০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কঙ্কালসার সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মহিষ-ময়লার ভাগাড়

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • 5

সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদী ঘিরে মৎস্য শিল্পের উন্নয়নে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। অযত্ন-অবহেলায় কেন্দ্রটি এখন কঙ্কালসার। অফিস রুমগুলো ময়লার ভাগাড়। রাত হলেই জমে মাদকসেবীদের আড্ডা। চরে মহিষ।

১৯৯৪ সালের ২ জুলাই স্থাপনাটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নির্মাণের পর থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও ২০০৬ সালে ছন্দপতন হয়। বিএনপি শেষবার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর থেকে অনেকটা বঞ্চনার স্বীকার হতে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ১৭ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলা, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও মামলা জটিলতায় আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয় সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।

বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে জাপানি অনুদানে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর উত্তর তীরে চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকার মনোহরখালী এলাকায় নির্মাণ করা হয় মৎস্য অবতরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও নদীকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মনোহরখালী ইউনিটের মুখ ও নদীর তীর বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয় মৎস্য অবতরণ ও বরফ বিক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রম। নদীর মুখ বন্ধ হওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটিতে ৩০ টন ক্ষমতার একটি বরফকল, একটি এইচএসিসিপি (হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্ট) মানের নিলাম শেড। মাছ বিক্রির ৪২টি আড়তঘর ও ১০০ টন ক্ষমতার একটি ফ্রিজিং স্টোর রয়েছে।

নদী বাঁধের কারণে বরফকলটি ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বরফকলটি আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ডেকে ভবনটি ভাড়ায় দিয়েছে বিএফডিসি। প্রতি বছর নবায়নযোগ্য। ভবনটির ছাদও আমি করে নিয়েছি। এখানে আমি নিজের বিনিয়োগে কোল্ডস্টোর বানিয়েছি। এটির ভাড়া হিসাবে বছরে ১২ লাখ টাকা বিএফডিসিকে দিই।-লিজ নিয়ে ব্যবসা করা মোহাম্মদ আলী

সরেজমিনে দেখা যায়, মনোহরখালীতে অবস্থিত মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের রুগণসার চেহারা। ভবনটির নিচতলায় হকার বসেছে, অস্থায়ী চায়ের টং দোকান বসেছে বেশ কয়েকটি। সামনে বাঁধা মহিষ। দ্বিতল ভবনটির ছাদের উপরিভাগের কাঠের কাঠামোগুলো নষ্ট। নেই টিনের ছাউনিও। তবে কংক্রিটের দালানটি এখনো অক্ষত। ভবনটির দোতলার আড়তঘরগুলোর দরজা-জানালাগুলোও নেই। এখানে দাপ্তরিক কাজের অবকাঠামোগত সুযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিএফডিসির পদায়িত কর্মকর্তা কর্ণফুলী দক্ষিণ পাড়ের মৎস্য বন্দরে অফিস করেন।

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা
নাকের ডগায় ৩০০ অবৈধ ইটভাটা, জরিমানায় দায় সারছে প্রশাসন
পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন, বাজিমাত কৃষি বিভাগের
ভুটানকে ট্রানজিট দিয়ে প্রথম চালানে সরকারের আয় কত?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভবনটিতে আগে অর্ধশত বেসরকারি মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অফিস থাকলেও বর্তমানে তার একটিও নেই। অফিসগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য- ভবনের ছাদের টিন, আড়তঘরগুলোর দরজা-জানালা প্রভাবশালীরা খুলে নিয়ে গেছে। ভবনটি রাতে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

মনোহরকালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি বাঁচিয়ে তোলার সব সময় পদক্ষেপ ছিল। কিছু দুষ্টু লোকের জন্য আমরা এগোতে পারছি না। কিছু জটিলতার কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। শুধু বরফকলটি চালু রয়েছে। এটি মোহাম্মদ আলী নামে একজনকে দেওয়া আছে। পুরো এলাকাটিতে ভালো কিছু করা যেত।-চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান

বিএফডিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া তাদের তথ্যের বৈপরীত্য দেখা গেছে। ‘নদীর মুখ বন্ধ হওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়’ বলে যে তথ্যটি বিএফডিসি দিয়েছে, সরেজমিনে তার সঠিকতা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু, বর্তমানে নদীকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের পরিধি আরও বেড়েছে। যেখানে সরকারি স্থাপনাটির আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অবতরণ কেন্দ্রে ফিশিং ট্রলার ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে নদীতে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

দীর্ঘদিন ধরে মনোহরখালী এলাকায় থাকেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটি হয়েছে ৩০ বছরের বেশি হলো। ১৯৯৪ সালে এটি তৈরি করা হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এখানে জমজমাট মাছের আড়ত ছিল। পাইকারি, খুচরা মাছ বিক্রি হতো। পুরো দালানটিতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল। গত কয়েকবছর ধরে এখান থেকে অফিসগুলো চলে গেছে।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাকির হোসেন নামে এক প্রভাবশালীর সঙ্গে বিএফডিসির দ্বন্দ্বের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বরফকলটি সচল থাকলেও কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং কার্যক্রমের সময়ে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বরফকলটি পরে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলীর কাছে ভাড়ায় দেওয়া হয়। এখন ওই ভবনটি মাছের হিমাগার বানিয়ে ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ আলী। তাছাড়া নামফলকে খালেদা জিয়ার নাম থাকায় বিএফডিসিও গত ১৭ বছর এটির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন ছিল।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

কথা হলে মোহাম্মদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘নদী বাঁধের কারণে বরফকলটি ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বরফকলটি আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ডেকে ভবনটি ভাড়ায় দিয়েছে বিএফডিসি। প্রতি বছর নবায়নযোগ্য। ভবনটির ছাদও আমি করে নিয়েছি। এখানে আমি নিজের বিনিয়োগে কোল্ডস্টোর বানিয়েছি। এটির ভাড়া হিসাবে বছরে ১২ লাখ টাকা বিএফডিসিকে দিই।’

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক এ এস এম নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। এটি মৎস্য বন্দরের জিএম স্যারের তত্ত্বাবধানে চলে।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মনোহরকালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি বাঁচিয়ে তোলার সব সময় পদক্ষেপ ছিল। কিছু দুষ্টু লোকের জন্য আমরা এগোতে পারছি না। কিছু জটিলতার কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। শুধু বরফকলটি চালু রয়েছে। এটি মোহাম্মদ আলী নামে একজনকে দেওয়া আছে। পুরো এলাকাটিতে ভালো কিছু করা যেত। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও এটির উন্নয়নে হাত দিতে চেয়েছিলাম। কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। বছরের পর ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপনাটি নষ্ট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ব্যবহারের জন্য নতুন করে আগ্রহী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। হয়তো একটি ইতিবাচক ফল আসতে পার।’

এমডিআইএইচ/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ

কঙ্কালসার সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মহিষ-ময়লার ভাগাড়

আপডেট সময়ঃ ০৬:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদী ঘিরে মৎস্য শিল্পের উন্নয়নে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। অযত্ন-অবহেলায় কেন্দ্রটি এখন কঙ্কালসার। অফিস রুমগুলো ময়লার ভাগাড়। রাত হলেই জমে মাদকসেবীদের আড্ডা। চরে মহিষ।

১৯৯৪ সালের ২ জুলাই স্থাপনাটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নির্মাণের পর থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও ২০০৬ সালে ছন্দপতন হয়। বিএনপি শেষবার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর থেকে অনেকটা বঞ্চনার স্বীকার হতে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ১৭ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলা, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও মামলা জটিলতায় আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয় সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।

বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে জাপানি অনুদানে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর উত্তর তীরে চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকার মনোহরখালী এলাকায় নির্মাণ করা হয় মৎস্য অবতরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও নদীকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মনোহরখালী ইউনিটের মুখ ও নদীর তীর বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয় মৎস্য অবতরণ ও বরফ বিক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রম। নদীর মুখ বন্ধ হওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটিতে ৩০ টন ক্ষমতার একটি বরফকল, একটি এইচএসিসিপি (হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্ট) মানের নিলাম শেড। মাছ বিক্রির ৪২টি আড়তঘর ও ১০০ টন ক্ষমতার একটি ফ্রিজিং স্টোর রয়েছে।

নদী বাঁধের কারণে বরফকলটি ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বরফকলটি আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ডেকে ভবনটি ভাড়ায় দিয়েছে বিএফডিসি। প্রতি বছর নবায়নযোগ্য। ভবনটির ছাদও আমি করে নিয়েছি। এখানে আমি নিজের বিনিয়োগে কোল্ডস্টোর বানিয়েছি। এটির ভাড়া হিসাবে বছরে ১২ লাখ টাকা বিএফডিসিকে দিই।-লিজ নিয়ে ব্যবসা করা মোহাম্মদ আলী

সরেজমিনে দেখা যায়, মনোহরখালীতে অবস্থিত মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের রুগণসার চেহারা। ভবনটির নিচতলায় হকার বসেছে, অস্থায়ী চায়ের টং দোকান বসেছে বেশ কয়েকটি। সামনে বাঁধা মহিষ। দ্বিতল ভবনটির ছাদের উপরিভাগের কাঠের কাঠামোগুলো নষ্ট। নেই টিনের ছাউনিও। তবে কংক্রিটের দালানটি এখনো অক্ষত। ভবনটির দোতলার আড়তঘরগুলোর দরজা-জানালাগুলোও নেই। এখানে দাপ্তরিক কাজের অবকাঠামোগত সুযোগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিএফডিসির পদায়িত কর্মকর্তা কর্ণফুলী দক্ষিণ পাড়ের মৎস্য বন্দরে অফিস করেন।

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা
নাকের ডগায় ৩০০ অবৈধ ইটভাটা, জরিমানায় দায় সারছে প্রশাসন
পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন, বাজিমাত কৃষি বিভাগের
ভুটানকে ট্রানজিট দিয়ে প্রথম চালানে সরকারের আয় কত?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভবনটিতে আগে অর্ধশত বেসরকারি মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অফিস থাকলেও বর্তমানে তার একটিও নেই। অফিসগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য- ভবনের ছাদের টিন, আড়তঘরগুলোর দরজা-জানালা প্রভাবশালীরা খুলে নিয়ে গেছে। ভবনটি রাতে মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

মনোহরকালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি বাঁচিয়ে তোলার সব সময় পদক্ষেপ ছিল। কিছু দুষ্টু লোকের জন্য আমরা এগোতে পারছি না। কিছু জটিলতার কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। শুধু বরফকলটি চালু রয়েছে। এটি মোহাম্মদ আলী নামে একজনকে দেওয়া আছে। পুরো এলাকাটিতে ভালো কিছু করা যেত।-চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান

বিএফডিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া তাদের তথ্যের বৈপরীত্য দেখা গেছে। ‘নদীর মুখ বন্ধ হওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়’ বলে যে তথ্যটি বিএফডিসি দিয়েছে, সরেজমিনে তার সঠিকতা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু, বর্তমানে নদীকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের পরিধি আরও বেড়েছে। যেখানে সরকারি স্থাপনাটির আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অবতরণ কেন্দ্রে ফিশিং ট্রলার ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে নদীতে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

দীর্ঘদিন ধরে মনোহরখালী এলাকায় থাকেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটি হয়েছে ৩০ বছরের বেশি হলো। ১৯৯৪ সালে এটি তৈরি করা হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এখানে জমজমাট মাছের আড়ত ছিল। পাইকারি, খুচরা মাছ বিক্রি হতো। পুরো দালানটিতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের অফিস ছিল। গত কয়েকবছর ধরে এখান থেকে অফিসগুলো চলে গেছে।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাকির হোসেন নামে এক প্রভাবশালীর সঙ্গে বিএফডিসির দ্বন্দ্বের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বরফকলটি সচল থাকলেও কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং কার্যক্রমের সময়ে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। বরফকলটি পরে কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলীর কাছে ভাড়ায় দেওয়া হয়। এখন ওই ভবনটি মাছের হিমাগার বানিয়ে ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ আলী। তাছাড়া নামফলকে খালেদা জিয়ার নাম থাকায় বিএফডিসিও গত ১৭ বছর এটির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন ছিল।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

কথা হলে মোহাম্মদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘নদী বাঁধের কারণে বরফকলটি ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বরফকলটি আগেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ডেকে ভবনটি ভাড়ায় দিয়েছে বিএফডিসি। প্রতি বছর নবায়নযোগ্য। ভবনটির ছাদও আমি করে নিয়েছি। এখানে আমি নিজের বিনিয়োগে কোল্ডস্টোর বানিয়েছি। এটির ভাড়া হিসাবে বছরে ১২ লাখ টাকা বিএফডিসিকে দিই।’

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক এ এস এম নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। এটি মৎস্য বন্দরের জিএম স্যারের তত্ত্বাবধানে চলে।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরের মহাব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মনোহরকালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি বাঁচিয়ে তোলার সব সময় পদক্ষেপ ছিল। কিছু দুষ্টু লোকের জন্য আমরা এগোতে পারছি না। কিছু জটিলতার কারণে আমরা কিছুই করতে পারছি না। শুধু বরফকলটি চালু রয়েছে। এটি মোহাম্মদ আলী নামে একজনকে দেওয়া আছে। পুরো এলাকাটিতে ভালো কিছু করা যেত। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরও এটির উন্নয়নে হাত দিতে চেয়েছিলাম। কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। বছরের পর ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপনাটি নষ্ট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ব্যবহারের জন্য নতুন করে আগ্রহী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। হয়তো একটি ইতিবাচক ফল আসতে পার।’

এমডিআইএইচ/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।