০৯:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নানের গাড়িবহরে হামলায় সিইসি’র কাছে অভিযোগ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 6

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম এ হান্নানের গাড়িবহর ও সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই অভিযোগ করেন হান্নান। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার সময় উপজেলার ঘোলদানা ও খাজুরিয়া এলাকায় হামলার ওই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ জন নেতাকর্মীর পাশাপাশি সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নান।

লিখিত অভিযোগে হামলার বিবরণে তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করছিলেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হগোলি গ্রামে প্রচারণা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। পরবর্তীতে ঘোলদানা আজিম ভূঁঞার বাড়ির মোড়ে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নান অভিযোগ করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সবুজের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তার কর্মী জহিরুল ইসলাম তা প্রতিহত করেন। এতে জহিরুলের হাত ও চোখ মারাত্মক জখম হয়। হামলাকারীরা শুধু প্রার্থীর গাড়ি বহরই নয়, সংবাদ সংগ্রহে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ এবং ‘মোহনা টিভি’র সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়। তাদের মূল্যবান ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে এম এ হান্নান উল্লেখ করেন, উপজেলার খাজুরিয়া বাজারে সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও জাকির গাজীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ফারুক হোসেন, কাউছার ও জহিরুল ইসলামসহ ৮ জন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিইসির কাছে করা অভিযোগে এম এ হান্নান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি চাই ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্রপ্রার্থী এম এ হান্নানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভুক্তভোগী প্রার্থীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। সব বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে প্রার্থীদের সচেতন করছি।  

এমওএস/এমএমকে 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

নির্বাচন সামনে রেখে নিয়মরক্ষার মুদ্রানীতি আজ, নেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নানের গাড়িবহরে হামলায় সিইসি’র কাছে অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম এ হান্নানের গাড়িবহর ও সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই অভিযোগ করেন হান্নান। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার সময় উপজেলার ঘোলদানা ও খাজুরিয়া এলাকায় হামলার ওই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ জন নেতাকর্মীর পাশাপাশি সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নান।

লিখিত অভিযোগে হামলার বিবরণে তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী উপজেলার ৬ নম্বর গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করছিলেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হগোলি গ্রামে প্রচারণা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। পরবর্তীতে ঘোলদানা আজিম ভূঁঞার বাড়ির মোড়ে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হান্নান অভিযোগ করেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সবুজের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তার কর্মী জহিরুল ইসলাম তা প্রতিহত করেন। এতে জহিরুলের হাত ও চোখ মারাত্মক জখম হয়। হামলাকারীরা শুধু প্রার্থীর গাড়ি বহরই নয়, সংবাদ সংগ্রহে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ এবং ‘মোহনা টিভি’র সংবাদকর্মীদের ওপরও চড়াও হয়। তাদের মূল্যবান ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে এম এ হান্নান উল্লেখ করেন, উপজেলার খাজুরিয়া বাজারে সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন ও জাকির গাজীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ফারুক হোসেন, কাউছার ও জহিরুল ইসলামসহ ৮ জন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিইসির কাছে করা অভিযোগে এম এ হান্নান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি চাই ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্রপ্রার্থী এম এ হান্নানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভুক্তভোগী প্রার্থীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি খুবই ভালো অবস্থায় আছে। সব বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে প্রার্থীদের সচেতন করছি।  

এমওএস/এমএমকে 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।