০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলএনজি সংকটে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, এই জ্বালানি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

  • এডমিন
  • আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • 2

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে, ফলে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এলএনজি কী

এলএনজি হলো প্রাকৃতিক গ্যাসকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় -১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ঠান্ডা করে তরলে রূপান্তর করা জ্বালানি। এতে গ্যাসের আয়তন প্রায় ৬০০ গুণ কমে যায়, ফলে এটি সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহন করা সম্ভব হয়। এই তরল গ্যাস পরে গন্তব্যস্থলে গিয়ে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়।

এলএনজি বিশ্বজুড়ে বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হয়—ঘরোয়া রান্না ও গরমের কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্প খাতে, বিশেষ করে সার ও রাসায়নিক উৎপাদনে ও জাহাজ ও ভারী যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে।

বিশেষ করে সার উৎপাদনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

সংকটের প্রভাব

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি পরিবহন হয়। এই পথ অচল হয়ে পড়ায় বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে—জ্বালানির দাম আরও বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে, শিল্প ও কৃষি খাতেও চাপ বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় খবর

এলএনজি সংকটে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, এই জ্বালানি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট সময়ঃ ১২:০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসে, ফলে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এলএনজি কী

এলএনজি হলো প্রাকৃতিক গ্যাসকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (প্রায় -১৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ঠান্ডা করে তরলে রূপান্তর করা জ্বালানি। এতে গ্যাসের আয়তন প্রায় ৬০০ গুণ কমে যায়, ফলে এটি সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহন করা সম্ভব হয়। এই তরল গ্যাস পরে গন্তব্যস্থলে গিয়ে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়।

এলএনজি বিশ্বজুড়ে বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হয়—ঘরোয়া রান্না ও গরমের কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্প খাতে, বিশেষ করে সার ও রাসায়নিক উৎপাদনে ও জাহাজ ও ভারী যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে।

বিশেষ করে সার উৎপাদনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।

সংকটের প্রভাব

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি পরিবহন হয়। এই পথ অচল হয়ে পড়ায় বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে—জ্বালানির দাম আরও বাড়বে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে, শিল্প ও কৃষি খাতেও চাপ বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।