হার আরও বাড়বে।

এনএইচ/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।