০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন বরিশালের ১০ আইনজীবী

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • 2

আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির ১০ সদস্য। আদালত তা গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানিতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ অন্যরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন এবং লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। বাকি নয় আইনজীবী হলেন সমিতির সেক্রেটারি মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ ও নাজিমুদ্দিন পান্না এবং আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, মো. আবদুল বারেক, মো. আবদুল মালেক, মো. সাঈদ চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু।

আইনজীবীদের পক্ষে শুনানি করেন গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও মো. আনিসুর রহমান রায়হান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার চলাকালে এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট এবং বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশালে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা এজলাসের বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র তছনছ করেন। সেই সঙ্গে ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাঙচুর ও কার্যতালিকা ছিঁড়ে ফেলেন। টেবিল ভেঙে ফেলেন, বসার টুল উপড়ে দেন এবং ধমক দিয়ে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বের করে দেন। এছাড়া, বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেন।

এফএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী

হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন বরিশালের ১০ আইনজীবী

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বরিশাল আইনজীবী সমিতির ১০ সদস্য। আদালত তা গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানিতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ অন্যরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন এবং লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। বাকি নয় আইনজীবী হলেন সমিতির সেক্রেটারি মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ ও নাজিমুদ্দিন পান্না এবং আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, মো. আবদুল বারেক, মো. আবদুল মালেক, মো. সাঈদ চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু।

আইনজীবীদের পক্ষে শুনানি করেন গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও মো. আনিসুর রহমান রায়হান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি জানান, আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার চলাকালে এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট এবং বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশালে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা এজলাসের বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র তছনছ করেন। সেই সঙ্গে ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোন ভাঙচুর ও কার্যতালিকা ছিঁড়ে ফেলেন। টেবিল ভেঙে ফেলেন, বসার টুল উপড়ে দেন এবং ধমক দিয়ে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের বের করে দেন। এছাড়া, বিচারককে জোরপূর্বক এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেন।

এফএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।