০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমারখালী থেকে উঠা আটজনের পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ ৩

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 2

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসে আট যাত্রীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। আট জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা হলেন, গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) ও তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭), আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩) গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাই। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

বাকিরা হলেন, মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) ও তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান ( ৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ দুটি পরিবারের মধ্যে আয়েশা, আরশান ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জানতে চাইলে মোবাইলে নুরুজ্জামান বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া আসা করি। ছুটিতে এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যায়। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই বসা ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।

ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনও পাইনি।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। এরপর খোকসা থেকে সাতজন, মাছপাড়ার চারজন, পাংশার ১৫জন, চালক, হেলপার ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে নেমে গেছে। যাত্রীদের কারো পরিচয় জানা নেই।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পদ্মার ৯০ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আল-মামুন সাগর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

কুমারখালী থেকে উঠা আটজনের পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ ৩

আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসে আট যাত্রীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ ৮ যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি খোকসা ও শৈলকূপা উপজেলায়। আট জনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা হলেন, গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) ও তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭), আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩) গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাই। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

বাকিরা হলেন, মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) ও তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান ( ৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ দুটি পরিবারের মধ্যে আয়েশা, আরশান ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জানতে চাইলে মোবাইলে নুরুজ্জামান বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া আসা করি। ছুটিতে এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যায়। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই বসা ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।

ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনও পাইনি।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। এরপর খোকসা থেকে সাতজন, মাছপাড়ার চারজন, পাংশার ১৫জন, চালক, হেলপার ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে নেমে গেছে। যাত্রীদের কারো পরিচয় জানা নেই।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পদ্মার ৯০ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আল-মামুন সাগর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।