১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা-হট্টগোল

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 3

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। পরে পুষ্পস্তবক নিয়ে রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা শহীদ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে উঠে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় পাল্টা স্লোগান দেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে উঠতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে পুষ্পস্তবক ভেঙে যায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের পাহারায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়।

এমপি রুমিন ফারহানার অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। সেসময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালাযন।

তিনি বলেন, ‌‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে, তাদের বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে, তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা-হট্টগোল

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। পরে পুষ্পস্তবক নিয়ে রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা শহীদ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে উঠে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় পাল্টা স্লোগান দেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে উঠতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে পুষ্পস্তবক ভেঙে যায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একপর্যায়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের পাহারায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।

এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়।

এমপি রুমিন ফারহানার অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। সেসময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালাযন।

তিনি বলেন, ‌‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে, তাদের বিষয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে দলের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে, তেমনি সরকারেরও ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।