০৩:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসা দিবস শেষ, আজ থাপ্পড় দেওয়ার দিন

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

ভালোবাসার লাল গোলাপ শুকোতে না শুকোতেই ক্যালেন্ডারের পাতায় যেন হালকা ঝাপটা লাগে। ১৪ ফেব্রুয়ারির মিষ্টি আবেশ শেষ হতেই ১৫ ফেব্রুয়ারি এসে হাজির হয় এক অদ্ভুত মজার ধারণা নিয়ে, যার নাম ‘থাপ্পড় দিবস’। শুনতে একটু নাটকীয় লাগলেও বিষয়টি আসলে পুরোপুরি হাস্যরসাত্মক ও প্রতীকী।

গতকাল যে হাতে ছিল চকলেট, কার্ড আর প্রেমের প্রতিশ্রুতি, আজ সেই হাতই নাকি দেয় বাস্তবতার হালকা চাপড়! এই ধারণা বাস্তব নয়, বরং প্রেমের অতিরঞ্জিত আবেগের ওপর মজার ব্যঙ্গ যেখানে ভালোবাসার রঙিন কল্পনার পাশে বসে থাকে বাস্তবতার ছোট্ট স্মরণপত্র।

jagonewsভ্যালেন্টাইনস ডে এমন এক দিন, যখন মানুষ নিজের অনুভূতিকে একটু বেশি সাজিয়ে তোলে। কেউ কবি হয়ে যায়, কেউ সিনেমার নায়ক-নায়িকা। কিন্তু বাস্তব জীবন তো সবসময় সিনেমার মতো চলে না। তাই পরদিনই যখন দেখা যায় মেসেজের রিপ্লাই আসেনি, গিফট পছন্দ হয়নি বা প্রত্যাশা মতো কিছু ঘটেনি, তখন সেই ছোটখাটো হতাশাগুলো নিয়েই তৈরি হয় এই মজার দিবসের ধারণা। এখানে থাপ্পড় মানে আঘাত নয়; বরং রোমান্টিক কল্পনার ওপর বাস্তবতার আলতো টোকা।

এই দিবসের কোনো আনুষ্ঠানিক ইতিহাস নেই। এটি মূলত ইন্টারনেট যুগের সৃষ্টি, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’ নামে একটি ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়। সেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে মজার সব দিবস বানানো হয় যেমন স্ল্যাপ ডে, কিক ডে ইত্যাদি। এগুলো কোনো সরকারি বা ঐতিহাসিক দিবস নয়; বরং তরুণদের তৈরি হালকা বিনোদনধর্মী সংস্কৃতি, যেখানে প্রেমে ব্যর্থতা বা হতাশাকে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, এই দিবস সহিংসতার উৎসাহ নয় বরং প্রেমের নাটকীয়তার ওপর এক চিলতে ঠাট্টা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দিনে নানা চরিত্র দেখা যায় কেউ গতকাল পর্যন্ত হৃদয় ইমোজি পাঠিয়েছে, আজ আর রিপ্লাই দেয় না; কেউ ভুল গিফট দিয়ে বিপদে পড়ে; কেউ আবার একতরফা প্রেমে প্রোপোজ করে ব্লকড হয়ে যায়। এসব অভিজ্ঞতাই মিম, স্ট্যাটাস আর পোস্টে রূপ নেয়। মানুষ হাসতে হাসতে নিজের হতাশাকেও হালকা করে ফেলে। কারণ কষ্টের গল্প যদি মজায় বলা যায়, তা হলে সেই কষ্ট আর ততটা ভারী লাগে না।

jagonewsআসলে থাপ্পড় দিবসের ধারণার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ছোট্ট দর্শনও। প্রেম যেমন আবেগের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ, তেমনি তার উল্টো দিকেও আছে বাস্তবতার ছায়া। এই দিবস যেন মনে করিয়ে দেয় সম্পর্ক মানে শুধু গোলাপ নয়, কাঁটাও আছে; প্রত্যাশা যত বড়, হতাশার সম্ভাবনাও তত বেশি; আর ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু অনুভূতি নয়, দরকার বোঝাপড়া। তাই এটি প্রেমের বিরোধী নয়, বরং প্রেমেরই আরেকটি দিকের মজার প্রতিফলন।

সবশেষে বলা যায়, ভ্যালেন্টাইনস ডে শেখায় ভালোবাসতে, আর থাপ্পড় দিবস শেখায় একটু হাসতে। একদিন হৃদয় গলে, আরেকদিন অহংকার নরম হয়। দুটোই দরকার কারণ প্রেম যদি কবিতা হয়, তবে বাস্তবতা তার যতিচিহ্ন। আর এই যতিচিহ্নই সম্পর্ককে করে তোলে সম্পূর্ণ।

আরও পড়ুন
রোমিও-জুলিয়েট থেকে শাহজাহান-মমতাজ, ইতিহাসের করুণ ভালোবাসা
ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে দীর্ঘ চুমুর রেকর্ড

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ভালোবাসা দিবস শেষ, আজ থাপ্পড় দেওয়ার দিন

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভালোবাসার লাল গোলাপ শুকোতে না শুকোতেই ক্যালেন্ডারের পাতায় যেন হালকা ঝাপটা লাগে। ১৪ ফেব্রুয়ারির মিষ্টি আবেশ শেষ হতেই ১৫ ফেব্রুয়ারি এসে হাজির হয় এক অদ্ভুত মজার ধারণা নিয়ে, যার নাম ‘থাপ্পড় দিবস’। শুনতে একটু নাটকীয় লাগলেও বিষয়টি আসলে পুরোপুরি হাস্যরসাত্মক ও প্রতীকী।

গতকাল যে হাতে ছিল চকলেট, কার্ড আর প্রেমের প্রতিশ্রুতি, আজ সেই হাতই নাকি দেয় বাস্তবতার হালকা চাপড়! এই ধারণা বাস্তব নয়, বরং প্রেমের অতিরঞ্জিত আবেগের ওপর মজার ব্যঙ্গ যেখানে ভালোবাসার রঙিন কল্পনার পাশে বসে থাকে বাস্তবতার ছোট্ট স্মরণপত্র।

jagonewsভ্যালেন্টাইনস ডে এমন এক দিন, যখন মানুষ নিজের অনুভূতিকে একটু বেশি সাজিয়ে তোলে। কেউ কবি হয়ে যায়, কেউ সিনেমার নায়ক-নায়িকা। কিন্তু বাস্তব জীবন তো সবসময় সিনেমার মতো চলে না। তাই পরদিনই যখন দেখা যায় মেসেজের রিপ্লাই আসেনি, গিফট পছন্দ হয়নি বা প্রত্যাশা মতো কিছু ঘটেনি, তখন সেই ছোটখাটো হতাশাগুলো নিয়েই তৈরি হয় এই মজার দিবসের ধারণা। এখানে থাপ্পড় মানে আঘাত নয়; বরং রোমান্টিক কল্পনার ওপর বাস্তবতার আলতো টোকা।

এই দিবসের কোনো আনুষ্ঠানিক ইতিহাস নেই। এটি মূলত ইন্টারনেট যুগের সৃষ্টি, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’ নামে একটি ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়। সেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে মজার সব দিবস বানানো হয় যেমন স্ল্যাপ ডে, কিক ডে ইত্যাদি। এগুলো কোনো সরকারি বা ঐতিহাসিক দিবস নয়; বরং তরুণদের তৈরি হালকা বিনোদনধর্মী সংস্কৃতি, যেখানে প্রেমে ব্যর্থতা বা হতাশাকে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, এই দিবস সহিংসতার উৎসাহ নয় বরং প্রেমের নাটকীয়তার ওপর এক চিলতে ঠাট্টা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দিনে নানা চরিত্র দেখা যায় কেউ গতকাল পর্যন্ত হৃদয় ইমোজি পাঠিয়েছে, আজ আর রিপ্লাই দেয় না; কেউ ভুল গিফট দিয়ে বিপদে পড়ে; কেউ আবার একতরফা প্রেমে প্রোপোজ করে ব্লকড হয়ে যায়। এসব অভিজ্ঞতাই মিম, স্ট্যাটাস আর পোস্টে রূপ নেয়। মানুষ হাসতে হাসতে নিজের হতাশাকেও হালকা করে ফেলে। কারণ কষ্টের গল্প যদি মজায় বলা যায়, তা হলে সেই কষ্ট আর ততটা ভারী লাগে না।

jagonewsআসলে থাপ্পড় দিবসের ধারণার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ছোট্ট দর্শনও। প্রেম যেমন আবেগের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ, তেমনি তার উল্টো দিকেও আছে বাস্তবতার ছায়া। এই দিবস যেন মনে করিয়ে দেয় সম্পর্ক মানে শুধু গোলাপ নয়, কাঁটাও আছে; প্রত্যাশা যত বড়, হতাশার সম্ভাবনাও তত বেশি; আর ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু অনুভূতি নয়, দরকার বোঝাপড়া। তাই এটি প্রেমের বিরোধী নয়, বরং প্রেমেরই আরেকটি দিকের মজার প্রতিফলন।

সবশেষে বলা যায়, ভ্যালেন্টাইনস ডে শেখায় ভালোবাসতে, আর থাপ্পড় দিবস শেখায় একটু হাসতে। একদিন হৃদয় গলে, আরেকদিন অহংকার নরম হয়। দুটোই দরকার কারণ প্রেম যদি কবিতা হয়, তবে বাস্তবতা তার যতিচিহ্ন। আর এই যতিচিহ্নই সম্পর্ককে করে তোলে সম্পূর্ণ।

আরও পড়ুন
রোমিও-জুলিয়েট থেকে শাহজাহান-মমতাজ, ইতিহাসের করুণ ভালোবাসা
ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট ও সবচেয়ে দীর্ঘ চুমুর রেকর্ড

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।