০৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নির্বাচনের পর কী ভাবছে জেন-জি?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

২০২৪ সালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচন। তবে সেই আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া যুবনেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায় দেখা যায়, ভোটাররা বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন পুরোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)। দলটি সহজেই হারিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে, যার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এনসিপি।

‘ঐতিহাসিক নির্বাচনে’ প্রত্যাশার ঘাটতি

প্রথমবার ভোট দেওয়া অনেক তরুণ-তরুণী এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করলেও তাদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী আফসানা হোসাইন হিমি বলেন, ‘জেন-জি হিসেবে এত রক্ত ঝরানো আর প্রাণহানির পর আমরা প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্ব ও ফল পাইনি। তবু আমরা আশাবাদী।’

আরও পড়ুন>>
ভোটের মাঠে কেন দাপট দেখাতে পারলো না এনসিপি?
বিপ্লবের পর প্রথম নির্বাচন: বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্ব কি কোণঠাসা?
জেন জির হাতে স্বৈরাচার পতন: নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে পুরোনো শক্তিরাই

এনসিপির ছয়জন বিজয়ী প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিনিধি সংসদে গেছেন। আশা করি তারা ভালো কিছু করবেন।’

অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমানের মতে, এনসিপি সময়মতো শক্তিশালী জনভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট আমাদের অনেকের কাছে বিশ্বাসভঙ্গের মতো লেগেছে,’ বলেন তিনি।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ দেবে।

তরুণ ভোটারদের প্রভাব

১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশে বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এখানে মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক মাসের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছে। ওই অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। পরে অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

‘আইনের শাসনই অগ্রাধিকার’

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট। দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তারেক রহমানের। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। দল, ধর্ম, জাতি বা মতভেদ নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ন্যায়বিচারই হবে আমাদের পথনির্দেশক।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে, জামায়াত–এনসিপি জোট তরুণ ভোটারদের একাংশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। ‘অনেকে একে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং সংগঠিত ও শাসনক্ষমতার দিক থেকে প্রস্তুত বিএনপি লাভবান হয়েছে,’ বলেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থী ফারহান উল্লাহর কাছে এই নির্বাচন ছিল অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির জন্য বহুল প্রত্যাশিত একটি মুহূর্ত। ‘নির্বাচন আমাদের কাছে এক ধরনের স্বপ্ন ছিল—বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা। বিএনপি সরকার গঠন করবে, এটা আমরা জানি। আশা করি, তারা আমাদের কথা শুনবে,’ বলেন তিনি।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশে নির্বাচনের পর কী ভাবছে জেন-জি?

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচন। তবে সেই আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া যুবনেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায় দেখা যায়, ভোটাররা বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন পুরোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)। দলটি সহজেই হারিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে, যার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এনসিপি।

‘ঐতিহাসিক নির্বাচনে’ প্রত্যাশার ঘাটতি

প্রথমবার ভোট দেওয়া অনেক তরুণ-তরুণী এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করলেও তাদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী আফসানা হোসাইন হিমি বলেন, ‘জেন-জি হিসেবে এত রক্ত ঝরানো আর প্রাণহানির পর আমরা প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্ব ও ফল পাইনি। তবু আমরা আশাবাদী।’

আরও পড়ুন>>
ভোটের মাঠে কেন দাপট দেখাতে পারলো না এনসিপি?
বিপ্লবের পর প্রথম নির্বাচন: বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্ব কি কোণঠাসা?
জেন জির হাতে স্বৈরাচার পতন: নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে পুরোনো শক্তিরাই

এনসিপির ছয়জন বিজয়ী প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিনিধি সংসদে গেছেন। আশা করি তারা ভালো কিছু করবেন।’

অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমানের মতে, এনসিপি সময়মতো শক্তিশালী জনভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট আমাদের অনেকের কাছে বিশ্বাসভঙ্গের মতো লেগেছে,’ বলেন তিনি।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ দেবে।

তরুণ ভোটারদের প্রভাব

১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশে বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এখানে মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক মাসের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছে। ওই অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। পরে অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

‘আইনের শাসনই অগ্রাধিকার’

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট। দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তারেক রহমানের। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। দল, ধর্ম, জাতি বা মতভেদ নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ন্যায়বিচারই হবে আমাদের পথনির্দেশক।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে, জামায়াত–এনসিপি জোট তরুণ ভোটারদের একাংশকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। ‘অনেকে একে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং সংগঠিত ও শাসনক্ষমতার দিক থেকে প্রস্তুত বিএনপি লাভবান হয়েছে,’ বলেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থী ফারহান উল্লাহর কাছে এই নির্বাচন ছিল অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির জন্য বহুল প্রত্যাশিত একটি মুহূর্ত। ‘নির্বাচন আমাদের কাছে এক ধরনের স্বপ্ন ছিল—বাংলাদেশের জন্য নতুন সূচনা। বিএনপি সরকার গঠন করবে, এটা আমরা জানি। আশা করি, তারা আমাদের কথা শুনবে,’ বলেন তিনি।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।