০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিতর্কে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বদলে যেতে পারে ২০২৩ সালের তালিকা

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • 19

ঘোষণার পরই বিতর্কে জড়িয়েছে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বিভিন্ন বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ উপেক্ষা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এবারের পুরস্কার নিয়ে চলছে সমালোচনা ও চুলছেড়া বিশ্লেষণ। ফলে পুরো প্রজ্ঞাপনই এখন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ধারণা করা হচ্ছে, বদলে যেতে পারে পুরস্কারের তালিকা। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্যসহ কয়েকটি বিভাগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই পুরস্কারের তালিকা রিভিউ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন
রবি চৌধুরীর দেওয়া পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী
তানজিন তিশার চড় খেয়ে ঝাপসা দেখছেন সামিয়া, মারধরের লিখিত অভিযোগ

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আজীবন সম্মাননা বিভাগকে ঘিরে। ঘোষিত তালিকায় ছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী আজীবন সম্মাননা শুধুমাত্র জীবিত ব্যক্তিদের দেওয়ার কথা। অথচ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই এই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য না লেখার পরও একজনকে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য মকসুদ জামিল মিন্টু গণমাধ্যমে বলেন, বিচারকরা পুরস্কারের ফলাফলে একমত ছিলেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে বিচারকদের সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হলে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী বিচারকেরা প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিল্পীকে প্রধান এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তকে বিকল্প হিসেবে সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলে তা বিচারকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জুরিবোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। বিচারকেরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চলচ্চিত্র দেখা শেষ করে ৪ মার্চ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা দেন। তবে প্রায় ১১ মাস পর ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

এখন বিতর্ক এড়াতে এবং বিচারকদের নম্বরের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে পুরো বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রিভিউ শেষে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ছাড়ার পথে ইরান

বিতর্কে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বদলে যেতে পারে ২০২৩ সালের তালিকা

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ঘোষণার পরই বিতর্কে জড়িয়েছে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বিভিন্ন বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ উপেক্ষা এবং নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এবারের পুরস্কার নিয়ে চলছে সমালোচনা ও চুলছেড়া বিশ্লেষণ। ফলে পুরো প্রজ্ঞাপনই এখন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি ঘিরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ধারণা করা হচ্ছে, বদলে যেতে পারে পুরস্কারের তালিকা। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্যসহ কয়েকটি বিভাগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জুরিবোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে মৌখিকভাবে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই পুরস্কারের তালিকা রিভিউ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন
রবি চৌধুরীর দেওয়া পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী
তানজিন তিশার চড় খেয়ে ঝাপসা দেখছেন সামিয়া, মারধরের লিখিত অভিযোগ

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আজীবন সম্মাননা বিভাগকে ঘিরে। ঘোষিত তালিকায় ছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্ত অনুযায়ী আজীবন সম্মাননা শুধুমাত্র জীবিত ব্যক্তিদের দেওয়ার কথা। অথচ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই এই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য না লেখার পরও একজনকে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কমিটির সদস্য মকসুদ জামিল মিন্টু গণমাধ্যমে বলেন, বিচারকরা পুরস্কারের ফলাফলে একমত ছিলেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে বিচারকদের সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হলে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী বিচারকেরা প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিল্পীকে প্রধান এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তকে বিকল্প হিসেবে সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলে তা বিচারকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জুরিবোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। বিচারকেরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে চলচ্চিত্র দেখা শেষ করে ৪ মার্চ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা দেন। তবে প্রায় ১১ মাস পর ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

এখন বিতর্ক এড়াতে এবং বিচারকদের নম্বরের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে পুরো বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রিভিউ শেষে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।