বাসাবাড়ির পানিতে অনেক সময় হঠাৎ ধাতব বা অস্বাভাবিক স্বাদ ও হালকা গন্ধ টের পাওয়া যায়। অথচ পানি সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের পেছনে দায়ী থাকে বাসার পানির ট্যাঙ্ক ও পাইপলাইন।
পানির সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সামান্য ত্রুটিও পানির স্বাদ, গন্ধ এবং মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কিন্তু কেন এমন হয়? জেনে নিন –
১. ট্যাঙ্কে ময়লা বা শ্যাওলা জমলে
পানির ট্যাঙ্ক দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে তলার দিকে ধুলাবালি, মরিচা বা শ্যাওলা জমে যেতে পারে। এসব জমা ময়লা ধীরে ধীরে পানির সঙ্গে মিশে স্বাদ ও গন্ধ বদলে দিতে পারে। অনেক সময় পানিতে হালকা কাদামাটির মতো স্বাদও অনুভূত হয়।
২. পাইপে মরিচা ধরলে
পুরোনো ধাতব পাইপে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মরিচা জমতে পারে। এতে পানিতে ধাতব বা লৌহজাত স্বাদ তৈরি হয়। কখনও কখনও পানির রংও হালকা হলুদ বা বাদামি হয়ে যেতে পারে।
৩. পাইপলাইনে জমে থাকা বালি বা ময়লা
পানি সরবরাহ লাইনে অনেক সময় সূক্ষ্ম বালিকণা জমে যায়। এগুলো ধীরে ধীরে পানির প্রবাহে মিশে গেলে পানির স্বাভাবিক স্বাদ পরিবর্তিত হতে পারে।
৪. ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলা থাকলে
যদি পানির ট্যাঙ্কের ঢাকনা সঠিকভাবে বন্ধ না থাকে, তাহলে ধুলাবালি, পোকামাকড় বা বাইরের ময়লা সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে পানির গন্ধ ও স্বাদ উভয়ই পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. দীর্ঘ সময় পানি স্থির থাকলে
ট্যাঙ্কে যদি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে এবং নিয়মিত ব্যবহার না হয়, তাহলে পানির স্বাভাবিক স্বাদ বদলে যেতে পারে। কারণ স্থির পানিতে অণুজীব জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।
কীভাবে এই সমস্যা এড়ানো যায়?
>> পানির ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করা
>> পুরোনো বা মরিচাধরা পাইপ সময়মতো পরিবর্তন করা
>> ট্যাঙ্কের ঢাকনা সবসময় বন্ধ রাখা
>> পাইপলাইনে লিকেজ আছে কি না পরীক্ষা করা
পানির স্বাদ বা গন্ধ হঠাৎ বদলে গেলে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেক সময় এটি পানির ট্যাঙ্ক বা পাইপলাইনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে এই ধরনের সমস্যাগুলো সহজেই এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা
এএমপি/এমএস
এডমিন 


















