০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলুন নিয়ম মেনে

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 4

সারাদেশে এক ধরনের উৎসবের আমেজে চলছে ভোট গ্রহণ। মিডিয়া ছেয়ে গেছে ভিআইপিদের ভোট দেওয়ার ছবিতে। ভোটার হিসেবে আপনারও নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতে ইচ্ছা হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে কোথায় তুলবেন সেই ছবি?

জেনে নিন ছবি তোলা সংক্রান্ত নীতিমালা –

১. গোপন কক্ষ ও ব্যালট বাক্স: ছবি তোলার সীমাবদ্ধতা

নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো ভোটের গোপনীয়তা।

গোপন কক্ষ বা সিক্রেট বুথ: যেখানে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল মারেন, সেই গোপন কক্ষের কোনো ছবি বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাংবাদিক বা সাধারণ ভোটার কেউই সেখানে ক্যামেরা নিতে পারবেন না।

ব্যালট বাক্স: ভোটার যখন সিল মারা ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করে বাক্সে ফেলেন, তখনো ওই পেপারের কোনো অংশ বা পছন্দের চিহ্ন ক্যামেরায় ধরা পড়া অবৈধ। নীতিমালায় বলা হয়েছে, গোপন কক্ষ থেকে বের হয়ে ব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার দৃশ্য ধারণ করার সময় যেন কোনোভাবেই ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ না হয়।

২. প্রধান উপদেষ্টা ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে নিয়ম
দেশের প্রধান উপদেষ্টা বা অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের সময় সংবাদমাধ্যম ব্যাপক কভারেজ দিয়ে থাকে। তবে নীতিমালার কোনো ব্যত্যয় এখানেও অনুমোদিত নয়।

তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট গ্রহণ করছেন, বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলছেন বা ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করছেন – বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষ্য প্রার্থী ও ভিআইপিদের এই অংশগুলোর ছবি তোলা যাবে।

কিন্তু ব্যালট পেপারটি বাক্সে ফেলার সময় যদি এমনভাবে ছবি তোলা হয় যাতে ভোটারের পছন্দ প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তা নীতিমালার লঙ্ঘন। এ কারণেই সাংবাদিকরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছবি ধারণ করেন।

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলুন নিয়ম মেনেব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার সময় অতি নিকট থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে বিরত থাকুন

৩. সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাবলী

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের নীতিমালা অনুযায়ী –

লাইভ সম্প্রচার: ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে কোনো প্রকার সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।

অবস্থান: পোলিং বুথের ভেতরে (যেখানে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন) বেশিক্ষণ অবস্থান করা যাবে না এবং সেখানে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।

মোবাইল ফোন: ভোটাররা ফোন নিয়ে ঢুকতে পারলেও তা বন্ধ রাখতে হবে। সাংবাদিকরা ফোন ব্যবহার করতে পারলেও তা যেন কোনোভাবেই ভোটদান প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটায়।

৪. আইন লঙ্ঘনের ফলাফল

যদি কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিক গোপন কক্ষে প্রবেশের বা ব্যালট পেপারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন, তবে আরপিও অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তাদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন রাখে।

ভোটের উৎসবকে সুন্দর করতে প্রচারের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেই প্রচার যেন অন্যের নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তাকে খর্ব না করে। মূলত এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই ব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার সময় অতি নিকট থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলুন নিয়ম মেনে

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে এক ধরনের উৎসবের আমেজে চলছে ভোট গ্রহণ। মিডিয়া ছেয়ে গেছে ভিআইপিদের ভোট দেওয়ার ছবিতে। ভোটার হিসেবে আপনারও নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতে ইচ্ছা হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে কোথায় তুলবেন সেই ছবি?

জেনে নিন ছবি তোলা সংক্রান্ত নীতিমালা –

১. গোপন কক্ষ ও ব্যালট বাক্স: ছবি তোলার সীমাবদ্ধতা

নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে ছবি তোলা বা ভিডিও করার ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো ভোটের গোপনীয়তা।

গোপন কক্ষ বা সিক্রেট বুথ: যেখানে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল মারেন, সেই গোপন কক্ষের কোনো ছবি বা ভিডিও করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাংবাদিক বা সাধারণ ভোটার কেউই সেখানে ক্যামেরা নিতে পারবেন না।

ব্যালট বাক্স: ভোটার যখন সিল মারা ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করে বাক্সে ফেলেন, তখনো ওই পেপারের কোনো অংশ বা পছন্দের চিহ্ন ক্যামেরায় ধরা পড়া অবৈধ। নীতিমালায় বলা হয়েছে, গোপন কক্ষ থেকে বের হয়ে ব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার দৃশ্য ধারণ করার সময় যেন কোনোভাবেই ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ না হয়।

২. প্রধান উপদেষ্টা ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে নিয়ম
দেশের প্রধান উপদেষ্টা বা অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ভোট প্রদানের সময় সংবাদমাধ্যম ব্যাপক কভারেজ দিয়ে থাকে। তবে নীতিমালার কোনো ব্যত্যয় এখানেও অনুমোদিত নয়।

তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট গ্রহণ করছেন, বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলছেন বা ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করছেন – বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষ্য প্রার্থী ও ভিআইপিদের এই অংশগুলোর ছবি তোলা যাবে।

কিন্তু ব্যালট পেপারটি বাক্সে ফেলার সময় যদি এমনভাবে ছবি তোলা হয় যাতে ভোটারের পছন্দ প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তা নীতিমালার লঙ্ঘন। এ কারণেই সাংবাদিকরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছবি ধারণ করেন।

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ছবি তুলুন নিয়ম মেনেব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার সময় অতি নিকট থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে বিরত থাকুন

৩. সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনাবলী

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারিকৃত সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের নীতিমালা অনুযায়ী –

লাইভ সম্প্রচার: ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে কোনো প্রকার সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।

অবস্থান: পোলিং বুথের ভেতরে (যেখানে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন) বেশিক্ষণ অবস্থান করা যাবে না এবং সেখানে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না।

মোবাইল ফোন: ভোটাররা ফোন নিয়ে ঢুকতে পারলেও তা বন্ধ রাখতে হবে। সাংবাদিকরা ফোন ব্যবহার করতে পারলেও তা যেন কোনোভাবেই ভোটদান প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটায়।

৪. আইন লঙ্ঘনের ফলাফল

যদি কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিক গোপন কক্ষে প্রবেশের বা ব্যালট পেপারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন, তবে আরপিও অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তাদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন রাখে।

ভোটের উৎসবকে সুন্দর করতে প্রচারের প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেই প্রচার যেন অন্যের নাগরিক অধিকার ও গোপনীয়তাকে খর্ব না করে। মূলত এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই ব্যালট বাক্সে ভোট ফেলার সময় অতি নিকট থেকে ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।