০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের শপথে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আসন্ন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে—এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন শীর্ষ নেতা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন (WION)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ উদ্যোগের কথা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দীর্ঘ উত্তেজনার পর বিএনপির এই পদক্ষেপকে দুই দেশের স্থবির সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা ফেরানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, “এই অঞ্চল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল অংশ। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলকে প্রভাবশালী অঞ্চলে পরিণত করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ পাঠাতে অগ্রাধিকার রয়েছে। সময়সীমা কম, কিন্তু সদিচ্ছা রয়েছে।”

এই আমন্ত্রণকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া একটি শুভেচ্ছা উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনি কাউকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানালে স্বাভাবিকভাবেই তার উপস্থিতির প্রত্যাশা করবেন। এটি একটি সদিচ্ছার প্রকাশ…’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা সম্ভব।

বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক ও বিমসটেককে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে আসা অভিনন্দন বার্তার প্রেক্ষাপটেই এসব মন্তব্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তাকে ‘অসাধারণ বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘নতুন সূচনা’র সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কুশল/সাএ

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

তারেক রহমানের শপথে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা

আপডেট সময়ঃ ১১:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আসন্ন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে—এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন শীর্ষ নেতা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন (WION)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ উদ্যোগের কথা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দীর্ঘ উত্তেজনার পর বিএনপির এই পদক্ষেপকে দুই দেশের স্থবির সম্পর্কের মধ্যে উষ্ণতা ফেরানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, “এই অঞ্চল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি মূল অংশ। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলকে প্রভাবশালী অঞ্চলে পরিণত করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ পাঠাতে অগ্রাধিকার রয়েছে। সময়সীমা কম, কিন্তু সদিচ্ছা রয়েছে।”

এই আমন্ত্রণকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া একটি শুভেচ্ছা উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনি কাউকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানালে স্বাভাবিকভাবেই তার উপস্থিতির প্রত্যাশা করবেন। এটি একটি সদিচ্ছার প্রকাশ…’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা সম্ভব।

বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক ও বিমসটেককে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে আসা অভিনন্দন বার্তার প্রেক্ষাপটেই এসব মন্তব্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তাকে ‘অসাধারণ বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘নতুন সূচনা’র সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেও ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কুশল/সাএ