০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে মরিয়া কেন বিশ্বের ধনীরা?

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে আবেদন করছে বিশ্ব মোড়ল খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নাগরিকরা। নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসন থেকে রক্ষা পেতে তারা নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের নাগরিকরাও এ ভিসা পেতে দ্বিগুণ হারে আবেদন করছে। 

নিউজিল্যান্ডে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নতুন ‘অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস’ ভিসার নিয়ম চালু হয়। এর মধ্যে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা কমানো হয়েছে, ইংরেজি ভাষার প্রমাণের শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদকের নিউজিল্যান্ডে থাকা সময় তিন বছর থেকে মাত্র তিন সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী সফল আবেদনকারীরা শুধু নিউজিল্যান্ডে ৫ মিলিয়নের বেশি মূল্যের বাড়ি কিনতে পারবেন।

ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, নতুন ভিসা স্কিমে ১ হাজার ৮৩৩ জনের ভিসা পেতে মোট ৫৭৩টি আবেদন এসেছে। এর আগে দুই বছর ছয় মাসে ১১৬টি আবেদন এসেছিল।

সরকারিভাবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন, তারপরে চীন ও হংকং থেকে এসেছে। আগস্ট ২০২৫ থেকে চীনের আবেদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আরও আছে জার্মানি, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, এবং যুক্তরাজ্য।

নিউজিল্যান্ডে দুই ধরনের গোল্ডেন ভিসা আছে। অধিকাংশ আবেদনকারীরা ‘গ্রোথ’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করেছেন যেখানে তিন বছরে ন্যূনতম ৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগের শর্ত রয়েছে।

তবে ‘ব্যালান্সড’ ক্যাটেগরিতে কম সংখ্যক আবেদনকারী রয়েছেন, যেখানে পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। আগের স্কিমে বিনিয়োগের এ শর্ত ১৫ মিলিয়ন ছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার জিম ও কোর্টনি অ্যান্ডেলম্যান দম্পতি এবং তাদের যমজ কন্যারা ১০০তম পরিবার হিসেবে ভিসা পেয়েছেন। কোর্টনি জানিয়েছেন, তিনি ৩০ বছর আগে ঝটিকা সফরে নিউজিল্যান্ডের প্রেমে পড়েছিলেন। এই ভিসা পরিবারকে দেশটিতে আরও সময় কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। এটি ব্যাবসার জন্যও বুদ্ধিমানের বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করছে।

নতুন ভিসা স্কিম থেকে নিউজিল্যান্ডে ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ এসেছে। ইমিগ্রেশন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, কর্মসংস্থান সহায়তা করতে এবং নিউজিল্যান্ডের ব্যাবসা সম্প্রসারণে এ পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে মরিয়া কেন বিশ্বের ধনীরা?

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে আবেদন করছে বিশ্ব মোড়ল খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নাগরিকরা। নিউজিল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসন থেকে রক্ষা পেতে তারা নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের নাগরিকরাও এ ভিসা পেতে দ্বিগুণ হারে আবেদন করছে। 

নিউজিল্যান্ডে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নতুন ‘অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস’ ভিসার নিয়ম চালু হয়। এর মধ্যে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা কমানো হয়েছে, ইংরেজি ভাষার প্রমাণের শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদকের নিউজিল্যান্ডে থাকা সময় তিন বছর থেকে মাত্র তিন সপ্তাহে নামিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী সফল আবেদনকারীরা শুধু নিউজিল্যান্ডে ৫ মিলিয়নের বেশি মূল্যের বাড়ি কিনতে পারবেন।

ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, নতুন ভিসা স্কিমে ১ হাজার ৮৩৩ জনের ভিসা পেতে মোট ৫৭৩টি আবেদন এসেছে। এর আগে দুই বছর ছয় মাসে ১১৬টি আবেদন এসেছিল।

সরকারিভাবে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন, তারপরে চীন ও হংকং থেকে এসেছে। আগস্ট ২০২৫ থেকে চীনের আবেদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আরও আছে জার্মানি, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, এবং যুক্তরাজ্য।

নিউজিল্যান্ডে দুই ধরনের গোল্ডেন ভিসা আছে। অধিকাংশ আবেদনকারীরা ‘গ্রোথ’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করেছেন যেখানে তিন বছরে ন্যূনতম ৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগের শর্ত রয়েছে।

তবে ‘ব্যালান্সড’ ক্যাটেগরিতে কম সংখ্যক আবেদনকারী রয়েছেন, যেখানে পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। আগের স্কিমে বিনিয়োগের এ শর্ত ১৫ মিলিয়ন ছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার জিম ও কোর্টনি অ্যান্ডেলম্যান দম্পতি এবং তাদের যমজ কন্যারা ১০০তম পরিবার হিসেবে ভিসা পেয়েছেন। কোর্টনি জানিয়েছেন, তিনি ৩০ বছর আগে ঝটিকা সফরে নিউজিল্যান্ডের প্রেমে পড়েছিলেন। এই ভিসা পরিবারকে দেশটিতে আরও সময় কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। এটি ব্যাবসার জন্যও বুদ্ধিমানের বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করছে।

নতুন ভিসা স্কিম থেকে নিউজিল্যান্ডে ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ এসেছে। ইমিগ্রেশন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, কর্মসংস্থান সহায়তা করতে এবং নিউজিল্যান্ডের ব্যাবসা সম্প্রসারণে এ পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।