০৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একনজরে দেশের ১৩টি সংসদ নির্বাচন ও ভোটের ইতিহাস

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 3

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ১৩টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় বার, বিএনপি চার বার ও জাতীয় পার্টি দুবার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। সব থেকে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সব থেকে কম ভোট পড়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মাত্র ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

সবে মাত্র শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় দেশবাসী। তবে দুই ভোট এক সঙ্গে হওয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। জেলায় জেলায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা দেবেন।

একনজরে দেশের ১৩টি নির্বাচন

প্রথম সংসদ নির্বাচন
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন পায়। নির্বাচিত বাকি ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে সম্মিলিত বিরোধী দল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন একটি আসনে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

নবম সংসদ নির্বাচন
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দশম সংসদ নির্বাচন
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

একাদশ সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন। বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট পড়েছিল  ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬। সারাদেশে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটের  পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। এবার ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করে। ভোটে দলের প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন, বাকি ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় দেশবাসী। তবে দুই ভোট এক সঙ্গে হওয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। তবে জেলায় জেলায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা দেবেন।

এমওএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় চারজনের ২ বছর করে কারাদণ্ড

একনজরে দেশের ১৩টি সংসদ নির্বাচন ও ভোটের ইতিহাস

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ১৩টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছয় বার, বিএনপি চার বার ও জাতীয় পার্টি দুবার জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। সব থেকে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সব থেকে কম ভোট পড়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মাত্র ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বিতর্কিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

সবে মাত্র শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় দেশবাসী। তবে দুই ভোট এক সঙ্গে হওয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। জেলায় জেলায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা দেবেন।

একনজরে দেশের ১৩টি নির্বাচন

প্রথম সংসদ নির্বাচন
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসন পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। বিরোধীদের মধ্যে জাতীয় লীগ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন করে এবং স্বতন্ত্র পাঁচ জন প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলো পায় ৭৭টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাতীয় লীগ দুটি, আওয়ামী লীগ (মিজান) দুটি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ও ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, ন্যাপ একটি, বাংলাদেশ গণফ্রন্ট দুটি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল একটি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল একটি ও জাতীয় একতা পার্টি একটি আসন পায়। নির্বাচিত বাকি ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ৩ বছর।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন
১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, ন্যাপ (মোজাফফর) দুটি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি পাঁচটি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) তিনটি, জাসদ (রব) চারটি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, মুসলিম লীগ চারটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসন পায়। বাকি ৩২ আসনে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১৭ মাস।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে সম্মিলিত বিরোধী দল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫টি, জাসদ (সিরাজ) তিনটি ও ফ্রিডম পার্টি দুটি আসন লাভ করে। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়ে ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পাঁচটি, জাসদ (সিরাজ) একটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি, সিপিবি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একটি, গণতন্ত্রী পার্টি একটি ও ন্যাপ (মোজাফফর) একটি আসন পায়। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে। সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ৪১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপি ২৭৮টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি একটি আসন পায়। বাকি ১০ আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ সংসদের মেয়াদ ছিল ১২ দিন।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি, ইসলামী ঐক্যজোট একটি ও জাসদ একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন একটি আসনে। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি, জাতীয় পার্টি (না-ফি) চারটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) একটি, ইসলামিক ঐক্যজোট দুটি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ একটি আসন পায়। বাকি ছয় আসনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

নবম সংসদ নির্বাচন
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দশম সংসদ নির্বাচন
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ (ইনু) পাঁচটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ।

একাদশ সংসদ নির্বাচন
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২, জাতীয় পার্টি ১১, ওয়ার্কার্স পার্টি এক, জাসদ এক, কল্যাণ পার্টি এক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হন। এই সংসদ স্থায়ী হয়েছিল ৬ মাস ৭ দিন। বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট পড়েছিল  ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬। সারাদেশে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটের  পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। এবার ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করে। ভোটে দলের প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন, বাকি ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন। দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় দেশবাসী। তবে দুই ভোট এক সঙ্গে হওয়ার কারণে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে। তবে জেলায় জেলায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা দেবেন।

এমওএস/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।