০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেবদূতের রেসিপি

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • 5

এত
বড়
রুটি-পরোটার
লিস্ট
হজম
করাই
আমার
জন্য
কঠিন
ছিল।
তার
মধ্যে
আবার
আজওয়াইন
পরোটা
শুনে
রীতিমতো
আঁতকে
উঠলাম।
গুল্লু
যাদবের
দিকে
অসহায়ভাবে
তাকিয়ে
জিজ্ঞেস
করলাম,
আজরাইল
পরোটা
আবার
কী
বস্তু?

গুল্লু
হেসে
দিয়ে
বলল,
আজরাইল
পারাঠা
নেহি।
হজম-সহায়ক
আজওয়াইন
বীজ
থেকে
তৈরি
কিছুটা
তেতো
আজওয়াইন
পরোটা।

এরপর
শুরু
হলো
তরকারির
লিস্ট।
এবারও
ব্যাটা
যন্ত্রের
মতো
গড়গড়
করে
মুখস্থ
বলে
গেল
তরকারির
নাম—ডাল
মাখানি,
ছোলে
মসালা,
রাজমা
মসালা,
পনির
বাটার
মসালা,
কড়াই
পনির,
মটর
পনির,
আলু–গোবি,
আলু–টমাটর,
ব্যায়গনভর্তা,
ভিন্ডি
মসালা,
মিক্স
ভেজ,
পালক
পনির,
জিরা
আলু,
মালাই
কোফতা,
নওরতন
কোর্মা,
গট্টে
কি
সবজি,
তড়কা
ডাল,
আলু
মটর,
পনির
ভুরজি,
চানা
ডাল
তড়কা।

আবার
আমি
অসহায়
চোখে
গুল্লু
যাদবের
দিকে
তাকালাম।
গুল্লু
গ্র্যাজুয়েট,
যথেষ্ট
বুদ্ধিমান।
যেভাবেই
হোক,
ততক্ষণে
আমাকে
সে
মেপে
ফেলেছে।

আমাকে
বলল,
অর্ডার
আমি
দিচ্ছি,
তুমি
আমার
ওপর
‘ইয়াকিন’
রাখো।

এরপর
খুব
দ্রুত
এল
এক
গ্লাস
নামকিন
লস্যি।

গুল্লু
বলল,
এটা
খাও।
এটা
হচ্ছে
সাক্ষাৎ
অমৃত।
এটা
খেলে
তোমার
শারীরিক
ক্লান্তি
পুরোটা
কেটে
যাবে।
এখানে
টক
দইয়ের
সঙ্গে
ভাজা
জিরাগুঁড়া,
কালো
লবণ,
সামান্য
কাঁচা
মরিচ

পুদিনাপাতা
মেশানো
হয়েছে।
এই
জিনিস
তুমি
আর
কোথাও
পাবে
না।

এক
চুমুক
দিয়েই
টের
পেলাম,
আসলেই
অমৃত।

এরপর
গরম-গরম
পোড়া
পোড়া
লাল
রুটি
এল,
আর
এল
ঝাল
ঝাল
লাল
রঙের
নানা
রকম
সবজির
একটি
তরকারি।
ব্যস,
এই
দুটিই
আইটেম।
একের
পর
এক
গরম-গরম
রুটি
আসছে,
আর
আমি
গোগ্রাসে
সে
রুটি
ওই
তরকারি
দিয়ে
খাচ্ছি।
গুল্লুও
খাচ্ছে।
তবে
সে
খাচ্ছে
অনেক
ধীরে
ধীরে,
মোলায়েমভাবে
চিবিয়ে
চিবিয়ে।
আর
আমি
খাচ্ছি
গোগ্রাসে।

খাওয়া
শেষ
করে
একপর্যায়ে
আমাদের
গাড়ি
আবার
চলতে
শুরু
করল।
ততক্ষণে
পরিপূর্ণ
ক্ষুধা
নিবারণ
হয়েছে।
গভীর
পরিতৃপ্তিতে
আমার
মন

দেহ
শান্ত।
গুল্লুকে
জিজ্ঞেস
করলাম,
আমরা
আজ
যা
খেলাম,
তার
নাম
কী।
ভবিষ্যতে
আবার
যদি
খেতে
চাই,
তাহলে
কী
বলে
অর্ডার
দেব।

খুব
বিজ্ঞের
মতো
গুল্লু
আবার
জ্ঞান
দেওয়ার
সুযোগ
পেয়ে
মহা
আহ্লাদিত
মেজাজে
শুরু
করল
তার
লেকচার,
আমরা
খেয়েছি
তন্দুরি
রোটি।
তোমরা
শহরের
মানুষ।
নান
রোটি
চেনো।
তন্দুরি
রোটি
চেনো
কি
না
জানি
না।
নান
রোটি
ময়দা,
দই,
দুধ,
সোডা,
ঘি
দিয়ে
তৈরি
হয়।
তাই
এটি
তুলতুলে,
সাদা

নরম
হয়।
অন্যদিকে
তন্দুরি
রুটি
সাধারণত
গমের
লাল
আটা
দিয়ে
বানানো
হয়।
এতে
তেল
বা
ঘি
বা
দই
থাকে
না,
তাই
এটি
শুকনা

শক্ত
হয়।
আর
তরকারি
হিসেবে
খেয়েছি
আলু-গোবি-মটর-টমাটরের
তরকারি।
অর্থাৎ
আলু,
ফ্রেশ
ফুলকপি,
ফ্রেশ
মটরশুঁটি
আর
ফ্রেশ
টমেটো
মসলার
সঙ্গে
মিশিয়ে
এটি
রান্না
করা
হয়েছে।

আমি
বললাম,

রকম
মিক্সড
ভেজিটেবল
তো
আমরাও
খাই,
কিন্তু
এমন
দারুণ
স্বাদের
তো
হয়
না
কখনো
আমাদের
তরকারি।

গুল্লু
বলল,
পাঞ্জাবি
ধাবার
আলু-গোবির
মূল
স্বাদ
আসলে
গরমমসলা,
জিরা,
ধনেগুঁড়া,
আদা-রসুন
পেস্ট
এবং
হালকা
লবণের
সংমিশ্রণ
থেকে
আসে।
আর
একটা
অতিরিক্ত
জিনিস
ওরা
দেয়,
যেটা
তোমরা
দাও
না।
সেটা
হলো
হিং।

কী
জানি,
রান্নার
গুরুতাত্ত্বিক
রসায়ন
তো
আমি
বুঝি
না।
তবে
গুল্লুর
সাজেস্ট
করা
পাঞ্জাবি
ধাবার
আলু-গোবি-মটর-টমাটরের
তরকারি
আর
গরম-গরম
তন্দুরি
রোটির
স্বাদ
আমি
জীবনেও
ভুলব
না।
এত
সামান্য
খাবার
যে
এত
অদ্ভুত
রকমের
টেস্টি
হতে
পারে,
আমি
জীবনেও
ভাবতে
পারিনি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

দেবদূতের রেসিপি

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

এত
বড়
রুটি-পরোটার
লিস্ট
হজম
করাই
আমার
জন্য
কঠিন
ছিল।
তার
মধ্যে
আবার
আজওয়াইন
পরোটা
শুনে
রীতিমতো
আঁতকে
উঠলাম।
গুল্লু
যাদবের
দিকে
অসহায়ভাবে
তাকিয়ে
জিজ্ঞেস
করলাম,
আজরাইল
পরোটা
আবার
কী
বস্তু?

গুল্লু
হেসে
দিয়ে
বলল,
আজরাইল
পারাঠা
নেহি।
হজম-সহায়ক
আজওয়াইন
বীজ
থেকে
তৈরি
কিছুটা
তেতো
আজওয়াইন
পরোটা।

এরপর
শুরু
হলো
তরকারির
লিস্ট।
এবারও
ব্যাটা
যন্ত্রের
মতো
গড়গড়
করে
মুখস্থ
বলে
গেল
তরকারির
নাম—ডাল
মাখানি,
ছোলে
মসালা,
রাজমা
মসালা,
পনির
বাটার
মসালা,
কড়াই
পনির,
মটর
পনির,
আলু–গোবি,
আলু–টমাটর,
ব্যায়গনভর্তা,
ভিন্ডি
মসালা,
মিক্স
ভেজ,
পালক
পনির,
জিরা
আলু,
মালাই
কোফতা,
নওরতন
কোর্মা,
গট্টে
কি
সবজি,
তড়কা
ডাল,
আলু
মটর,
পনির
ভুরজি,
চানা
ডাল
তড়কা।

আবার
আমি
অসহায়
চোখে
গুল্লু
যাদবের
দিকে
তাকালাম।
গুল্লু
গ্র্যাজুয়েট,
যথেষ্ট
বুদ্ধিমান।
যেভাবেই
হোক,
ততক্ষণে
আমাকে
সে
মেপে
ফেলেছে।

আমাকে
বলল,
অর্ডার
আমি
দিচ্ছি,
তুমি
আমার
ওপর
‘ইয়াকিন’
রাখো।

এরপর
খুব
দ্রুত
এল
এক
গ্লাস
নামকিন
লস্যি।

গুল্লু
বলল,
এটা
খাও।
এটা
হচ্ছে
সাক্ষাৎ
অমৃত।
এটা
খেলে
তোমার
শারীরিক
ক্লান্তি
পুরোটা
কেটে
যাবে।
এখানে
টক
দইয়ের
সঙ্গে
ভাজা
জিরাগুঁড়া,
কালো
লবণ,
সামান্য
কাঁচা
মরিচ

পুদিনাপাতা
মেশানো
হয়েছে।
এই
জিনিস
তুমি
আর
কোথাও
পাবে
না।

এক
চুমুক
দিয়েই
টের
পেলাম,
আসলেই
অমৃত।

এরপর
গরম-গরম
পোড়া
পোড়া
লাল
রুটি
এল,
আর
এল
ঝাল
ঝাল
লাল
রঙের
নানা
রকম
সবজির
একটি
তরকারি।
ব্যস,
এই
দুটিই
আইটেম।
একের
পর
এক
গরম-গরম
রুটি
আসছে,
আর
আমি
গোগ্রাসে
সে
রুটি
ওই
তরকারি
দিয়ে
খাচ্ছি।
গুল্লুও
খাচ্ছে।
তবে
সে
খাচ্ছে
অনেক
ধীরে
ধীরে,
মোলায়েমভাবে
চিবিয়ে
চিবিয়ে।
আর
আমি
খাচ্ছি
গোগ্রাসে।

খাওয়া
শেষ
করে
একপর্যায়ে
আমাদের
গাড়ি
আবার
চলতে
শুরু
করল।
ততক্ষণে
পরিপূর্ণ
ক্ষুধা
নিবারণ
হয়েছে।
গভীর
পরিতৃপ্তিতে
আমার
মন

দেহ
শান্ত।
গুল্লুকে
জিজ্ঞেস
করলাম,
আমরা
আজ
যা
খেলাম,
তার
নাম
কী।
ভবিষ্যতে
আবার
যদি
খেতে
চাই,
তাহলে
কী
বলে
অর্ডার
দেব।

খুব
বিজ্ঞের
মতো
গুল্লু
আবার
জ্ঞান
দেওয়ার
সুযোগ
পেয়ে
মহা
আহ্লাদিত
মেজাজে
শুরু
করল
তার
লেকচার,
আমরা
খেয়েছি
তন্দুরি
রোটি।
তোমরা
শহরের
মানুষ।
নান
রোটি
চেনো।
তন্দুরি
রোটি
চেনো
কি
না
জানি
না।
নান
রোটি
ময়দা,
দই,
দুধ,
সোডা,
ঘি
দিয়ে
তৈরি
হয়।
তাই
এটি
তুলতুলে,
সাদা

নরম
হয়।
অন্যদিকে
তন্দুরি
রুটি
সাধারণত
গমের
লাল
আটা
দিয়ে
বানানো
হয়।
এতে
তেল
বা
ঘি
বা
দই
থাকে
না,
তাই
এটি
শুকনা

শক্ত
হয়।
আর
তরকারি
হিসেবে
খেয়েছি
আলু-গোবি-মটর-টমাটরের
তরকারি।
অর্থাৎ
আলু,
ফ্রেশ
ফুলকপি,
ফ্রেশ
মটরশুঁটি
আর
ফ্রেশ
টমেটো
মসলার
সঙ্গে
মিশিয়ে
এটি
রান্না
করা
হয়েছে।

আমি
বললাম,

রকম
মিক্সড
ভেজিটেবল
তো
আমরাও
খাই,
কিন্তু
এমন
দারুণ
স্বাদের
তো
হয়
না
কখনো
আমাদের
তরকারি।

গুল্লু
বলল,
পাঞ্জাবি
ধাবার
আলু-গোবির
মূল
স্বাদ
আসলে
গরমমসলা,
জিরা,
ধনেগুঁড়া,
আদা-রসুন
পেস্ট
এবং
হালকা
লবণের
সংমিশ্রণ
থেকে
আসে।
আর
একটা
অতিরিক্ত
জিনিস
ওরা
দেয়,
যেটা
তোমরা
দাও
না।
সেটা
হলো
হিং।

কী
জানি,
রান্নার
গুরুতাত্ত্বিক
রসায়ন
তো
আমি
বুঝি
না।
তবে
গুল্লুর
সাজেস্ট
করা
পাঞ্জাবি
ধাবার
আলু-গোবি-মটর-টমাটরের
তরকারি
আর
গরম-গরম
তন্দুরি
রোটির
স্বাদ
আমি
জীবনেও
ভুলব
না।
এত
সামান্য
খাবার
যে
এত
অদ্ভুত
রকমের
টেস্টি
হতে
পারে,
আমি
জীবনেও
ভাবতে
পারিনি।