০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • 5

ঈদের দ্বিতীয় দিনে কুয়াকাটা পরিণত হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলায়। রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে নিজের স্বরূপে ফিরছে পর্যটন কেন্দ্রটি।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সমুদ্র সৈকত।

ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের ছুটিকে কাজে লাগাতে সকাল থেকে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের প্রতিটি অংশে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে যা এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটার প্রায় সব পর্যটন স্পটে এখন উপচেপড়া ভিড়। শুঁটকিপল্লি, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লি, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেবুর বন এবং সৈকতের ঝাউবাগানসহ সব জায়গাতে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সমুদ্রের বিশালতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে আগত পর্যটকদের কেউ নোনা জলে গোসল করছেন, কেউ স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত ছবি তোলায়। আবার কেউ রঙিন ছাতার নিচে বসে ঢেউয়ের শব্দে ডুবে যাচ্ছেন প্রকৃতির শান্ত আবেশে। অনেককে দেখা গেছে ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতজুড়ে ঘুরে বেড়াতে।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুমন চন্দ্র বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সত্যি দারুণ অভিজ্ঞতা। তুলনামূলক কম লোক ছিল, কিন্তু সকালে এসে দেখি পুরো সৈকত মানুষে ভরে গেছে। এত মানুষের উপস্থিতি পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

ঢাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা ডা. নাবিল ইসলাম বলেন, আমরা কুয়াকাটার মানুষ, তবে কাজের কারণে ঢাকায় থাকতে হয়। ঈদের সময় বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে সৈকতে সময় কাটানো আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। নামাজ শেষে এখানে এসে গোসল, ছবি তোলাসহ সব মিলিয়ে খুব ভালো সময় কাটছে।

সৈকতের ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. রাসেল রুম্মান বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় বিক্রিও অনেক কম ছিল। কিন্তু ঈদের দিন থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে, ফলে আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে। পর্যটক যত বাড়বে, আমাদের আয়ও তত বাড়বে। এখন সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

দীর্ঘ একমাস রমজানে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কিছুটা মন্দা সময় পার করলেও ঈদকে কেন্দ্র করে আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে পুরো খাত।

হোটেল ডিমোরর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল জানান, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম আগে বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি। পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

আপডেট সময়ঃ ১২:০৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদের দ্বিতীয় দিনে কুয়াকাটা পরিণত হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলায়। রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে নিজের স্বরূপে ফিরছে পর্যটন কেন্দ্রটি।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সমুদ্র সৈকত।

ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের ছুটিকে কাজে লাগাতে সকাল থেকে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের প্রতিটি অংশে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে যা এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুয়াকাটার প্রায় সব পর্যটন স্পটে এখন উপচেপড়া ভিড়। শুঁটকিপল্লি, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লি, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেবুর বন এবং সৈকতের ঝাউবাগানসহ সব জায়গাতে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সমুদ্রের বিশালতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে আগত পর্যটকদের কেউ নোনা জলে গোসল করছেন, কেউ স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত ছবি তোলায়। আবার কেউ রঙিন ছাতার নিচে বসে ঢেউয়ের শব্দে ডুবে যাচ্ছেন প্রকৃতির শান্ত আবেশে। অনেককে দেখা গেছে ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতজুড়ে ঘুরে বেড়াতে।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুমন চন্দ্র বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সত্যি দারুণ অভিজ্ঞতা। তুলনামূলক কম লোক ছিল, কিন্তু সকালে এসে দেখি পুরো সৈকত মানুষে ভরে গেছে। এত মানুষের উপস্থিতি পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

ঢাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দা ডা. নাবিল ইসলাম বলেন, আমরা কুয়াকাটার মানুষ, তবে কাজের কারণে ঢাকায় থাকতে হয়। ঈদের সময় বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে সৈকতে সময় কাটানো আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। নামাজ শেষে এখানে এসে গোসল, ছবি তোলাসহ সব মিলিয়ে খুব ভালো সময় কাটছে।

সৈকতের ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. রাসেল রুম্মান বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় বিক্রিও অনেক কম ছিল। কিন্তু ঈদের দিন থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে, ফলে আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে। পর্যটক যত বাড়বে, আমাদের আয়ও তত বাড়বে। এখন সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

দীর্ঘ একমাস রমজানে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কিছুটা মন্দা সময় পার করলেও ঈদকে কেন্দ্র করে আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে পুরো খাত।

হোটেল ডিমোরর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল জানান, ঈদ উপলক্ষে আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ রুম আগে বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছি। পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আয়-রোজগারও বাড়ছে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।