গ্রিসে সব অনিবন্ধিত মসজিদ বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন মুসলিম অভিবাসীরা। রাজধানী এথেন্সসহ বড় শহরগুলোতে বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশের মুসলিম অভিবাসীরা ফ্ল্যাট, বেজমেন্ট ভাড়া কিংবা কিনে অস্থায়ী শতাধিক মসজিদ পরিচালনা করে নামাজ আদায় করে আসছেন। তবে বেশিরভাগেরই অনুমতি নেই।
এবার অনুমোদনহীন ৬০টি মসজিদ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ তালিকায় বাংলাদেশিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ২০-২৫টি মসজিদ। এরই মধ্যে একটি মসজিদ বন্ধ করে মসজিদ পরিচালনাকারী একজন বাংলাদেশি ইমামের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির সভায় জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয়ণ বিষয়কমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস।
এদিকে মসজিদ বন্ধ হওয়ায় পবিত্র রমজান মাসে গ্রিসের মুসলিম কমিউনিটি বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মসজিদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের কমিউনিটির সেক্রেটারি এইচ এম জাহিদ ইসলাম বলেন, এথেন্সের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের নিয়ে এক সভায় বর্তমান সংকট, আইনি দিক এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে অন্যান্য দেশের মুসলিম কমিউনিটি ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রিস সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য থাকবে, আসন্ন রমজান মাসে ইবাদত নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী ও আইনসম্মত সমাধানে পৌঁছানো।
কমিউনিটি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সরকার ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে, যা সবার ধর্মীয় অধিকার ও দেশের আইন, দুটাকেই সম্মান করবে।
এ বিষয়ে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করবেন।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়ণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন কঠোর আইন প্রয়োগ করে ওই বাংলাদেশির বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এটি অনুমোদনহীন উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ।
জানা গেছে, এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় ভাড়া নেওয়া একটি বেসমেন্টে ওই বাংলাদেশি নাগরিক মসজিদ হিসেবে পরিচালনা করে নিজে ইমামতি করতেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসরত মুসলিম অভিবাসীরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। জুমার দিন সেখানে বেশি লোক সমাগম হতো।
স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের পর স্থানীয় থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থানটিকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে সিলগালা করে। পরে আদালত তাকে অনুমতি ছাড়া নামাজ পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
এরপর অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস ‘ল ৫২২৪/২০২৫’-এর ২৮ নম্বর ধারা প্রয়োগের নির্দেশ দেন। ওই ধারায় এমন অভিযোগে সরাসরি রেসিডেন্স পারমিট বাতিলের বিধান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জারি করা বহিষ্কার আদেশে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সুযোগও রাখা হয়নি।
সরকার বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তাদের দাবি, এথেন্সে অনেক অনুমোদনহীন নামাজঘর বেসমেন্টে চলছে, যেগুলো অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরকারের দাবি- এথেন্সের ভোটানিকস এলাকায় চালু সরকারি মসজিদকেই মুসলিমদের জন্য অনুমোদিত স্থান। তবে সরকারি মসজিদটি বাংলাদেশসহ এশিয়ান অভিবাসীদের বসবাসের স্থান থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ৫ ওয়াক্তে নামাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই অস্থায়ী ও বুনিয়াদি মসজিদগুলোতে নামাজ আদায় করে থাকেন।
এমআরএম
এডমিন 














